গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে ৩৮ মিনিটে গোল করে তিনি এ রেকর্ড গড়েন। এটা ছিল বিশ্বকাপে মেসির ১৭তম গোল। এর মধ্য দিয়ে তিনি টপকে যান জার্মান গ্রেট মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। পরে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে করেন দলের ও নিজের দ্বিতীয় গোল। এটা বিশ্বকাপে তার ১৮তম গোল। মেসির কীর্তির দিনে ২-০ গোলের জয়ে নকআউট পর্বে নাম লেখায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এছাড়া,
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও ১৫ গোল, জার্মানির গার্ড মুলার ১৪ ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ১৪ গোল করেছেন। এর মধ্যে কিলিয়ান এমবাপ্পের সুযোগ রয়েছে মেসিকে ছোঁয়ার।
গতকাল ম্যাচের শুরুর দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। তবে সমর্থকদের আনন্দে ভাসাতে খুব বেশি সময় নেননি দুদিন পরই ৩৯তম জন্মদিন পালন করতে যাওয়া মেসি। প্রথমার্ধেই দারুণ এক গোলে দলকে এগিয়ে দেন। থিয়াগো আলমাদার কাটব্যাক থেকে গোল করেন তিনি। বিশ্বকাপে এ নিয়ে টানা ছয় ম্যাচে গোল করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার পর অস্ট্রিয়ার জালে আরেকবার বল পাঠান তিনি। শটটা প্রথমে নিয়েছিলেন স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ। অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক তা ফিরিয়ে দেয়ার পর প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হন মেসি। কিন্তু জটলার মধ্য থেকে নেয়া পরের শটে তিনি খুঁজে নেন জালের ঠিকানা। ম্যাচ শেষে আলভারেজ বলেছেন, ‘মেসি যা করেছে তা বোঝানোর মতো কোনো শব্দই নেই।’
এ ম্যাচে মাঠে নামার আগে মেসি ও ক্লোসা দুজনের গোল ছিল ১৬টি করে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর দিকেই ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল মেসির সামনে। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে বক্সের ভেতর ফরওয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টির দায়িত্ব নেন দলের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় মেসি। যদিও গতকাল তিনি বিস্ময়করভাবেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন।
পেনাল্টি মিসে বিলম্বিত হয় ক্লোসার রেকর্ড ছোঁয়াও। তখন না পারলেও খুব একটা দেরি হয়নি। প্রথমার্ধেই তিনি জার্মান সাবেক স্ট্রাইকারকে ধরে ফেলেন। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে ঠিকই পেয়ে যান রেকর্ড ছোঁয়া সেই গোলের দেখা। ১৭তম গোল করে ক্লোসাকে নামিয়ে দেন দ্বিতীয় স্থানে। ১৬ গোল নিয়ে জার্মান কিংবদন্তি এখন মেসির পরে।
এখানেই শেষ নয়। মেসি টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনবদ্য এক কীর্তি গড়েছেন এদিন। বিশ্বকাপে টানা সর্বাধিক ম্যাচে গোল করার রেকর্ডেও যৌথভাবে শীর্ষে উঠলেন। তিনি ছাড়া এ কীর্তি আছে ফরাসি কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন ও ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জর্জিনিওর।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০১ ম্যাচে ১২২ গোল করেছেন মেসি। তিনি গোল করেছেন ৪২টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে।
ক্যারিয়ারে গৌরবের সব রেকর্ডের ভিড়ে কিছু রেকর্ড তিনি ভুলে যেতেও চাইবেন। যেমন বিশ্বকাপে এখন সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও তার দখলে। সব মিলিয়ে তিনি মিস করেছেন তিনটি পেনাল্টি। মেসি প্রথম পেনাল্টি মিস করেন ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০২২ সালের আসরে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ও গতকাল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি এ খেলোয়াড়। আর সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের ৩৩তম পেনাল্টি মিস করেছেন মেসি।
চলতি আসরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার তিন গোলের তিনটিই মেসির করা। গতকাল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোলও তারই। দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার পাঁচ গোলের সবই অধিনায়ক মেসির করা। এখানেও রেকর্ড গড়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে এক আসরে দলের প্রথম ৫ গোল করার কীর্তিটা শুধু মেসি ও রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কোর দখলে।
বিশ্বকাপে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০টি আলাদা ম্যাচে প্রথম গোলের কীর্তিও গড়েছেন মেসি। ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও, ইতালির ক্রিস্টিয়ান ভিয়েরি ও স্পেনের ডেভিড ভিয়া ৬টি আলাদা ম্যাচে প্রথম গোল করেছেন।
রেকর্ড বুক তছনছ করে দেয়া মেসি সহসাই থামছেন না। গতকাল ম্যাচ শেষে সমর্থকদের বলেছেন, ‘আমরা এরই মধ্যে মানুষকে অনেক আনন্দ উপহার দিয়েছি। তবে আমরা তাদের আরো আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করব।’
গতকাল পেনাল্টি মিস করা নিয়ে তিনি বলেন, ‘পেনাল্টিটা মিস করার পর কিছুক্ষণ আমি ভীষণ বিরক্ত ছিলাম। কিন্তু পরে সেটা পুষিয়ে নিতে পেরেছি।’