নারী কাবাডি বিশ্বকাপে টানা দুই জয়ের পর তৃতীয় ম্যাচে এসে হারল বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে উগান্ডাকে ৪২-২২ পয়েন্টে হারিয়ে শুভসূচনার পর দ্বিতীয় ম্যাচে অভিষিক্ত জার্মানিকে ৫৭-২৭ পয়েন্টে উড়িয়ে দেয় লাল-সবুজরা। আজ কাবাডির পরাশক্তি ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের কাছে ৪৩-১৮ পয়েন্টে হেরেছে স্বাগতিকরা।
মিরপুর সোহরাওয়ার্দী স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যায় ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নারী বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি স্বাগতিকরা। শারীরিক গড়ন, টেকনিক ও ট্যাকটিকস—সব কিছুতেই এগিয়ে ছিল ভারত।
দাপট দেখানো ভারত একের পর এক রেইড করে পয়েন্ট আদায় করে নেয়। ৬ মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশকে অলআউট করে ভারত, স্কোর তখন ১২-৫। প্রথমার্ধে ২৯-৮ পয়েন্টে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। বিরতির পরও ভারতের আধিপত্য অব্যাহত ছিল। ম্যাচে বাংলাদেশকে তৃতীয়বারের মতো অলআউট করে ৪২-১৫ পয়েন্টে লিড নেয় ভারত। শেষ পর্যন্ত বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা অনায়াসে ৪৩-১৮ পয়েন্টে বাংলাদেশকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয়।
এর আগে আজ বিকালে চলতি আসরে টানা তৃতীয় জয় তুলে নেয় প্রথম আসরের রানার্সআপ ইরান। আফ্রিকার দ্বীপ তাঞ্জানিয়ার অধিভুক্ত জাঞ্জিবারকে ৫১-১৫ পয়েন্টে হারায় নারী কাবাডির এ পরাশক্তি। পোল্যান্ড ও কেনিয়ার বিপক্ষে আগের দুই ম্যাচেও আধিপত্য নিয়ে জিতেছে ইরান।
বিশ্বকাপের বর্তমান রানার্সআপরা জাঞ্জিবারকে শুরু থেকেই কোণঠাসা করে ফেলে। ১১তম মিনিটে প্রতিপক্ষকে যখন প্রথমবার অলআউট করে তারা, তখন ইরানের ২০ পয়েন্ট, জাঞ্জিবারের মাত্র ১। ইরান প্রথমার্ধ শেষ করে ২৮-৩ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর পর আবার অলআউট হয় জাঞ্জিবার। ওই সময় ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল ৩৫-৮। ম্যাচে মোট তিনবার অলআউট হয়েছে আফ্রিকান প্রতিনিধিরা, খেলার ৩ মিনিট বাকি থাকতে তৃতীয়বার অলআউট হয় তারা। ইরান তখন এগিয়ে ছিল ৪৫-১৩ ব্যবধানে। শেষ পর্যন্ত ৫১-১৫ তে ম্যাচ শেষ করে তারা।
ম্যাচের পর ইরান অধিনায়ক আসমা ফাকরি বলেন, ‘টানা তৃতীয় জয় পেয়ে আমরা খুবই খুশি। বাংলাদেশে এই বিশ্বকাপ খেলতে আসতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমাদের দল অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের মিশেলে গড়া, আমাদের কোচ এভাবেই দলটাকে গড়েছেন।’
বিশ্বকাপের আয়োজন সম্পর্কে ইরান অধিনায়ক বলেন, ‘বাংলাদেশ খুবই ভালো আয়োজন করেছে। এখানকার আয়োজন দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি। এখানকার মানুষ খুব ভালো, আন্তরিক এবং তাদের সঙ্গে মিশতে পেরে আমরাও খুশি। বাংলাদেশের খাবারে মরিচ (ঝাল) একটু বেশি, ইরানের মানুষ এটা খেতে অভ্যস্ত নয়, তবে আমাদের ভালো লেগেছে। আমাদের জন্য এই খাবার একটি সুন্দর অভিজ্ঞতা।’