ফরোয়ার্ড লাইনে আছে বিখ্যাত কিছু নাম। মিডফিল্ডারদেরও আছে গোল করার দক্ষতা। তবু চ্যাম্পিয়নস লিগে মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার জয়ের নায়ক রাইটব্যাক জুলস কুন্দে। আইনট্রাখট ফ্রাংকফুর্টের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও, কুন্দের জোড়া গোল এবং বদলি নেমে মার্কাস রাশফোর্ডের দারুণ প্রভাবে ২-১ গোলে জয় তুলে নিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল।
ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি ফ্রাংকফুর্টের। প্রথমার্ধের মাঝপথে ন্যাথানিয়েল ব্রাউনের চমৎকার লফটেড পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে যান আনসগার কানাউফ। আলেহান্দ্রো বালদের চাপ সামলে গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করে অতিথিদের এগিয়ে দেন তিনি। এ মৌসুমে প্রথমে গোল হজম করার বার্সার প্রবণতা তখন আরেকবার সামনে আসে।
গোল হজমের পর বলের নিয়ন্ত্রণ পেলেও গোলের সুযোগ তৈরি করতে হিমশিম খায় বার্সেলোনা। রবার্ট লেভানদোভস্কি, রাফিনিয়া বা লামিনে ইয়ামালরা গোলের পরিষ্কার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছি না। এর মাঝেই অফসাইডের খাড়ায় পড়ে বাতিল হয় রাফিনিয়ার ক্রসে লেভার গোল। এর বাইরে এ দুজনকে মাঠে খুব একটা চেনাই যায়নি। ফলে বিরতির পর পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন কোচ ফ্লিক। অকার্যকর ফেরমিন লোপেজকে তুলে এনে ইংলিশ ফরোয়ার্ড মার্কাস রাশফোর্ডকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের গতি।
নেমেই পেদ্রির পাস ধরে দুর্দান্ত দৌড়ে বাম দিক দিয়ে এগিয়ে যান রাশফোর্ড। নিজে শট না নিয়ে তিনি বল কাটব্যাক করেন রাফিনিয়ার উদ্দেশে, যদিও ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের শট উড়ে যায় উঁচুতে। তবে অপেক্ষা আর বেশি দীর্ঘ হয়নি। কয়েক মিনিট পর রাশফোর্ডের বাঁ দিক থেকে তোলা দারুণ ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন কুন্দে, বার্সাকে এনে দেন সমতা।
এর তিন মিনিট পরই আবারো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সেই কুন্দে। এবার লামিনে ইয়ামালের ডিপ ক্রস বক্সে ভেসে এলে নিখুঁত হেডে ফ্রাংকফুর্টের জালে বল পৌঁছে দেন ফরাসি ডিফেন্ডার—বার্সাকে এনে দেন ২-১ ব্যবধানে লিড। পরপর দুই গোলের ধাক্কায় ফিকে হয়ে যায় জার্মান ক্লাবটির আত্মবিশ্বাস; নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বার্সেলোনা এবং ম্যাচের বাকি সময়টায় আধিপত্য ধরে রাখে।
এই জয়ে লিগ পর্ব থেকে সরাসরি পরের রাউন্ডে যাওয়ার ব্যাপারে বার্সেলোনার সম্ভাবনা টিকে থাকল। কুন্দের দুর্দান্ত জোড়া গোল এবং রাশফোর্ডের তাৎক্ষণিক প্রভাবই হয়ে রইল ব্লগ্রানাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মূল গল্প।