দশ বছর পর একই মাঠ তাকে দিয়েছিল সেই পরাজয়ের স্মৃতি মুছে দেয়ার সুযোগ। সামনে ছিল স্পেন, হাতছোঁয়া দূরত্বে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেসি আরেকবার বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখতে পারলেন না। পুরো ম্যাচজুড়ে নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিষাদেই বিদায় ঘটল ৩৯ বছর বয়সী মেসির।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ফাইনালে হেরে আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে। মেসিও তিন ফাইনালের দুটিতে হার মানলেন। ম্যাচ শেষে ট্রফির দিকে তাকিয়ে থাকা মেসির মুখে তাই ফিরে এসেছিল পুরনো বিষাদ। ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিদায় নিতে হলো তাকে। প্রথম গোল্ডেন বলটি এসেছিল জার্মানির বিপক্ষে ফাইনাল হারের পর, দ্বিতীয়টি কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের রাতে।
তবে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ৩৯ বছর বয়সী মেসির। গোল করেছেন, সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন এবং সংকটের মুহূর্তে দলকে পথ দেখিয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি গোল করেছেন ৮টি। অ্যাসিস্ট করেছেন চারটি।
তবে ২০১৬ সালের মেসি আর ২০২৬ সালের মেসি এক নন। তখন তিনি ছিলেন জাতীয় দলের হয়ে কিছু জিততে না পারার দায় বহন করা এক ক্লান্ত অধিনায়ক। এবার তিনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি ফিনালিসিমা জয়ী কিংবদন্তি। সম্ভবত এটিই ছিল বিশ্বমঞ্চে মেসির শেষ ম্যাচ। শেষটা তার ইচ্ছেমতো হলো না, মেটলাইফে পুরনো ক্ষতও পুরোপুরি মুছল না। তবু এবার তিনি মাথা নিচু করে ব্যর্থ মানুষ হিসেবে ফিরছেন না। ফিরছেন একটি বিশ্বকাপ ও তিনটি গোল্ডেন বল নিয়ে—শুধু সঙ্গে থেকে যাচ্ছে শেষবার আরেকটি বিশ্বকাপ ছুঁতে না পারার আফসোস।
রোজারিও থেকে বার্সেলোনা, বুয়েনস আয়ার্স থেকে দোহা, আর দোহা থেকে নিউ জার্সি—লিওনেল মেসির যাত্রা আসলে অমরত্বে পৌঁছার গল্প। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ হাতে তুলে না নিতে পারলেও এই আসরে আট গোলে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন তিনি। যার শেষ পঙ্ক্তিতেও জড়িয়ে আছে বিদায়ের বিষাদ।
মাঝমাঠে স্পেনের আধিপত্যের প্রধান কারিগর রদ্রি জিতেছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, বল পুনরুদ্ধার ও আক্রমণের ভিত গড়ে দিয়ে স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। আর স্পেনের গোলপোস্টে দুর্দান্ত নির্ভরতার পুরস্কার হিসেবে গোল্ডেন গ্লাভস পেয়েছেন উনাই সিমন।