এমএলএস কাপ

স্বপ্ন, বিদায় আর ইতিহাসের রাত—মেসির মহিমায় চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মায়ামি

চেস স্টেডিয়ামের রেকর্ড গরম, রেকর্ড ভিড়, আর সর্বত্র একটাই শব্দ—‘মেসি! মেসি! মেসি!’

ফাইনালটি ছিল দুই কিংবদন্তি—জর্দি আলবা ও সার্জিও বুসকেটসের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। মেসির ভাষায়, ‘আজ তাদের জন্য একটা অধ্যায় শেষ হলো। কী অসাধারণ ক্যারিয়ার কাটিয়েছে! আমি খুশি তারা এভাবে বিদায় নিতে পারল।‘

ফাইনালের মঞ্চ যেন অপেক্ষা করছিল এক জাদুকরের জন্য—লিওনেল মেসি। তার দু’টি মহার্ঘ অ্যাসিস্ট, এক অবিশ্বাস্য ডিফেন্সিভ স্টিল এবং সামনে থেকে দেয়া নেতৃত্বে ইন্টার মায়ামি প্রথমবারের মতো জিতল এমএলএস কাপ। ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩–১ গোলে হারিয়ে লিখল ক্লাবের নতুন ইতিহাস।

চেস স্টেডিয়ামের রেকর্ড গরম, রেকর্ড ভিড়, আর সর্বত্র একটাই শব্দ—‘মেসি! মেসি! মেসি!’ শেষ বাঁশি বাজতেই এ শব্দের তীব্রতা বাড়ল অনেকটা।

ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই আসে মায়ামির প্রথম গোল। তার পেছনেও মেসি। দুই ডিফেন্ডারের মাঝে বন্দি হয়ে পড়েও নিখুঁত ড্রিবলিংয়ে বেরিয়ে আসেন, বল বাড়ান দ্রুতগামী তাদেও আলেন্দেকে। তার ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে নিজ দলের জালেই বল পাঠান ভ্যাঙ্কুভারের তরুণ ডিফেন্ডার এডিয়ের ওকাম্পো। মায়ামি পায় ১–০ লিড।

কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় দ্বিতীয়ার্ধে। প্রচণ্ড গরমেও আগুনে ফুটবল খেলতে থাকে ভ্যাঙ্কুভার। ৬০ মিনিটে আলি আহমেদ গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। তার দুই মিনিট পর পোস্টে লাগে ভ্যাঙ্কুভারের তিনটি শট! ভাগ্য তখনো মায়ামির পক্ষে। ‘চ্যাম্পিয়ন হতে হলে ভাগ্য লাগে,’ পরে বলেছিলেন ইন্টার মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাচেরানো।

৭১তম মিনিটে আসে ফাইনালের বিশেষ মুহূর্ত যেখানে মেসি বদলে দেন সবকিছু। মেসিকে সাধারণত গোল, অ্যাসিস্ট আর ড্রিবলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু এই রাতে শিরোপা অর্জনে মেসি দেখালেন ‘চুরি’র এক মোক্ষম নিদর্শন! সেটা এক দুর্দান্ত স্টিল—হ্যাঁ, ডিফেন্সিভ স্টিল।

মধ্যমাঠে আন্দ্রেস কুবাসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে মেসি দেখেন—রদ্রিগো দে পল আছেন সামনে। মিলিমিটার নিখুঁত এক থ্রু-পাসে দে পলকে একা করে দেন তিনি। দে পলের শট জালে জড়াতেই ২–১ মায়ামি! এবং সেখানেই যেন ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারিত।

দে পলকে দিয়ে গোল করিয়েছেন মেসি। ছবি- রয়টার্স

স্টপেজ টাইমে সমাপ্তির সিল এতে দেন মেসি। চেস স্টেডিয়ামের বাতাস চিরে গেল আর্জেন্টাইন মায়েস্ত্রোর ভলি। বুকে বল থামিয়ে এক মূহুর্তেই ভলিতে বল বাড়িয়ে দেন অলেন্দেকে। আর অলেন্দে টুর্নামেন্টের নবম গোল করে নিশ্চিত করেন ৩–১ ব্যবধান। একইসঙ্গে মেসিও করেন প্লে–অফে তার নবম অ্যাসিস্ট, যা নতুন এমএলএস রেকর্ড।

এর সঙ্গে যোগ হলো আরেক ইতিহাস—মেসি, দে পল ও বুসকেটস হলেন প্রথম খেলোয়াড় যারা বিশ্বকাপ ও এমএলএস কাপ—দু’টোই জিতলেন।

ফাইনালটি ছিল দুই কিংবদন্তি—জর্দি আলবা ও সার্জিও বুসকেটসের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। মেসির ভাষায়, ‘আজ তাদের জন্য একটা অধ্যায় শেষ হলো। কী অসাধারণ ক্যারিয়ার কাটিয়েছে! আমি খুশি তারা এভাবে বিদায় নিতে পারল।‘ পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালি দিয়েছে বার্সেলোনার এই সাবেকদের।

১৯ বছরের স্বপ্নের পূর্ণতা পেল। তাই বেকহ্যামের চোখে ছিল জল। ইন্টার মায়ামির অন্যতম মালিক ডেভিড বেকহ্যাম আবেগে বললেন, ‘১৯ বছর আগে যে পথচলা শুরু করেছিলাম, আজ তা পূর্ণ হলো। আমার স্বপ্ন ছিল ক্লাব গড়া, সেরা খেলোয়াড়কে আনা এবং শিরোপা জেতা। আজ সবই সত্যি হলো।‘

আগামী মৌসুমে দল উঠবে নতুন ঘর, মায়ামি ফ্রিডম পার্কে। আর বেকহ্যামের কথা বলছে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত, ‘একটা তারা জিতেছি, এবার দ্বিতীয়টা। তারপর তৃতীয়টা।‘

ইন্টার মায়ামির রাতটি তাই শুধু একটি শিরোপা নয়, এ ছিল এক যুগান্তকারী যাত্রার মহাসমাপ্তি ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আর এর কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন এক জাদুকর—লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।

আরও