শেষ বাঁশির আগে দুজান ভ্লাহোভিচ এবং লয়েড কেলির জোড়া গোলে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে ৪-৪ গোলে ড্র করেছে জুভেন্টাস। প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও, দ্বিতীয়ার্ধের নাটকীয়তায় এসেছে সবকটি গোল।
প্রথমার্ধকে গোলখরা ধরলে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের বন্যা। ৫২ তম মিনিট থেকে শুরু হয়ে চলল ৯৬ মিনিট পর্যন্ত। এই ৪৪ মিনিটে ৪ বার লিড নিয়েছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। কিন্তু পেছন থেকে দৌড়ে এসে পাল্টা আঘাত করেই গেছে জুভেন্টাস। আর তাতেই চ্যাম্পিয়নস লিগ সাক্ষী হলো এক স্মরণীয় রাতের। তুরিনে দু'দলের মহাকাব্যিক লড়াই থেমেছে ৪-৪ গোলে সমতায়।
ম্যাচের ফল যখন ৪-২, তখন পুরো স্টেডিয়ামে পিনপতন নীরবতা। কিন্তু ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ভ্লাহোভিচ নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে আশার সঞ্চার করেন। এরপর দুই মিনিট পরই তিনিই কেলিকে বল বাড়িয়ে দেন এবং কেলির গোলে নিশ্চিত হয় মূল্যবান এক পয়েন্ট।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল একেবারেই সাদামাটা, নাটকীয়তার কোনো ইঙ্গিতই ছিল না। জুভেন্টাসের খেফ্রেন থুরামের একটি শট দারুণভাবে সেভ করেন ডর্টমুন্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল।
বিরতির পরই ঘুরে যায় খেলার মোড়। দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে করিম আদেয়েমি বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে গোল করে ডর্টমুন্ডকে এগিয়ে দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ডর্টমুন্ড তাদের ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল। জুভেন্টাস গোলরক্ষক মিশেল ডি গ্রেগরির দুর্দান্ত সেভে আটকে যায় সেরহু গিরাসির শট।
ছবি-রয়টার্স
৬৩তম মিনিটে কেনান ইলদিজ বক্সের প্রান্ত থেকে বল নিয়ে দারুণ এক শটে গোল করে জুভেন্টাস সমর্থকদের উল্লাসে মাতিয়ে দেন। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দুই মিনিট পরই ফেলিক্স নমেচা দূরপাল্লার শটে ডর্টমুন্ডের লিড ফিরিয়ে আনেন।
খেলার গতি যেন থামার কোনো নাম নেই! ৬৮তম মিনিটে দারুণ একটি পাস থেকে বল নিয়ে কোবেলকে পরাস্ত করে আবারও সমতা ফেরান ভ্লাহোভিচ। ৭৪তম মিনিটে ইয়ান কৌটোর নিচু শট গোলরক্ষকের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে জালে জড়ালে ডর্টমুন্ড আবারও এগিয়ে যায়।
খেলা শেষের চার মিনিট আগে কেলির হ্যান্ডবলের কারণে ডর্টমুন্ড পায় পেনাল্টি। গোল করে ব্যবধান বাড়ান রামি বেনসেবাইনি। অনেকের কাছেই তখন ম্যাচটি শেষ।
ডুসান ভ্লাহোভিচ। ছবি- রয়টার্স
কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগ তার লিগ্যাসি মেনে সেটাই করল যা অনেকেই ভাবেনি আগে। শেষ মুহূর্তে জুভেন্টাস গেল অলআউট আক্রমণে। ইনজুরি টাইমের অন্তিম মুহূর্তে ভ্লাহোভিচ আবারো গোল করেন। এরপর কেলিকে দিয়ে গোল করিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। অফসাইডের জন্য দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি নিশ্চিত হলে স্টেডিয়ামে আবারো বয়ে যায় আনন্দের জোয়ার।
ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ৪-৩ গোলে জেতার পর এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে চার গোল করল তুরিনের বুড়িরা। তবে ডিফেন্স নিয়ে খুশি নন কোচ ইগর টিউডর। স্কাই স্পোর্ট ইতালিকে তিনি বলেন, 'এ ধরনের ম্যাচ যথেষ্ট হয়েছে। আমরা খুব বেশি গোল হজম করছি, অন্তত আমরা গোলও করছি অনেক। কিন্তু এভাবে চলতে পারে না। ইন্টারের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচের পর আজ দ্বিতীয়ার্ধে এনার্জি লেভেল ধরে রাখা খুব কঠিন ছিল।'