বাবরকে সিঙ্গেল না দিয়ে স্মিথের পাওয়ার শো, মাঠে জন্ম নিল বিতর্ক

সাবেক অস্ট্রেলিয়ান তারকা মার্ক ওয়াহ বলেন, বাবরের প্রতিক্রিয়া মোটেও ভালো দেখায়নি।

ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ১১তম ওভারে। থান্ডারের স্পিনার ক্রিস গ্রিনের ওভারে প্রথম তিনটি বল ডট খেলার পর শেষ বলে বাবর লং অনে বল ঠেলে সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নন স্ট্রাইকে থাকা স্মিথ স্পষ্ট ইঙ্গিতে বাবরকে থামতে বলেন। কারণ, দুই ওভারের ‘পাওয়ার সার্জ’ এর প্রথম ওভারটি নিজে খেলতে চেয়েছিলেন স্মিথ।

বিগ ব্যাশ লিগে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুক্রবার রাতে সিডনি সিক্সার্স ও সিডনি থান্ডারের ম্যাচে স্টিভেন স্মিথ ও বাবর আজমের শতরানের জুটির মাঝেই তৈরি হয় উত্তেজনা ও বিতর্ক। পাওয়ার সার্জের প্রথম ওভার নিজে খেলার উদ্দেশ্যে বাবরকে ইচ্ছাকৃতভাবে সিঙ্গেল নিতে না দেয়ায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় দুই তারকা ব্যাটারের মধ্যে।

ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ১১তম ওভারে। থান্ডারের স্পিনার ক্রিস গ্রিনের ওভারে প্রথম তিনটি বল ডট খেলার পর শেষ বলে বাবর লং অনে বল ঠেলে সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নন স্ট্রাইকে থাকা স্মিথ স্পষ্ট ইঙ্গিতে বাবরকে থামতে বলেন। কারণ, দুই ওভারের ‘পাওয়ার সার্জ’ এর প্রথম ওভারটি নিজে খেলতে চেয়েছিলেন স্মিথ।

তখন ১১ ওভার শেষে বাবরের সংগ্রহ ছিল ৩৮ বলে ৪৭ রান, আর স্মিথ ছিলেন ২৮ বলে ৫৮ রানে। সিঙ্গেল না পাওয়ায় বাবর যে সন্তুষ্ট ছিলেন না, তা ওভার শেষে মিড পিচে দুজনের সংক্ষিপ্ত কথোপকথনেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এরপরই পাওয়ার সার্জের প্রথম ওভারে স্মিথ যেন নিজের সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে দেন। রায়ান হ্যাডলির করা সেই ওভারে তিনি তোলেন ৩২ রান, যার মধ্যে ছিল টানা চারটি ছক্কা। এটি বিগ ব্যাশ ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ওভার।

১২তম ওভারের শেষ বলে স্মিথ আবারও দ্বিতীয় রান নিতে অনীহা দেখান, যদিও শেষ পর্যন্ত রানটি নেন। ফলে ১৩তম ওভারের শুরুতে স্ট্রাইকে আসেন বাবর। কিন্তু প্রথম বলেই নাথান ম্যাকঅ্যান্ড্রুর বলে বড় শট খেলতে গিয়ে স্টাম্পে বল টেনে এনে আউট হন তিনি। আউট হওয়ার পর বাবরের হতাশা ও ক্ষোভ স্পষ্টভাবে দেখা যায়—ডাগআউটে ফেরার পথে ব্যাট দিয়ে বাউন্ডারি মার্কারে আঘাত করেন তিনি।

৪১ বলে শতক হাঁকানো স্মিথ (পরের বলেই ১০০ রানে আউট) ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি। তবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চ্যানেল সেভেনকে দেয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘দশ ওভার শেষে আমরা আলোচনা করেছিলাম। অধিনায়ক ও কোচ বলেছিল সার্জ সঙ্গে সঙ্গে নিতে। আমি বলেছিলাম, এক ওভার অপেক্ষা করি। আমি ছোট বাউন্ডারির দিকে মারতে চেয়েছিলাম, প্রথম ওভার নষ্ট করতে চাইনি। ভেবেছিলাম ওই ওভারে ৩০ রান নিতে পারব। শেষ পর্যন্ত ৩২ হলো। তবে বাবর হয়তো সিঙ্গেল না দেয়াটা পছন্দ করেনি।‘

এদিকে ফক্স ক্রিকেটে বিশ্লেষণে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান তারকা মার্ক ওয়াহ বলেন, বাবরের প্রতিক্রিয়া মোটেও ভালো দেখায়নি। ‘এটা ভালো নয়। আপনি যা-ই অনুভব করুন না কেন, সেটা মাঠে এভাবে প্রকাশ করা উচিত নয়,’ মন্তব্য করেন তিনি।

ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের মেলামেশার সময় বাবরকে মাঠে দেখা যায়নি, যদিও পরে তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১১ বছর পর বিগ ব্যাশে ফেরা মিচেল স্টার্ক বলেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পছন্দের ম্যাচ-আপ কাজে লাগানো স্বাভাবিক ব্যাপার। ‘আমি ঘটনাটা সরাসরি দেখিনি। কিন্তু টি-২০ তে এটা হতেই পারে। স্মিথ স্পষ্টতই সেই ম্যাচ-আপ পছন্দ করেছিল, আর সেটা কাজে লাগিয়েছে,’ বলেন স্টার্ক।

স্টার্ক আরো যোগ করেন, এই ঘটনা নিয়ে দলের ভেতরে বড় কোনো সমস্যা হবে না। ‘ওরা দুজনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। এটা আমাদের মৌসুমের সেরা জুটিগুলোর একটি ছিল।‘

চলতি মৌসুমে বাবর আজম এখন পর্যন্ত করেছেন ২০১ রান, গড় ২৮.৭১ এবং স্ট্রাইক রেট মাত্র ১০৭.৪৮—যা তার পাওয়ার হিটিং সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। এর আগে চলতি সপ্তাহেই সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে ম্যাচে মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ‘রিটায়ার্ড আউট’ করানো নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল।

আরও