ক্লাব বিশ্বকাপ

ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে রাজনৈতিক কড়চা, মেটলাইফে ট্রাম্পকে ধিক্কার

যুক্তরাষ্ট্রে এই টুর্নামেন্ট হওয়ায় চেলসির সঙ্গেই ‘বিশেষ সংযোগ’ দেখেন অনেকে, কারণ চেলসির মালিকানায় আছেন মার্কিন ধনকুবের টড বোহলি।

ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ট্রাম্পের মুখ ভেসে ওঠলেই শুরু হয় প্রথম রাউন্ডের তীব্র দুয়োধ্বনি। পরে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্প যখন ফাইনাল ট্রফি ও অন্যান্য পুরস্কার বিতরণের জন্য মাঠে নামেন, তখন আবারো সমবেত দর্শক ক্ষোভ প্রকাশ করে।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ক্লাব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন চেলসি যখন ট্রফি নিয়ে উল্লাস করবে, সেই মঞ্চে চেলসির খেলোয়াড়দের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইনাল ম্যাচের গ্যালারিতে ছিল ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শক। ট্রাম্পকে দেখা মাত্রই সমবেত দুয়োধ্বনি ওঠে চারদিক থেকে। তবুও অটল ছিলেন ট্রাম্প।

ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ট্রাম্পের মুখ ভেসে ওঠলেই শুরু হয় প্রথম রাউন্ডের তীব্র দুয়োধ্বনি। পরে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্প যখন ফাইনাল ট্রফি ও অন্যান্য পুরস্কার বিতরণের জন্য মাঠে নামেন, তখন আবারো সমবেত দর্শক ক্ষোভ প্রকাশ করে।

ম্যাচ শেষে ইনফান্তিনো ও ট্রাম্প মিলে ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি চেলসির খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দিতে মঞ্চে ওঠেন। ইনফান্তিনো পরে ক্যামেরার ফ্রেম ছেড়ে সরে যান। কিন্তু ট্রাম্প মঞ্চের মাঝখানে দাঁড়িয়েই থাকেন। রিস জেমস সেই সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন, চেলসির খেলোয়াড়রা শুরু করেন উদযাপন। তখনও ট্রাম্প সেখানেই দাঁড়িয়ে, পুরোপুরি টেলিভিশনের ফোকাসে।

বড় ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই ক্লাব বিশ্বকাপ। ফাইনালটিও স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শুরু হয়। পুরো টুর্নামেন্টই যেখানে নানা সমালোচনার তীরে বিদ্ধ, সেখানে ফাইনালের এসব দিকও কোনো প্রশংসা পায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে এই টুর্নামেন্ট হওয়ায় চেলসির সঙ্গেই ‘বিশেষ সংযোগ’ দেখেন অনেকে, কারণ চেলসির মালিকানায় আছেন মার্কিন ধনকুবের টড বোহলি। তিনিও ফাইনালের পর মঞ্চে ট্রাম্প, ইনফান্তিনো এবং পিএসজির চেয়ারম্যান নাসের আল-খেলাইফির পাশে দাঁড়ান।

এই ম্যাচের নিরাপত্তা ছিল অত্যন্ত কঠোর। সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা স্টেডিয়ামের প্রতিটি প্রবেশপথে মোতায়েন ছিলেন। গেটের লাইনে মানুষ ধীরে ধীরে ঢুকছিলেন, আর তাপমাত্রা ওঠে যায় ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। ম্যাচ শুরু হয় প্রায় ৮ মিনিট দেরিতে।

ম্যাচের প্রায় ৩০ মিনিট আগে ট্রাম্পের কনভয় একটি বিশেষ গেট দিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে। সেটি ছিল খেলোয়াড়দের প্রবেশপথের পাশে। সঙ্গীদের নিয়ে ট্রাম্প গাড়ি থেকে নামেন বড় একটি তাঁবুর ভেতর দিয়ে। সাধারণত জাতীয় সঙ্গীত ম্যাচ শুরুর প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে বাজানো হয়। তবে ট্রাম্পের কারণে সময় পরিবর্তন করে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে করতে হয়েছে এই পর্ব। এরপর ট্রাম্পকে ভিডিও বোর্ডে দেখা মাত্র দর্শকরা জোরে দুয়োধ্বনি দেন।

ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো আগেও ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে বাছাই করার পর তিনি এ সম্পর্ককে ‘একেবারেই অপরিহার্য’ বলে আখ্যা দেন। ওভাল অফিসে বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণায়ও ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট। এমনকি এই বছর ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সফরেও গিয়েছিলেন। যার ফলে ফিফা কংগ্রেসে দেরিতে পৌঁছান তিনি। সেখানে ক্ষুব্ধ প্রতিনিধিদের ওয়াকআউটের মুখেও পড়তে হয় ইনফান্তিনোকে।

সবমিলিয়ে, এই রাত শুধু ফুটবলের ইতিহাসেই নয়, রাজনৈতিক নাটকীয়তারও অংশ হয়ে থাকবে। চেলসি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও, ট্রাম্পের উপস্থিতি আর গ্যালারির তীব্র প্রতিক্রিয়া এই ফাইনালকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

আরও