ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মালিকানা পাল্টে যাচ্ছে। গ্লেজার পরিবারের কাছ থেকে এর কর্তৃত্ব চলে যেতে পারে কাতারের ধনকুবের শেখ জসিমের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম কিংবা ব্রিটিশ ধনকুবের স্যার জিম র্যাটক্লিফের কোম্পানির ইনেওসের হাতে। প্রায় ৭০০ কোটি পাউন্ডে ক্লাবের মালিকানার হাতবদল হতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, নতুন মালিকের অধীনে কি নতুনভাবে সাজবে ম্যানইউর স্কোয়াড? উত্তরটি হতে পারে ‘না’। জানা গেছে, নতুন মালিক পেলেও আগামী গ্রীষ্মকালীন দলবদলে খুব বেশি খরচ করবে না রেড ডেভিলরা।
কাতারি ব্যাংকার শেখ জসিম বিন হামাদ আল থানি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইংলিশ ক্লাবটি কেনার আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। ম্যানইউ কিনতে সফল হলেই শেখ জসিম দ্রুতই ক্লাবটিতে বিনিয়োগ করবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ক্লাবের ভেতরের সূত্র জানিয়েছে, উয়েফার ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (এফএফপি) নিয়মে শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে শেখ জসিমকে খরচের ব্যাপারে সাবধানি হতে হবে এবং তাকে হয়তো ক্লাব ম্যানেজমেন্ট এ ব্যাপারে নিবৃত্ত করবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক কেলেঙ্কারির খবর বেরিয়েছে। ইংলিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একাধিক মৌসুমে আর্থিকভাবে নানা তথ্য গোপন করে নীতিমালা ভঙ্গ করেছে ম্যানসিটি। তারা মালিকের বিনিয়োগকে আয় হিসেবে দেখিয়ে আইন ভঙ্গ করেছে। এ অপরাধে তারা বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে। নগর প্রতিদ্বন্দ্বী সিটির এ ঘটনায় সতর্ক ম্যানইউ।
গত বছর নতুন কোচ এরিক টেন হ্যাগকে নিয়োগ দেয়ার পর গ্রীষ্মের দলবদলে অন্তত ২০ কোটি পাউন্ড খরচ করে দল গুছিয়েছে ম্যানইউ। এ কারণে সদ্যসমাপ্ত শীতকালীন দলবদলে খুব বেশি খরচ করতে পারেনি রেড ডেভিলরা। এ সময় মাত্র তিনজন খেলোয়াড়কে ধার চুক্তিতে নিয়েছে টেন হ্যাগের দল। তারা হলেন ভাউট ভেগহর্সট, মার্সেল সাবিতজার ও জ্যাক বাটল্যান্ড। এর মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখ থেকে দলবদলের শেষদিন ধার চুক্তিতে নেয়া অস্ট্রিয়ান মিডফিল্ডার সাবিতজার ম্যানইউ কোচকে মুগ্ধ করেছেন। তাকে কেউ কেউ ‘প্যানিক বাই’ বলে অভিহিত করলেও ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর যোগ্য পার্টনার নাকি খুঁজে পেয়েছেন কোচ টেন হ্যাগ।
এদিকে, বাণিজ্যিক চুক্তি, সম্প্রচার চুক্তি ও ম্যাচ ডে রাজস্ব বাড়লেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে পড়া ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তারকা খেলোয়াড় বিক্রি করতে না পারায় এফএফপি নিয়ম প্রতিপালনের ব্যাপারে বেশ সতর্ক রয়েছে ম্যানইউ।
ক্লাবটি বিক্রির আলাপ-আলোচনা ও দরপত্র জমা নেয়ার মধ্যেও গ্রীষ্মের দলবদল ও বর্তমান স্কোয়াড নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ম্যানেজমেন্ট। গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় মার্কাস র্যাশফোর্ড, লুক শ, দিওগো দালোত, ডেভিড ডে গিয়া ও আলেহান্দ্রো গারনাচোর সঙ্গে চুক্তি নবায়নের প্রস্তুতিও চলছে। ম্যানইউর সূত্র এসপিএনকে জানিয়েছেন, এখনো গ্লেজার পরিবার ক্লাবের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও চুক্তি নিয়ে দরকষাকষির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে এবং গ্রীষ্মে দল গোছানোর মতো যথেষ্ট অর্থও পাবেন টেন হ্যাগ। তবে তিনি খরচ করবেন বুঝেশুনে।
তাড়াহুড়োও নেই টেন হ্যাগের। কেননা বর্তমান স্কোয়াড নিয়ে তিনি চারটি শিরোপার জন্য ছুটছেন। প্রিমিয়ার লিগ, ইউরোপা লিগ, ইংলিশ লিগ কাপ ও এফএফ কাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে রেড ডেভিলরা। আজ লিগ কাপ ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নিউক্যাসল।
শীতের দলবদলে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ছেড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, চার্লি শ্যাভেজ, চার্লি ম্যাকনিল ও ডি’শন বার্নার্ড। এর মধ্যে রোনালদোর সঙ্গে চুক্তিটা দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে বাতিল করা হয়েছে। আর পরের তিনজন বিভিন্ন ক্লাবে ধার চুক্তিতে খেলছেন।
পিয়ার্স মরগানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক সব মন্তব্য করে ম্যানইউর বিরাগভাজন হন রোনালদো। তিনি ম্যানইউর মালিক, কোচ, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। ফলে তার চুক্তিটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় রেড ডেভিলরা। ৩৭ বছর বয়সী খেলোয়াড়ও ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। পরে তিনি বছরে ২০ কোটি ডলারের ঈর্ষণীয় চুক্তিতে নাম লেখান সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে।
রোনালদো চলে যাওয়ায় বেতনের ওপর চাপটা অনেক কমেছে ম্যানইউর। ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে, পর্তুগিজ খেলোয়াড়টি সপ্তাহে ৩ লাখ ৮৫ হাজার পাউন্ড (৪ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ ডলার) বেতন পেতেন ম্যানইউতে খেলে। বছরে তিনি পেতেন প্রায় ২ কোটি পাউন্ড। যদিও রেড ডেভিলরা ২০২২-২৩ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উত্তীর্ণ হতে পারেনি বলে খেলোয়াড়দের বেতন ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়া হয়। এটি নিয়েও অসন্তুষ্ট ছিলেন রোনালদো।
এদিকে, ইউনাইটেড এক ঘোষণায় জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ মৌসুমের টিকিটের দাম বাড়ছে, যা ১১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ঘটছে। প্রাপ্তবয়স্কদের সিজন টিকিটের দাম প্রায় ৫ শতাংশ করে বাড়বে। ক্লাবটি জানিয়েছে, ম্যাচ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছুর ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই সিজন টিকিটের দাম বাড়ানো হচ্ছে। ইএসপিএন ও ডেইলি মেইল।