সর্বকালের সেরা ফুটবলার
পেলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো বিশ্বে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই
সাবেক ও বর্তমান ফুটবলারদের পাশাপাশি শোক প্রকাশ করে যাচ্ছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট
বারাক ওবামা থেকে শুরু করে লিজেন্ডারি স্প্রিন্টার উসাইন বোল্টের মতো ভিন্ন ভিন্ন সেক্টরের
ব্যক্তিত্ব।
পেলের মৃত্যুতে শোকে মূহ্যমান পুরো ব্রাজিল। দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা তার শোকবার্তায় বলেন, গ্যারিঞ্চা, সক্রেটিস ও ম্যারাডোনার সঙ্গে স্বর্গে ফুটবল খেলছেন পেলে। বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের নাম উচ্চকিত করতে তার ভূমিকাকে অতুলনীয় মনে করেন সিলভা।
আর্জেন্টিনার হয়ে
সদ্য বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একাধিক ছবির সঙ্গে ছোট্ট
পোস্টে লিখেন, শান্তিতে ঘুমাও,
পেলে।
২৪ বছর বয়সে বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডে পেলেকে হটিয়ে দেয়া ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে তার টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেন, ফুটবলের রাজা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু তার লিগ্যাসি কখনো মুছে যাবে না।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
তার শোকবার্তায় লিখেন, তিনি ছিলেন কোটি মানুষের
অনুপ্রেরণা; ছিলেন গতকালের,
আজকের রেফারেন্স এবং অনন্তকাল
থাকবেন। দূরে থেকেও আমার প্রতি তিনি অপত্য স্নেহ প্রদর্শন করেছেন। তাকে কখনো ভোলা যাবে
না। সব ফুটবলপ্রেমীর মনে গাথা আছে তার নাম।
ম্যানচেস্টার সিটি
ও নরওয়ের ফুটবল তারকা আর্লিং হ্যালান্ড এক টুইটে বলেন, কোন ফুটবলার যখনই চমৎকার কিছু করে, মনে রেখো এটা আগেই করে দেখিয়েছেন পেলে ।
ব্রাজিল স্ট্রাইকার
রিচার্লিসন তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেন, আজ ফুটবল তার সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়কে বিদায় জানিয়েছে। কিং পেলে, আপনি সবসময়ই অতুলনীয় থাকবেন। আপনি অমর।
বিশ্ব ফুটবলের তদারকি
সংস্থা ফিফা নিজস্ব ওয়েবসাইটে লিখেছে, কিং পেলের মৃত্যুতে ফিফা ও পুরো ফুটবল বিশ্ব শোক করছে। শান্তিতে ঘুমাও,
পেলে।
ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক
সংস্থা উয়েফা তাদের বিবৃতিতে জানায়, ফুটবলের প্রথম বৈশ্বিক সুপারস্টার পেলে। ফুটবলকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলায়
পরিণত করতে তিনি ছিলেন অগ্রসেনানী।
পেলের উত্তরসুরী ব্রাজিলের ফুটবল তারকা নেইমার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে লিখেন, পেলের আগে ‘১০’ কেবল একটি সংখ্যা ছিল মাত্র। পেলের আগে ফুটবল ছিল একটি খেলা মাত্র। সবকিছু পাল্টে দিয়েছেন পেলে। তিনি ফুটবলকে শিল্প ও বিনোদনে রূপ দিয়েছেন।
ব্রাজিল যে পেলের
কাছে কত ঋনী সে ব্যাপারে নেইমার লিখেন, তিনি দরিদ্রদের, কালোদের ভাষা দিয়েছেন।
আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলকে সম্মানের আসনে আসীন করেছেন।
ফুটবল ও ব্রাজিলের
মর্যাদা বাড়িয়েছেন কিং পেলে। তিনি চলে গেছেন, তবে জাদু রয়ে যাবে। পেলে অমর।
উল্লেখ্য সাও পাওলোর
আলবার্ট আইনস্টান হাসপাতালে স্থানীয় সময় ৩ টা ২৭ মিনিটে মারা যান পেলে। কোলন ক্যান্সার
জটিল রূপ নেয়ায় একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ায় ব্রাজিলীয় এ ফুটবল লিজেন্ডের মৃত্যু হয়েছে বলে
জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তিনবারের বিশ্বকাপ
জয়ী এ ফুটবলারের মৃত্যুর তথ্যটি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও শেয়ার করা হয়েছে।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে
কোলন থেকে টিউমার সরানোর পর নিয়মিত কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এছাড়া ২০১২ সালে
কোমরে অপারেশনের পর একাকি হাঁটাচলা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছিল তার জন্য।
পেলে হিসেবে খ্যাতিমান
হলেও তার পারিবারিক নাম ছিল এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো। ১৯৫৬ সালে ব্রাজিলের ক্লাব
সান্তোসের হয়ে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি। তিনবার বিশ্বকাপজয়ী একমাত্র ফুটবলার
পেলে। ২১ বছরের পেশাগত ফুটবলের ক্যারিয়ারে ১ হাজার ২৮৩ গোল করেন ব্রাজিলের এ ফুটবল
লিজেন্ড। ব্রাজিলের হয়ে ৯২ ম্যাচে করেন ৭৭ গোল। ২০২২ সালে এসে কাতার বিশ্বকাপে এ রেকর্ডে
ভাগ বসান নেইমার। ফিফা বিশ্বকাপে করেছেন ১২ গোল। ১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে রেকর্ড
৬ অ্যাসিস্ট করেছেন। বিশ শতকের প্রথম বৈশ্বিক আইকন ছিলেন পেলে। পরবর্তীতে বক্সার মোহাম্মদ
আলী এ তালিকায় প্রবেশ করে।
ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক
কমিটি পেলেকে ‘অ্যাথলিট অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফিফার কাছে তিনি ‘ফুটবল
প্লেয়ার অব দ্য সেঞ্চুরি’। আর ব্রাজিল সরকারের কাছে তিনি ছিলেন ‘জাতীয় সম্পদ’।
পেলেকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার গণ্য করেন পণ্ডিতরা। তার নামের পাশে জায়গা পেয়েছেন দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো চরিত্র। ২০২০ সালে আর্জেন্টাইন লিজেন্ড ম্যারাডোনা যখন মারা যান পেলে লিখেছিলেন, আশা করি, একদিন স্বর্গে আমরা একসঙ্গে ফুটবল খেলব।
ছবি: ইনস্টাগ্রাম, টুইটার