জাপানের আইচি-নাগোয়ায় ২০তম এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আজ। মহাদেশীয় এ ক্রীড়াযজ্ঞের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নাগোয়ার পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামে জাপানের সময় সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা) শুরু হবে, যা স্থায়ী হবে প্রায় ২ ঘণ্টা। ‘হারমোনিক হার্ট বিট’ থিম নিয়ে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর প্রখ্যাত জাপানি চলচ্চিত্র নির্মাতা ইউকিহিকো সুতুমি।
টোকিও ও ওসাকার পর নাগোয়া হলো জাপানের তৃতীয় বৃহত্তম মহানগরী। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে মধ্য জাপানে অবস্থিত এটি একটি শিল্পপ্রধান শহর, যার মহানগর এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ৯৫ লাখ। আইচি প্রিফেকচার ও নাগোয়া মহানগর আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এশিয়াডের আলোয় আলোকোজ্জ্বল থাকবে।
এরই মধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট ও বাস্কেটবলের মতো কিছু ইভেন্টের খেলা ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে গেছে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর এশিয়ান গেমস চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত।
এবারের এশিয়াডে বাংলাদেশ থেকে অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা মিলে ২৬০ সদস্যের একটি দল অংশ নিচ্ছে। এরই মধ্যে পুরো কন্টিনজেন্ট জাপানে পৌঁছে গেছে। আজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্চপাস্টে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বহন করবেন তারকা শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকি ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা।
জাপানের শিল্প ও নৌ-পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নাগোয়া গেমস আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত কি? ২০০২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ও ২০২০ সালের অলিম্পিক গেমসসহ বড় বড় ক্রীড়া আসর আয়োজনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশ জাপান এবারের এশিয়াডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই পড়েছে সমালোচনার মুখে। বিশেষ করে আবাসন, পরিবহন ও নানা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন আয়োজকরা।
আয়োজকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে আবাসন। প্রায় ১৭ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার জন্য ঐতিহ্যবাহী অ্যাথলেটস ভিলেজ তৈরি না করে হোটেল, অস্থায়ী কক্ষ ও ক্রুজশিপে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খরচ নিয়ন্ত্রণ ও গেমস শেষে অব্যবহৃত স্থাপনা এড়ানোর যুক্তিতে এ সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ)। কিন্তু কক্ষের সংকীর্ণতা, ছোট বিছানা ও আবাসন নিয়ে বিভিন্ন দলের অভিযোগে বিতর্ক থামেনি।
এবারের গেমস এশিয়াডের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ। ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের ১১ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন ৪৩টি খেলায়, ৪৬৯টি পদক ইভেন্টে। এর আগে ১৯৫৮ সালে টোকিও ও ১৯৯৪ সালে হিরোশিমায় বসেছিল এশিয়ান গেমস আসর। এবার টোকিওতে সাঁতার এবং ওসাকায় ফুটবলসহ কয়েকটি ইভেন্ট থাকছে। প্যাডেল, সার্ফিং, ভার্চুয়াল তায়কোয়ান্দো, টেকবল ও মিক্সড মার্শাল আর্টসের মতো নতুন ডিসিপ্লিন এবারের আসরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করছে। ই-স্পোর্টসও রয়েছে এবারের গেমসে।
এশিয়ান গেমস হচ্ছে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের পর দ্বিতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বহু-ক্রীড়াভিত্তিক (মাল্টি-স্পোর্টস) ইভেন্ট। ১৯৫১ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে এ গেমসের প্রথম আসর বসেছিল এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে চীনের হাংঝুতে এশিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। করোনা (কভিড-১৯) মহামারীর কারণে সেবারের আসরটি এক বছর পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। এর আগের আসরটি ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এবার নিয়ে জাপান তৃতীয়বারের মতো এ গেমসের আয়োজক দেশ হতে যাচ্ছে।
কোস্টা সেরেনা নামের একটি ইতালীয় ক্রুজ শিপ (বিলাসবহুল জাহাজ) ভাসমান অ্যাথলেট ভিলেজ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ৫ হাজার পর্যন্ত অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া অ্যাথলেটদের বিভিন্ন হোটেল ও রূপান্তরিত কনটেইনারেও রাখা হবে। ২০২১ সালে এক বছর বিলম্বে অনুষ্ঠিত টোকিও অলিম্পিকে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে জাপান। এবার খরচ বাঁচাতে আয়োজকরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অ্যাথলেট ভিলেজ তৈরি করেনি।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করে এপিকে বলেন, ‘খেলা পুরোদমে শুরু হলে কয়েক দিনের মধ্যেই এগুলো “সমাধান” হয়ে যাবে। এত বড় একটি আয়োজন এবং বড় ইভেন্টে আপনি এর জন্য কাউকেই দোষ দিতে পারেন না।’
২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে প্রায় ১০ হাজার ৭০০ অ্যাথলেট অংশ নিয়েছিলেন। আর এবারের এশিয়ান গেমসে ১১ হাজারেরও বেশি অ্যাথলেট অংশ নেবেন। মর্যাদার দিক থেকে এশিয়ান গেমস গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের সমকক্ষ না হলেও অংশগ্রহণের দিক থেকে এটি আকারে বড়। আয়োজকরা অবশ্য ঠিক কতজন অ্যাথলেট নিবন্ধন করেছেন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। তারা বলছেন, প্রায় ১৭ হাজার অফিশিয়াল এবং ১১ হাজার জনেরও বেশি অ্যাথলেট নিবন্ধিত হয়েছেন।