টি–২০ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্বভাবসিদ্ধ কথাই বলেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ঠান্ডা মাথার এই ব্ল্যাক ক্যাপস অধিনায়ক বলেছেন, আন্ডারডগ হিসেবেই তারা আহমেদাবাদে খেলতে নামবে। তবে নিজেদের ফাইনাল জেতার সামর্থ্য সম্পর্কে ভালোই আত্মবিশ্বাসী স্যান্টনার। ফাইনালে ভারতের দর্শকে ভরা গ্যালারির আবেগের কথা মাথায় রাখলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন—ট্রফি জিততে হলে প্রতিপক্ষের হৃদয় ভাঙতে তাদের আপত্তি নেই।
ফাইনালের আগে সাংবাদিকদের স্যান্টনার বলেন, গত ১১ বছরে নিউজিল্যান্ড সাদা বলের পাঁচটি আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠলেও এখনো শিরোপা জেতা হয়নি। তাই এবার ট্রফি জয়ের লক্ষ্যই তাদের মূল প্রেরণা। তার ভাষায়, দল হিসেবে তারা সব সময় একইভাবে খেলতে চান আর সেটা পরিস্থিতি বা প্রতিপক্ষ দেখে ভয় পেয়ে নয়, বরং নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠে নামা এবং নিজেদের ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলে জয় ছিনিয়ে নেয়া। পরিকল্পিত বোলিং ও বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সঙ্গে দুর্দান্ত ক্যাচিং ও খুব সম্ভবত বর্তমান বিশ্বের সেরা গ্রাউন্ড ফিল্ডিং— কিউইদের পিছিয়ে রাখা সত্যিই কঠিন।
২০২৪ সালের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত এবার আরো শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী রূপে ফাইনালে পৌঁছেছে। টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে স্যান্টনার বেশ সচেতন। তিনি মনে করেন, ভারতকে আটকানোর একমাত্র উপায় হলো শুরুতে দ্রুত উইকেট তুলে নেয়া। পাওয়ার প্লেতে উইকেট নিতে না পারলে ভারতকে থামানো কঠিন হবে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। স্যান্টনারের মতে, উইকেট না পেলে অন্তত বাউন্ডারি আটকে রানের গতি কমিয়ে রাখতে হবে। যদি আহমেদাবাদের উইকেট ব্যাটিং সহায়ক বা 'ফ্ল্যাট' হয়, তবে ভারতের বিশাল সংগ্রহকে যতটা সম্ভব নাগালে রাখার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে কিউইরা।
আহমেদাবাদের পিচে খুব বেশি স্পিন না থাকলেও ভালো বাউন্স এবং গতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ব্যাটারদের জন্য সুবিধাজনক। শনিবারের প্রচণ্ড গরমেও পিচ ঢেকে রাখা হয়েছিল যেন তা অতিরিক্ত শুকিয়ে না যায়। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওপেনিংয়ে ফিন অ্যালেন এবং টিম সাইফার্ট দারুণ ফর্মে আছেন, যা দলটিকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। স্যান্টনারের মতে, ফাইনালে জয়ের মূল চাবিকাঠি হলো ভারতের বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে উইকেট না হারিয়ে দ্রুত রান তোলা। একই সঙ্গে ফিল্ডিংয়ে কোনো ভুল না করে চাপের মুখে শান্ত থাকাই হবে কিউইদের প্রধান অস্ত্র।
বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই এক অন্যরকম স্নায়ুচাপ। তবে স্যান্টনার মনে করেন, একে সাধারণ ম্যাচের মতোই দেখা উচিত। তিনি বলেন, ‘নতুন করে চাকা আবিষ্কারের কিছু নেই।‘ প্রস্তুতির ধরন একই রেখে ম্যাচের বিশেষ মুহূর্তগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাটাই গুরুত্বপূর্ণ। কিউইরা হয়তো এই ম্যাচে ফেভারিট হিসেবে নামছে না, কিন্তু স্যান্টনারের বিশ্বাস—নিজেদের ছোট ছোট কাজগুলো ঠিকভাবে করতে পারলে এবার তারা ইতিহাস গড়তে পারবে। শেষ পর্যন্ত এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে স্যান্টনারের দল ট্রফি হাতে উল্লাস করতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।