২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ, সূচি চূড়ান্ত

২০২০ সালে বাংলাদেশে এই সিরিজটি হওয়ার কথা থাকলেও কভিডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টটি শুরু হবে ১৩ আগস্ট। এরপর ২২ আগস্ট থেকে দ্বিতীয় টেস্টের আসর বসবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেন। ম্যাকে শহরের জন্যও এটা মাইলফলক— টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে শহরটির।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত হলো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের সূচি। আগামী আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর ডারউইন এবং ম্যাকেতে অনুষ্ঠিত হবে দুটি টেস্ট। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামবে টাইগাররা।

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টটি শুরু হবে ১৩ আগস্ট। এরপর ২২ আগস্ট থেকে দ্বিতীয় টেস্টের আসর বসবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেন। ম্যাকে শহরের জন্যও এটা মাইলফলক— টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে শহরটির।

২০০৪ সালের পর এই প্রথম ডারউইন আবার টেস্ট আয়োজনের সুযোগ পেল। শেষবার এখানে অজিদের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ ছিল বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার। অন্যদিকে ম্যাকে প্রথমবারের মতো টেস্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে। কুইন্সল্যান্ডের আগামী মৌসুমে এটিই হবে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ।

২০১৭ সালের পর দুই দেশ আর কখনো সাদা পোশাকে মুখোমুখি হয়নি। আসলে ২০২০ সালে বাংলাদেশে এই সিরিজটি হওয়ার কথা থাকলেও কভিডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। এবারের সিরিজটি আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার জন্য এক দীর্ঘ ও ব্যস্ত ক্রিকেট মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া প্রায় ২০টি টেস্ট খেলবে। যার সূচনা হতে যাচ্ছে শান্ত-লিটনদের বিপক্ষে লড়াই দিয়ে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঠাসা সূচির মাঝেও ডারউইন ও ম্যাকের মতো বিশ্বমানের ভেন্যু থাকায় আগস্টে টেস্ট আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে। ডারউইনের জন্য এটি এক আবেগঘন মুহূর্ত, কারণ ২০০৪ সালের পর সেখানে আর কোনো টেস্ট ম্যাচ হয়নি। অন্যদিকে, ব্রিসবেনের বিখ্যাত গ্যাবা স্টেডিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকায় এবার কুইন্সল্যান্ডের একমাত্র টেস্ট ভেন্যু হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে ম্যাকেকে।

টাইগারদের বিপক্ষে এই সিরিজের পরই অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ততা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। তারা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে তিন টেস্টের সিরিজ খেলতে। এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্টের সিরিজ, জানুয়ারিতে ভারতের মাটিতে পাঁচ টেস্টের হাই-ভোল্টেজ সিরিজ এবং মার্চে ঐতিহাসিক এমসিজিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫০তম বার্ষিকী টেস্ট খেলবে প্যাট কামিন্সের দল। তবে টেস্ট সিরিজের আগে এই বছরের জুনেই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে অজিদের।

অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে টাইগারদের জন্য এ সিরিজটি বড় এক চ্যালেঞ্জ হলেও, ডারউইন ও ম্যাকের উইকেটে নিজেদের প্রমাণের বড় সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকতে এই সিরিজটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও