চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

ম্যাক অ্যালিস্টারের হেডে ভাঙল কর্তোয়ার 'প্রাচীর', অ্যানফিল্ডে রিয়ালের পতন

আর পুরো ম্যাচের গল্প ছিল একজন গোলরক্ষককে নিয়ে—রিয়াল মাদ্রিদের থিবো কোর্তোয়া। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই দলের ফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে তিনি একাই লিভারপুলের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিচ্ছিলেন।

অ্যানফিল্ডে ফিরে এসেছে সেই পুরনো লিভারপুল। আর্নে স্লটের দল যেন আবার দেখিয়ে দিল, শিরোপা জেতা মৌসুমের আগ্রাসন ও আত্মবিশ্বাস এখনো টিকে আছে। ইউরোপিয়ান হেভিওয়েট দ্বৈরথে রিয়াল মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযানে দারুণভাবে ফিরল অল রেডরা। গত মৌসুমেও একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গোল করা সেই আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবারও জাল খুঁজে পেলেন। তার হেডারেই মূলত ভেঙেছে রিয়ালের ‘কর্তোয়া-প্রাচীর’। আর এ জয় লিভারপুলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযানকে কেবল সতেজই করল না, সম্ভবত তাদের পুরো মৌসুমেই প্রাণ সঞ্চার করেছে।

খেলা শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিট রিয়াল মাদ্রিদ তাদের অর্ধের বাইরে বেরোতেই পারেনি। ফ্লোরিয়ান ভির্জের সঙ্গে এ ম্যাচে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন কনর ব্র্যাডলি। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের এই তরুণ রাইটব্যাক ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে পুরো ম্যাচে এমনভাবে পকেটবন্দি করে রেখেছিলেন যে, ব্রাজিলিয়ান তারকা একসময় বিরক্ত হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে হলুদ কার্ডও দেখেছেন। আবার পরে পেনাল্টির আদায়ে বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টাও করেছেন ভিনি। কিন্তু কাজ হয়নি।

ম্যাচটি ঘিরে অন্যরকম আবহের কেন্দ্রে ছিলেন অ্যানফিল্ডে এক সময়ের ‘ঘরের ছেলে’ ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আরনল্ডের ফিরে আসা—তবে প্রতিপক্ষের জার্সিতে। যে রাইট ব্যাক পজিশনের কথা বলা হচ্ছিল কনর ব্র্যাডলির সুবাদে, ওই একই জায়গায় ট্রেন্টই খেলতেন। ম্যাচের সিংহভাগ সময় বেঞ্চে বসে ট্রেন্ট দেখলেন, তার রেখে যাওয়া জায়গায় খেলা এক তরুণ তার বর্তমান ক্লাবের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে কার্যত অচল বানিয়ে ছেড়েছে! ট্রেন্ট পড়ে নেমেছেন বদলি হিসেবে। অ্যানফিল্ডও তাকে অভ্যর্থনা জানায় দুয়ো ধ্বনি দিয়ে। ট্রেন্টের একটি লক্ষ্যহীন ক্রস অনায়াসে মাঠের বাইরে ঠেলে দেন ব্র্যাডলি। এ যেন উত্তরসূরির হাতে পুরোনো নায়কের নির্বাসন!

তারা ছিলেন গল্পের পার্শ্বনায়ক। আর পুরো ম্যাচের গল্প ছিল একজন গোলরক্ষককে নিয়ে—রিয়াল মাদ্রিদের থিবো কোর্তোয়া। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই দলের ফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে তিনি একাই লিভারপুলের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিচ্ছিলেন। ডমিনিক সোবোসলাই, ম্যাক অ্যালিস্টার, এমনকি ভার্জিল ভ্যান ডাইকের হেডও অবিশ্বাস্যভাবে ফিরিয়ে দেন তিনি। প্রথমার্ধে সোবোসলাইয়ের একটি শট অরেলিয়া শুয়ামেনির হাতে লাগলেও ভিএআর পেনাল্টি বাতিল করে দিলে অ্যানফিল্ডে জ্বলে ওঠে ক্ষোভের আগুন।

অবশেষে, ৬১তম মিনিটে ভাঙে সেই 'অদম্য প্রাচীর'। রায়ান গ্র্যাভেনবার্চকে ফাউল করে জুড বেলিংহাম হলুদ কার্ড দেখেন। সোবোসলাইয়ের শক্তিশালী সেট পিস থেকে আসা বলে অসাধারণ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। এমবাপ্পে-ভিনিরাও মাঠে ঘুরেছেন নিজেদের ছায়া হয়ে।

রিয়ালের কোচ জাবি আলোনসো, নিজের প্রাক্তন ঠিকানা অ্যানফিল্ডে ফিরে দেখেছেন হলুদ কার্ড। আর স্লটের শিষ্যরা দেখিয়ে দিলেন, এই লিভারপুল আবার জেগে উঠছে — জয়ের ক্ষুধা, শৃঙ্খলা আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে।

আরও