গভীর রাতে শূন্য ক্যাম্প ন্যুতে মেসি, কেন বার্সাকে জানাননি

গভীর রাতে মেসি স্টেডিয়ামের গেটে পৌঁছান, প্রবেশের অনুমতি চান এবং কোনো সমস্যা ছাড়াই তাকে ঢুকতে দেয়া হয়।

মেসির এই অঘোষিত সফর এ ধারণাটিকে আরো শক্তিশালী করেছে যে, তার কোনো বিদায়ী সংবর্ধনা ক্লাবের রাজনৈতিক হাতিয়ার হবে না। সেই সংবর্ধনা তখনই হবে, যখন মেসি নিজে তা চাইবেন—ক্লাব বা কোনো নির্বাচনী প্রচারণার শর্তে নয়।

গত রোববার রাতে বার্সেলোনা ক্লাবে যেন ঘটে গেল আবেগের এক ভূমিকম্প! ক্লাবের চিরন্তন প্রতীক লিওনেল মেসি ফিরেছিলেন তার পুরনো ডেরা স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে। কিন্তু সেটা ক্লাব কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়েই! ইন্টার মায়ামি তারকার এই আকস্মিক, নস্টালজিয়া মাখা উপস্থিতি ক্লাব এবং তার বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলেছে।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে যোগ দিতে আলিকান্তে যাওয়ার আগে মেসি সেই স্টেডিয়ামে একবার পা রাখতে চেয়েছিলেন, যেখানে তিনি তার জীবনের প্রায় দুই দশক কাটিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, ক্লাবকে না জানিয়ে তিনি কীভাবে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করলেন।

ক্লাবের ঘনিষ্ঠ সূত্র অনুযায়ী, গভীর রাতে মেসি স্টেডিয়ামের গেটে পৌঁছান, প্রবেশের অনুমতি চান এবং কোনো সমস্যা ছাড়াই তাকে ঢুকতে দেয়া হয়। সেখানে ছিল না ক্লাবের কোনো ক্যামেরা, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি বা কোনো দাপ্তরিক বিবরণ। কেবল তিনি, তার পরিবার, শূন্য ক্যাম্প ন্যু, এবং বহু বছরের প্রতীক্ষিত এক মিলন। ক্লাবের শ্রেষ্ঠ সন্তান যেন ফিরলেন কাউকে না জানিয়েই।

সফরের কয়েক ঘণ্টা পর মেসি তার এই ব্যক্তিগত সফরের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন। স্টেডিয়ামের বাইরে, মিক্সড জোনে এবং নতুন পিচের ওপর তোলা ছবিগুলোর সঙ্গে তার বার্তাটি সরাসরি আঘাত হানে বার্সা ভক্তদের হৃদয়ে—

‘গত রাতে আমি ফিরে গিয়েছিলাম এমন এক জায়গায়, যেটাকে আমি মনপ্রাণ দিয়ে মিস করি। এমন এক জায়গা, যেখানে আমি অসম্ভব সুখে ছিলাম। যেখানে তোমরা সবাই আমাকে অনুভব করিয়েছিলে যে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। আশা করি একদিন আবার ফিরতে পারব, শুধু খেলোয়াড় হিসেবে বিদায় জানাতে নয়, বরং যেমনটা আগে কখনো পারিনি...।‘

মেসির এই পোস্টটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ২০২১ সালে তার বিদায় যেভাবেই হোক না কেন, বার্সেলোনার সঙ্গে তার বন্ধন আজও অক্ষত। এই সফরের কোনো অংশ না হলেও, ক্লাব কর্তৃপক্ষ পরে একটি সরল বার্তা দিয়ে বলে, ‘ঘরে স্বাগতম, লিও,’ সঙ্গে তার পোস্ট করা একটি ছবি।

এ সফরটি শুধু আবেগপ্রবণই নয়, অভ্যন্তরীণভাবেও এর বড় প্রভাব রয়েছে। ২০২৬ সালে বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মেসির যেকোনো পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে।

ক্লাব প্রেসিডেন্ট হোয়ান লাপোর্তা মাত্র তিন দিন আগেই বলেছিলেন যে, ২০২৬ সালে স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ শেষ হলে মেসির একটি জমকালো বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়ার দরজা খোলা থাকবে। কিন্তু মেসির এই অঘোষিত সফর এ ধারণাটিকে আরো শক্তিশালী করেছে যে, তার কোনো বিদায়ী সংবর্ধনা ক্লাবের রাজনৈতিক হাতিয়ার হবে না। সেই সংবর্ধনা তখনই হবে, যখন মেসি নিজে তা চাইবেন—ক্লাব বা কোনো নির্বাচনী প্রচারণার শর্তে নয়।

তবে আপাতত একটি বিষয় নিশ্চিত— ক্যাম্প ন্যু আবারো অনুভব করল তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। আর তা ঘটল সবচেয়ে মেসিসুলভ উপায়ে—অপ্রত্যাশিত, ব্যক্তিগত, প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ এবং নীরবে।

আরও