এশিয়া কাপ

পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মেলায়নি ভারত, ম্যাচ শেষে নতুন বিতর্ক

ভারতীয় দলটি কেবল নিজেদের মধ্যে হাত মিলিয়েই ড্রেসিংরুমে ঢুকে যায়।

‘আমরা পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার সকল ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারের পাশে আছি। আমরা আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি এই জয় উৎসর্গ করছি, যারা অপারেশন সিঁদুরে অংশ নিয়েছিল।’

গতকাল ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি কেবল আরেকটি ক্রিকেট ম্যাচ ছিল না, ছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন। এশিয়া কাপ ২০২৫-এর এই ম্যাচে ভারতের জয় যতটা আলোচিত হয়েছে, তার চেয়েও বেশি আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে ম্যাচ শেষে দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে হ্যান্ডশেক না করার ঘটনা। ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব জানিয়েছেন, এটি ছিল তাদের প্রতিবাদের অংশ।

রোববারের গ্রুপ 'এ'-এর ম্যাচটি নিয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘ আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে। ক্রিকেট ভক্ত এবং বিশেষজ্ঞরা আশা করেছিলেন, মাঠের খেলা হয়তো মাঠের বাইরের রাজনৈতিক উত্তাপ কমাতে সাহায্য করবে। কিন্তু সূর্যকুমার যাদব সেই আশা ভেঙে দেন। তিনি জানান, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ৭ উইকেটের দুর্দান্ত জয়টি পাকিস্তানের প্রতি তাদের ‘যথাযথ জবাব’। গত মে মাসে দুই দেশের মধ্যে চার দিনের তীব্র সীমান্ত সংঘাতের পর ম্যাচ শেষে হাত না মিলিয়ে কঠিন এক বার্তা দিল ভারত।

ম্যাচের পর এক সংবাদ সম্মেলনে যাদব বলেন, ‘আমাদের সরকার এবং বিসিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড) এই ম্যাচটি খেলার সিদ্ধান্তে একমত ছিল। আমরা এখানে শুধুমাত্র ম্যাচ খেলতে এসেছি এবং তাদের (পাকিস্তান) একটি নিখুঁত জবাব দিয়েছি।’

ম্যাচ শেষে জয়সূচক রান নিয়ে সূর্যকুমার যাদব এবং তার ব্যাটিং সঙ্গী শিভাম দুবে মাঠ ছাড়েন। প্রথাগতভাবে পাকিস্তান অধিনায়ক এবং দলের দিকে হ্যান্ডশেকের জন্য এগিয়ে যাননি। পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা একজোট হয়ে ভারতীয় স্কোয়াড এবং সাপোর্ট স্টাফদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এটা মূলত ক্রিকেট ম্যাচ শেষে একটি সাধারণ প্রথা। কিন্তু ভারতীয় দলটি কেবল নিজেদের মধ্যে হাত মিলিয়েই ড্রেসিংরুমে ঢুকে যায়।

ভারতীয় অধিনায়ককে যখন তার দলের এই আচরণের কারণ এবং এটি খেলার চেতনার পরিপন্থী কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি দ্রুত উত্তর দেন, জীবনের কিছু জিনিস খেলাধুলার চেতনার ঊর্ধ্বে। ৩৫ বছর বয়সী সূর্যকুমার তার দলের এ জয় পেহেলগামের হামলার শিকার এবং তাদের পরিবারের প্রতি উৎসর্গ করে বলেন, ‘আমরা পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার সকল ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারের পাশে আছি। আমরা আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি এই জয় উৎসর্গ করছি, যারা অপারেশন সিঁদুরে অংশ নিয়েছিল।’

ম্যাচটির শুরু থেকেই ছিল রাজনৈতিক উত্তেজনা। ম্যাচের আগে টসের সময় দুই অধিনায়ক প্রথাগত হ্যান্ডশেক না করলে এ ইস্যুটি আবার সামনে চলে আসে। আল জাজিরার সূত্র থেকে জানা যায়, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট সূর্যকুমার এবং তার প্রতিপক্ষকে টসের আগের প্রথা এড়িয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু ব্যাপারটি পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আঘাকে জানানো হয়নি।

এর ফলস্বরূপ তৈরি হয় এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা সূর্যকুমারের পিছু পিছু মাঠের বাইরে এসে ভারতীয়দের বেরিয়ে আসার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু দেখেন, ড্রেসিংরুমের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা।

পাকিস্তানের ম্যানেজার নাভিদ আকরাম চিমা ম্যাচ রেফারি পাইক্রফটের কাছে ভারতীয় দলের আচরণের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদপত্র জমা দেন। এছাড়াও, প্রতিবাদ হিসেবে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আঘা ম্যাচ শেষে হোস্ট ব্রডকাস্টারের সাথে অধিনায়কের চ্যাট সেশনে কথা বলেননি। পাকিস্তানের প্রধান কোচ মাইক হেসন নিশ্চিত করেন যে, আঘার এই আচরণ ভারতীয় দলের কর্মকাণ্ডের একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এসেছে।

আরও