১৯৬৯ সালে একটি প্রীতি ম্যাচ ছিল যুদ্ধ-বিধ্বস্ত
নাইজেরিয়ায়। কিন্তু মহাতারকা পেলেকে কোনোভাবে দেশটিতে পাঠাতে রাজি ছিল না ব্রাজিল।
এরপর যা হলো, তার ‘সত্য-মিথ্যা’ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সেই গল্প কখনো হারাবে না। শোনা
যায়, পেলের উপস্থিতির কারণে থমকে গিয়েছিল গৃহযুদ্ধ। খবর বিবিসি।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) ব্রাজিলের
সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে ৮২ বছরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পেলে। খেলায়
তার পারদর্শিতা কল্পনার সীমাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তার গল্প ছড়িয়ে পড়েছিল খেলাধুলার
বাইরের জগতেও। এর মধ্যে অন্যতম গৃহযুদ্ধ থেমে যাওয়ার ঘটনাটি।
পেলের সান্তোস এফসি ফুটবল ক্লাব ছিল ১৯৬০
এর দশকে বিশ্বের জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর একটি। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ক্লাবটি
প্রীতি ম্যাচে অংশ নিতো।
১৯৬৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এরকম একটি প্রীতি
ম্যাচ ছিল যুদ্ধ-বিধ্বস্ত নাইজেরিয়ায়। বেনিন সিটিতে অনুষ্ঠিত ওই খেলায় সান্তোস ২-১
গোলে স্থানীয় একাদশকে পরাজিত করে।
নাইজেরিয়াতে তখন রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধ চলছিল।
দেশ থেকে বায়াফ্রা রাজ্যটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত
ঘটে।
ফুটবল ক্লাব সান্তোস এফসির ইতিহাস নিয়ে কাজ
করেন এমন একজন গবেষক গুইলহের্ম গুয়াশের মতে, এরকম একটি পরিস্থিতিতে নাইজেরিয়াতে খেলোয়াড়দের
পাঠানোর ব্যাপারে ব্রাজিলের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেক দুশ্চিন্তা ছিল। সে কারণে বিবদমান
পক্ষগুলো তখন যুদ্ধবিরতিতে যেতে সম্মত হয়।
এই গল্পটির সত্যতা নিয়ে সম্প্রতি অনেকেই
প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকী ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত পেলের আত্মজীবনীতে ঘটনাটির কোনো উল্লেখ ছিল
না। তবে ৩০ বছর পর প্রকাশিত আরেকটি আত্মজীবনীতে পেলে ‘যুদ্ধবিরতির’ কথা উল্লেখ করেছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘এই প্রদর্শনী ম্যাচের জন্য
গৃহযুদ্ধ থামানো হবে বলে’ খেলোয়াড়দেরকে জানানো হয়েছিল।
‘আমি জানি না এই ঘটনা পুরোপুরি সত্য কি-না,
তবে নাইজেরিয়ানরা আমাদের নিশ্চিতভাবে জানিয়েছিলেন যে আমরা যখন ওখানে খেলতে যাবো তখন
বায়াফ্রানরা সেখানে আক্রমণ করবে না।’
পেলের জন্ম ১৯৪০ সালের ২৩ অক্টোবর। ১৯৫৮ সালে
ব্রাজিলের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ। পরপর চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন। তার মধ্যে তিনবার নিজের
দেশকে করেছেন চ্যাম্পিয়ন। বিশ্বের আর কোনো ফুটবলারের তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের নজির নেই।
তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ১ হাজার ৩৬৩টি ম্যাচ খেলে মোট ১ হাজার ২৮১টি গোল করেছেন যা
বিশ্ব রেকর্ড।
‘ফিফা’ ম্যাগাজিনের পাঠক ও জুরি বোর্ডের বিচারে
পেলেই ছিলেন বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ফুটবলার। ইন্টারনেটে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের ভোট
গিয়েছিল যদিও দিয়েগো ম্যারাডোনার পক্ষে। ফিফা শেষ পর্যন্ত যুগ্মভাবে দুজনকেই শতাব্দীসেরা
ঘোষণা করে। বন্ধু ম্যারাডোনা ২০২০ সালে ৬০ বছর বয়সে প্রয়াত হন।