ব্রাইটনের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর ম্যানচেস্টার সিটির ডাগআউটে যেন নেমে আসে এক অচেনা নীরবতা। পরপর দুই ম্যাচে হার! পেপ গার্দিওলার কোচিং ক্যারিয়ারে এক নতুন অভিজ্ঞতা। এই পরাজয়ের পর সিটি মাত্র তিন পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের নিচে। গার্দিওলার অধীনে এমন বাজে শুরু আগে কখনো দেখা যায়নি।
ম্যাচ শেষে পেপ গার্দিওলা সাধারণত তার খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন বা প্রতিপক্ষ কোচের সঙ্গে হাত মেলান। কিন্তু এবার কেবল হতাশামাখা দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন মাঠের দিকে। ব্রাইটনের বিপক্ষে শেষ আধঘণ্টা সিটির পারফরম্যান্স ছিল ঠিক এরই প্রতিচ্ছবি— নেই কোনো আবেগ বা প্রতিরোধের ছাপ। এর আগের ম্যাচে স্পার্সদের কাছে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হার আরো চাপে ফেলে দেয় সিটিকে।
নতুন মৌসুমের দুই হারে প্রমাণিত— গার্দিওলা ও তার দল অজেয় থাকার যে মানসিকতা নিয়ে এতদিন খেলে আসছিল, তা এখন ভেঙে পড়েছে। ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টা সিটির নিয়ন্ত্রণেই ছিল। আর্লিং হাল্যান্ড গোল করার পরও তাদের খেলায় তেমন কোনো ধার ছিল না।
ব্রাইটনের কোচ ফ্যাবিয়ান হারজেলের চারটি পরিবর্তন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। জেমস মিলনার এবং তার সতীর্থরা মাঠের দখল নিয়ে নেয়। কিন্তু সিটির খেলোয়াড়দের মধ্যে যেন পরাজয় মেনে নেয়ার এক অদৃশ্য শক্তি কাজ করছিল। রুবেন দিয়াজ, জন স্টোনস, রদ্রি এবং হাল্যান্ডের মতো তারকা থাকা সত্ত্বেও সিটির এমন দুর্বল আত্মসমর্পণ অবাক করার মতো।
দলের দুর্বলতা সম্পর্কে রদ্রি বলেন, পারফরম্যান্সটা যেন শিশুতোষ ভুলের মতোই ছিল। গার্দিওলা বলেন, তার দল গোল হজমের পর খেলা চালিয়ে যেতে ভুলে গিয়েছিল! এই পরাজয় সিটির সেই হারানো গৌরবকে আরো স্পষ্ট করে তুলছে। এক বছর আগেও কোনো দল সিটির বিপক্ষে এমন আক্রমণ করার সাহস পেত না, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। প্রতিপক্ষরা আর কেবল রক্ষণাত্মক খেলে না, বরং পাল্টা আক্রমণ করে সিটিকে কোণঠাসা করতে চায়।
গত মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে যে ছন্দপতন ঘটেছিল, সিটি হয়তো ভেবেছিল গ্রীষ্মের বিরতিতেই তা ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু অন্যান্য দল সেই দুর্বলতা ভুলে যায়নি, বরং এটিকে কাজে লাগাতে চাইছে। একসময়ের অপরাজেয় সিটির রক্ষণ এখন আর অটুট নেই।
এই দুটি হার সত্ত্বেও সিটির এখনই সংকটাপন্ন অবস্থায় প্রবেশের হয়তো প্রয়োজন নেই। গত মৌসুমের অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যকার খারাপ সময় পার করার পর এবারও তাদের খেলায় চোখে পড়ছে না ধারাবাহিকতা।
দলের কিছু তরুণ খেলোয়াড়, যেমন - খুসানভ, তিজানি রাইন্ডার্স এবং অস্কার বব ভালো খেলছেন। কিন্তু এখনো কিছু জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। গোলকিপার, রাইটব্যাক, সেন্টারব্যাক, মিডফিল্ডের ডান পাশ এবং লেফট উইং— এসব জায়গায় এখনো সেরা খেলোয়াড় ঠিক করতে পারেননি গার্দিওলা। দলের মধ্যে রয়েছে রসায়নেরও অভাব। রক্ষণভাগ প্রায়ই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। মাঝমাঠের ভারসাম্য এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যেও বোঝাপড়ার অভাব লক্ষণীয়।
গার্দিওলার জন্য অনেক কিছুই ভাবার আছে। তবে সম্ভবত তার দল এই মুহূর্তে গৌরব হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা এই সত্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখছে যে, আগের মতো প্রতিপক্ষের মনে ভয়ের কারণ আর তারা নয়।