ফ্রান্সের জাতীয় স্টেডিয়াম ‘স্তাদে দো ফ্রান্সে’ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আজ (শনিবার) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হবে রিয়াল ও লিভারপুল।
ফাইনালে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে কড়া হুংকার দিয়ে রেখেছিলেন মোহাম্মদ সালাহ। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদকে তীব্রভাবে চেয়েছেন তিনি। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ৩-১ গোলের নাটকীয় জয়ে ফাইনালে ওঠে লস ব্লাঙ্কোস। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ৪-৩ গোলে জেতে সিটি। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৭ বারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত করে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এ পর্যন্ত ১৬ ফাইনাল খেলে সর্বোচ্চ ১৩ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
অন্যদিকে ভিলারিয়ালকে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানে হারিয়ে ১০ম বারের মতো ফাইনালে ওঠে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল। আগের নয়বারে ছয়বার শিরোপা জিতেছে লাল জার্সিধারীরা।
রিয়ালকে পেয়ে মিশরীয় ফরোয়ার্ডের চাওয়া সত্যি হয়েছে ঠিকই; কিন্তু প্রতিপক্ষদের জন্য এটাও আতঙ্ক, স্প্যানিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে গত দুই দশকেও অন্য লিগের কোনো দল জিততে পারেনি। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে এই পর্যন্ত স্প্যানিশ ক্লাব নিয়ে ১০ম বার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৩-১৪ ও ২০১৫-১৬ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ ফাইনাল খেলেছিল অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। এছাড়া বাকি সাত ফাইনাল অন্য লিগের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে খেলেছে স্প্যানিশরা। যে ফাইনালের সবকটিতেই জয় লাভ করে লা লিগার দলগুলো। সাতবারের মধ্যে চারবার চ্যাম্পিয়ন হয় বার্সেলোনা এবং তিনবার রিয়াল।
স্প্যানিশদের এই আধিপত্য এবং রিয়ালের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য পরাহত করা অল রেডদের জন্য হয়তো খুব সহজ হবে না। রিয়াল সর্বশেষ ১৯৮০-৮১ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে হেরেছিল। এরপর খেলেছে আরো সাতবার ফাইনাল। প্রত্যেকবারই শিরোপা জিতেছে তারা। তবে এই লিভারপুলের বিপক্ষেই ফ্রান্সের পার্স দেস প্রিন্সেসে সবশেষ ফাইনালে ১-০ গোলে হেরেছিল মাদ্রিদ। ইংলিশ ডিফেন্ডার অ্যালান কেনেডি ম্যাচের শেষ দিকে জয়সূচক গোলটি করেন।
এবারের ফাইনালটিও ফ্রান্সের মাঠেই। সালাহ-মানেদের আগ্রাসী মনোভাব ৪০ বছর পর রিয়ালকে আবারো হারের তিক্ত স্বাদও দিতেও পারে।
এরপর ২০১৭-১৮ মৌসুমে আবারো ফাইনালে দেখা হয়েছিল দুই দলের। কিয়েভের দ্য অলিম্পিক ন্যাশনাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ৩-১ গোলে জেতে রিয়াল। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে লিভারপুলকে ফাইনালে তুলেছিলেন মোহাম্মদ সালাহ। কিন্তু ফাইনালের প্রথমার্ধেই তখনকার রিয়ালের বর্তমান পিএসজি ডিফেন্ডার সার্জিও রামোসের বাজে ট্যাকেলের শিকার হয়ে চোখের জলে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সালাহ। যদিও পরের মৌসুমেই টটেনহ্যাম হটস্পারকে হারিয়ে শিরোপা উল্লাস করেছিল সালাহর দল। তবে ইংলিশ জায়ান্টদের সামর্থ্যের পরিচয়, এ নিয়ে পাঁচ মৌসুমে তিনবার ফাইনাল খেলছে ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা।
রিয়ালের বিপক্ষে সেই ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে এখনো প্রতিশোধের আগুনে পুড়ছেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড। তারই অংশ হিসেবে রিয়াল ফাইনালের ওঠার সঙ্গে সঙ্গে টুইটারে একটা ছোট্ট বার্তা দেন সালাহ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমাদের একটি হিসাব-নিকাশ বাকি আছে’।
সালাহ বলেছিলেন, আমি রিয়ালের বিপক্ষে খেলতে চাই। আমরা তাদের বিপক্ষে ফাইনাল হেরেছিলাম। তাই তাদের বিপক্ষে খেলতে চাই। আশা করি, সেটি হলে তাদের হারিয়ে শিরোপা জিতব।
কিন্তু অপ্রতিরোধ্য রিয়ালের বিপক্ষে কি সেই কাজ কি সহজ হবে? শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে ৬০ মিনিট পর্যন্ত পিএসজির কাছে ২ গোলে পিছিয়ে থাকা। কোয়ার্টারের দ্বিতীয় লেগে নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট বাকি থাকার সময়ও চেলসির বিপক্ষে ৪-৩ গোলে হারের মুখে। সেমির দ্বিতীয় লেগের ৮৯ মিনিট পর্যন্ত ম্যানসিটির বিপক্ষে ৫-৩ গোলে পরাজয়ের শঙ্কা। সেখান থেকে তিন ফুটবল পরাশক্তিকে হারিয়েছে রিয়াল। শেষ থেকে শুরু করা, এটাই রিয়ালের ঐতিহ্য!
সিটির বিপক্ষে ৫ মিনিটের অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের রহস্য মূলত ‘গেম ওভার’ এবং রিয়ালের ঐতিহ্যকেই দেখা হচ্ছে। খেলা শেষ, রিয়ালের আশা অনেকটাই ফিকে। এটাকেই কাজে লাগিয়েছেন কোচ আনচেলত্তি। ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ বলেছিলেন, যখন সবাই ভেবেছিল খেলা শেষ হয়ে গেছে, তখন এটি ভালো সমন্বয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল। আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি এতে লাগিয়েছি। জেতার জন্য কিছুটা ভাগ্যও লাগে। এই কৃতিত্ব খেলোয়াড় ও ভক্তদের, যাদের চেষ্টা, চেষ্টা এবং চেষ্টায় এ পর্যন্ত আসা। ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের জার্সির ওজন এবং ক্লাবের ঔদ্ধত্যও একটি ভূমিকা পালন করে।