নারী কাবাডি বিশ্বকাপে দুই আসরে দুইবারই শিরোপা জিতে নিল ভারত। আজ সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আসরের ফাইনালে চাইনিজ তাইপেকে ৩৫-২৮ পয়েন্টে হারিয়ে মুকুট ধরে রাখল ভারতের মেয়েরা।
২০১২ সালে ইরানকে হারিয়ে প্রথম নারী কাবাডি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। আজ দ্বিতীয় আসরেও শিরোপা উৎসব করল দেশটি। নারী কাবাডি বিশ্বকাপে শতভাগ জয়ের রেকর্ড গড়ল তারা। ঢাকায় ৬ ম্যাচে শতভাগ জয়ের আগে ২০১২ সালের আসরেও ৬ ম্যাচে শতভাগ জয় পেয়েছিল ভারত।
কাবাডির বড় আসরে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচে অপরাজিত থাকল ভারত। ২০২৩ সালে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ২৬-২৫ পয়েন্টে জিতে স্বর্ণপদক অর্জন করে ভারত। সে আসরে দুই দলের গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ের ফল ছিল ৩৪-৩৪ পয়েন্ট।
আজ শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে চাইনিজ তাইপে টস জিতে ভারতকে রেইডে পাঠায়। সাঞ্জু দেবী প্রথম রেইড থেকে এক পয়েন্ট তুলে আনেন। চুয়াং ইয়া-হান বোনাস পয়েন্ট নিয়ে ভালোই জবাব দেন। পরে পূজা ও সোনালিও রেইড থেকে পয়েন্ট আনেন। চতুর্থ রেইডে সাঞ্জু দেবী তিন পয়েন্ট তুলে আনলে লিড পায় ভারত। ইয়েন চিয়াও-ওয়েন এক রেইডে দুই পয়েন্ট তুলে আনলে জমে ওঠে লড়াই—ম্যাচের স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭-৭।
পরে রেইড দিতে যাওয়া পূজাকে সুপার ট্যাকল করে ৯-৭ পয়েন্টের লিড নিয়েছিল চাইনিজ তাইপে। ১২তম মিনিটে সাঞ্জু দেবী রেইডে চাইনিজ তাইপের ৪ খেলোয়াড়কে আউট করে ভারতকে ১৩-১২ পয়েন্টে এগিয়ে দেন। হুয়াং সু-চিন পরের রেইডে পয়েন্ট তুলে লড়াইয়ে রেখেছিলেন চাইনিজ তাইপেকে। পরে রেইডে সাঞ্জু দেবী দুই পয়েন্ট তুলে ম্যাচের দ্বাদশ মিনিটে প্রতিপক্ষকে অলআউট করে ভারতের লিড ১৭-১৪ পয়েন্টে উন্নীত করেন। ২০-১৬ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে ভারত প্রথমার্ধ শেষ করে।
বিরতির পর বোনাস পয়েন্ট নিয়ে চাইনিজ তাইপে ব্যবধান কমায়। পুষ্পা রেইডে তিন পয়েন্ট তুলে ভারতের লিড বড় করেন। সময়ের সঙ্গে চাইনিজ তাইপে ম্যাচ থেকে পিছিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে রেইড ও ট্যাকল থেকে পয়েন্ট তুলে ব্যবধান ২৫-২২ করে দেশটি। বাকি সময় সাঞ্জু-পুষ্পাদের হিসেবি খেলায় ম্যাচ ভারতের দিকে ঝুঁকে যায়। খেলা শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে চাইনিজ তাইপে সুপার ট্যাকল করে ফেরার চেষ্টা করে, স্কোরলাইন ছিল ৩০-২৬। শেষদিকে চাইনিজ তাইপেকে অলআউট করে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেয় ভারত, স্কোরলাইন তখন ৩৫-২৮। ওটাই ছিল ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোরলাইন।
এ আসরে স্বাগতিক বাংলাদেশ তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে।