বিদায়, নাকি সাময়িক বিরতি? সালাহর প্রস্থানেও রয়ে গেল প্রশ্ন

মিসর যদি মরক্কোয় অনুষ্ঠিত ১৮ জানুয়ারির ফাইনাল পর্যন্ত যায়, তাহলে সালাহ মিস করতে পারেন লিভারপুলের সর্বোচ্চ আটটি ম্যাচ।

টানা পঞ্চম ম্যাচেও শুরুর একাদশে ছিলেন না সালাহ। তবে গোমেজের চোটে স্লট যখন প্রথম পরিবর্তন আনেন, তখনই মাঠে নামান ক্লাবের হয়ে আট বছরে ২৫০ গোল করা তারকাকে। কোনো দুয়োধ্বনি নয়—শুধু করতালি ও কৃতজ্ঞতা।

ব্রাইটনের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগে ২-০ গোলের জয়ের পর শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই থমকে দাঁড়ান মোহামেদ সালাহ। অ্যানফিল্ডের চারদিক ঘুরে ঘুরে দর্শক-সমর্থকদের উদ্দেশে করতালি দেন, আর গ্যালারিজুড়ে ভেসে ওঠে পরিচিত সুর—‘ইজিপশিয়ান কিং’ এর গান। এ দৃশ্য আবেগময়, অনুরণনময় এবং একইসঙ্গে প্রশ্নবোধক।

যখন টানেলের কাছে পৌঁছালেন, তখন তিনি মাঠের শেষ খেলোয়াড়। প্রধান স্ট্যান্ডের দিকে ছোট্ট করে একবার হাত নাড়লেন, সেখানে বসে খেলা দেখেছে তার পরিবার। এটি কি তবে বিদায়? আপাতত নয়—অন্তত এখনই নয়।

আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের প্রস্তুতির জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কায়রো যাবেন সালাহ। ম্যানেজার আর্নে স্লট ম্যাচের পরের সংবাদ সম্মেলনে যে বার্তা দিলেন, তাতে দল নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্কের ওপর একটি যবনিকাও টানা হলো। স্লট বলেন, ‘আমার কাছে সমাধানের জন্য কোনো সমস্যা নেই। আমার কাছে সে (সালাহ) এখন অন্য যে কোনো খেলোয়াড়ের মতোই। লিডসের বিপক্ষে যা ঘটেছে, এরপর আমার আর কিছু বলার নেই।‘

গত শনিবার এল্যান্ড রোডে লিডসের বিপক্ষে ম্যাচের পর বিস্ফোরক এক সাক্ষাৎকারে সালাহ দাবি করেছিলেন, ক্লাব তাকে ‘বাসের নিচে ফেলে দিয়েছে’, ‘বলির পাঁঠা বানিয়েছে’ এবং ডাচ কোচের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। সেখানেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন—ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে পারে তার বিদায়ী ম্যাচ।

চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে জয়ে স্কোয়াডেই ছিলেন না তিনি। তবে ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচে ২৬তম মিনিটে চোট পাওয়া জো গোমেজের বদলি হিসেবে বেঞ্চ থেকে নামেন সালাহ। সব ইঙ্গিত মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক দায়িত্ব শেষে ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আগামী মাসে আবার লিভারপুলে ফিরবেন। তার অনুপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলবে বলেই জানা গেছে।

লিডস ম্যাচের এক সপ্তাহ পর অ্যানফিল্ডের মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় সালাহ ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল। কথা বলতে বলা হলে মজা করে বলেন, ‘টানা দুই সপ্তাহ? না, না!‘

কোনো প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা বা ব্যাখ্যা না দিলেও, আফ্রিকা কাপ শেষে সালাহকে ফের চান কি না—এ প্রশ্নে স্লটের উত্তর ছিল স্পষ্ট: ‘হ্যাঁ। সে থাকতে চায় কি না? সেটার উত্তর আপনারা আগেই জানেন। আমাদের মধ্যে যা কথা হয়েছে, সেটাই থাকবে। সে স্কোয়াডে ছিল এবং আমার প্রথম বদলি ছিল সে-ই।‘

টানা পঞ্চম ম্যাচেও শুরুর একাদশে ছিলেন না সালাহ। তবে গোমেজের চোটে স্লট যখন প্রথম পরিবর্তন আনেন, তখনই মাঠে নামান ক্লাবের হয়ে আট বছরে ২৫০ গোল করা তারকাকে। কোনো দুয়োধ্বনি নয়—শুধু করতালি ও কৃতজ্ঞতা।

গোল না পেলেও ঘণ্টা পূর্তির মুহূর্তে হুগো একিতিকের দ্বিতীয় গোলে অ্যাসিস্ট করেন সালাহ। এর মাধ্যমে লিভারপুলের জার্সিতে তার প্রিমিয়ার লিগে গোল কন্ট্রিবিউশন দাঁড়ায় ৩০২ ম্যাচে ২৭৭টি— যা একটি ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ আর সালাহ পেছনে ফেললেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ওয়েন রুনির (২৭৬) রেকর্ড। বলাই বাহুল্য, সংখ্যাটি শুধু পরিসংখ্যান নয়, লিভারপুলের জন্য সালাহর অবদানের এক অনন্য দলিল।

ম্যাচ শেষে একিতিকে বলেন, সালাহর সঙ্গে একই মাঠে খেলাটা ‘এক আশীর্বাদ’। সালাহ এমন এক খেলোয়াড় ‘যিনি ফুটবল দেখাকে ভালোবাসতে শেখান’।

তবে জানুয়ারির আগে তারা আবার একসঙ্গে খেলতে পারবেন না। মিসর যদি মরক্কোয় অনুষ্ঠিত ১৮ জানুয়ারির ফাইনাল পর্যন্ত যায়, তাহলে সালাহ মিস করতে পারেন লিভারপুলের সর্বোচ্চ আটটি ম্যাচ।

সাবেক ব্ল্যাকবার্ন স্ট্রাইকার ক্রিস সাটন বলেন, ‘অ্যানফিল্ড ছাড়ার সময় সবাই একটাই প্রশ্ন নিয়ে যাবে—সালাহ থাকছেন, না যাচ্ছেন? আমার মনে হয়নি এটা বিদায় ছিল। ওটা শুধু ভক্তদের অভিবাদন—যেমনটা সে প্রায়ই করে।‘

টানা পাঁচ ম্যাচে সালাহ শুরুর একাদশে না থেকেও লিভারপুল অপরাজিত—এটাই স্লটের জন্য বড় স্বস্তি। তবে দীর্ঘমেয়াদে ফিট ও আত্মবিশ্বাসী সালাহ থাকলে দল যে আরো শক্তিশালী হবে, সে বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। স্লট বলেন, ‘আমি গতকাল তার সঙ্গে কথা বলেছি। কথার চেয়ে কাজই বড়। সে স্কোয়াডে ছিল, আমি তাকে নামিয়েছি—এবং সে ঠিক যেমনটা চাই, তেমনই খেলেছে।‘

স্পষ্টতই সালাহকে আবার দলে নিতে প্রস্তুত লিভারপুল কোচ। কিন্তু উত্তাল এক সপ্তাহ শেষে, এই অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠাটি এখনো লেখা বাকি—সালাহ ও লিভারপুল, উভয়েরই।

আরও