এশিয়ান বিচ গেমস কাবাডি

সেমিতে হারলেও ব্রোঞ্জ নিয়ে ফিরছে বাংলাদেশের মেয়েরা

টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজরা। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৪ বছর পর এই আসর থেকে পদক পুনরুদ্ধার করল বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০১২ সালের পর এশিয়ান বিচ গেমসের কাবাডিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম পদক জয়।

এশিয়ান বিচ গেমসের নারী কাবাডির সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারলেও বড় এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজরা। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৪ বছর পর এই আসর থেকে পদক পুনরুদ্ধার করল বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০১২ সালের পর এশিয়ান বিচ গেমসের কাবাডিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম পদক জয়।

চীনের সানিয়ায় এশিয়ান বিচ গেমস নারী কাবাডির ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের শক্তিশালী দেয়াল টপকাতে পারেনি বাংলাদেশ। সেমিফাইনালের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ভারতের কাছে ৫০-৩১ পয়েন্টে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে ফাইনালে পৌঁছাতে না পারলেও খালি হাতে ফিরছে না বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, সেমিফাইনালে খেলায় নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ পদক। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশের নারী দলটি র‍্যাংকিংয়ে তৃতীয় স্থান নিয়ে আসর শেষ করল।

ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় ডিফেন্ডার ও রেইডারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথমার্ধের খেলা শেষে স্কোর ছিল ভারত-২২, বাংলাদেশ-১৫। মাত্র ৭ পয়েন্টের ব্যবধান থাকায় বিরতি পর্যন্ত ম্যাচে ফেরার ভালো সম্ভাবনা টিকিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ভারতের অভিজ্ঞ রেইডারদের পয়েন্ট সংগ্রহের ঝড়ে ব্যবধান দ্রুত বাড়তে থাকে। শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরবোর্ডে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫০, আর বাংলাদেশ থামে ৩১ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত ১৯ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় নিয়ে খেলা শেষ করে ভারত।

সেমিফাইনালে হারলেও টুর্নামেন্টের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে গর্ব করার মতো অনেক কিছুই আছে বাংলাদেশের জন্য। নকআউট পর্বে পৌঁছানোর মাধ্যমেই বাংলাদেশের পদক নিশ্চিত হয়ে যায়। র‍্যাংকিং অনুযায়ী তৃতীয় স্থানে থেকে এবারের আসর শেষ করল বাংলাদেশ নারী দল।

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের এই অর্জন দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে। হারলেও লড়াই করার মানসিকতা আর ব্রোঞ্জ পদক প্রাপ্তিই এ মুহূর্তে বাংলাদেশ দলের বড় সান্ত্বনা।

এ সাফল্য অর্জন করায় বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলের সকল খেলোয়াড়, কোচ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। ​এক অভিনন্দন বার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন,​ ‘আমাদের নারী কাবাডি দলের এই অর্জন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত। দীর্ঘ ১৪ বছর পর এশিয়ান বিচ গেমস থেকে পদক পুনরুদ্ধার করে আমাদের মেয়েরা প্রমাণ করেছে যে সঠিক সুযোগ ও নিষ্ঠা থাকলে তারা বিশ্বমঞ্চে যেকোনো শক্তির মোকাবেলা করতে সক্ষম। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে লড়াই করার যে মানসিকতা তারা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

​তিনি আরো বলেন, ‘২০১২ সালের পর এই প্রথম এশিয়ান বিচ গেমসের কাবাডিতে বাংলাদেশের পদক জয় আমাদের নারী ক্রীড়াবিদদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সেমিফাইনালে হারলেও মাঠের লড়াইয়ে আমাদের মেয়েরা যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তাতে আমি আশাবাদী যে ভবিষ্যতে আমরা ফাইনালে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করব। এই ব্রোঞ্জ জয় আমাদের দেশের খেলাধুলার মানোন্নয়নে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে।"এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল আগামীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য আরো বড় সম্মান বয়ে আনবে।’ সরকারের পক্ষ থেকে দেশের খেলাধুলা, বিশেষ করে নারী ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও