লিভারপুলের তারকা ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র সংশয়ের কথা জানিয়েছেন। লিডস ইউনাইটেডের সঙ্গে ৩–৩ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকার পর তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, ‘ক্লাব তাকে বাসের নিচে ফেলে দিয়েছে’—অর্থাৎ অযথা দোষ চাপানো হয়েছে তার ওপর। তিনি অনুভব করছেন, লিভারপুল ধুঁকছে বলে তাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ম্যাচের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ৩৩ বছর বয়সী মিসরীয় ফরোয়ার্ড প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝাড়েন ক্লাব ও কোচ আরনে স্লটের ওপর। সালাহ বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ। ক্লাবের জন্য বছরের পর বছর যা করেছি, বিশেষ করে গত মৌসুমে। তবুও মনে হচ্ছে ক্লাব আমাকে বাসের নিচে ফেলে দিয়েছে। যেন সব দোষ আমার ওপর চাপাতে চাইছে।‘
তিনি আরো বলেন, গ্রীষ্মে লিভারপুল তাকে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যার কিছুই নাকি পূরণ হয়নি।
শেষ তিন ম্যাচেই সালাহকে বেঞ্চে রেখেছেন কোচ স্লট। পুরো তিন ম্যাচে সালাহ খেলেছেন মাত্র ৪৫ মিনিট। এই পরিস্থিতিই সম্পর্কের অবনতির প্রধান কারণ বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
সালাহ স্পষ্টই বলেন, ‘আগে ম্যানেজারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল, এখন আর নেই। মনে হচ্ছে কেউ আমাকে ক্লাবে রাখতে চায় না।‘
অ্যানফিল্ডে সম্ভাব্য বিদায়ের ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন সালাহ! আগামী শনিবার ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচকে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে ‘বিদায়ের সুযোগ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
‘মা–বাবাকে বলেছি ব্রাইটন ম্যাচে আসতে। খেলি বা না খেলি, আমি উপভোগ করব। কী হবে জানি না। আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে গেলে হয়তো এর পর আর অ্যানফিল্ডে ফিরব কি না নিশ্চিত নই,‘ বলেন তিনি।
তীব্র সমালোচনার জবাবে অলরেডদের বস আরনে স্লট জানান, নির্দিষ্ট কৌশলগত কারণেই সালাহকে বেঞ্চে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা তখন ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছি, গোল প্রয়োজন ছিল না। তাই সালাহকে নয়, এন্ডোকে মাঠে নামাই।‘
২০১৭ সালে এএস রোমা থেকে যোগ দেয়ার পর সালাহ ক্লাবের হয়ে ২৫০ গোল করেছেন, যা ক্লাবের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। জিতেছেন দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা। গত মৌসুমেও তার গোল ছিল ৩৪, অ্যাসিস্ট ১৮। কিন্তু চলতি মৌসুমে মাত্র ৫ গোল ও ৩ অ্যাসিস্টের সঙ্গে ক্লাবের বাজে সূচনা পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।