২০২৬ বিশ্বকাপে কি ইরান অংশ নিতে পারবে?

তিনি সরাসরি নাম প্রত্যাহার না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছেন।

আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে ফুটবল এখন গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে ইরানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং এর বিপরীতে ইরানের পাল্টা আক্রমণের ফলে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে ফুটবল এখন গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে ইরানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের সবকটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে খেলার কথা ছিল। ২১ জুন বেলজিয়ামের সঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং ২৬ জুন মিসরের বিপক্ষে সিয়াটলে রয়েছে ইরানের দুটি ম্যাচ। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ায় টুর্নামেন্টের লজিস্টিকস এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে।

ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের দিকে আশাবাদী হয়ে তাকিয়ে থাকা অসম্ভব। তিনি সরাসরি নাম প্রত্যাহার না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছেন।

অন্যদিকে, ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় আসেনি। টুর্নামেন্ট শুরু হতে তিন মাসেরও কম সময় বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত আয়োজক দেশগুলোর পক্ষ থেকে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি।

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরেকটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। গত জুনে ইরানসহ ১২টি দেশের ওপর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান থেকে আসা সমর্থকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত ইরান বিশ্বকাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় বা নিষিদ্ধ হয়, তবে এশিয়ার দেশ হিসেবে তাদের জায়গায় সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরাকের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরান বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে ২০তম এবং এশিয়ায় ২য়। দেশটি এখন পর্যন্ত সাতবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। শেষ তিনটি আসরে ধারাবাহিকভাবে খেলেছে, কিন্তু গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করতে পারেনি।

আরও