সান্তিয়াগো বার্নাব্যু যেন বিস্ফোরণের অপেক্ষায়ই ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ-ম্যানচেস্টার সিটির নিয়মিত দ্বৈরথ যখন মডার্ন ক্ল্যাসিকে পরিণত হয়েছে তখন দুই দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ও মাঠে প্রতিটি স্পর্শেই উত্তেজনার স্ফুলিঙ্গই ছিল প্রত্যাশিত। হয়েছেও তাই। কিন্তু রাতের শেষে আলোচনার কেন্দ্রে একজনই— জাবি আলোনসো। মাঝসাগরে দুলতে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ নামক জাহাজের এই নাবিক দেখলেন, ম্যানচেস্টার সিটির দেয়া ২-১ গোলে পরাজয়ের আঘাতে কেঁপে উঠল তার ভবিষ্যৎ।
গত নভেম্বর পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চললেও হঠাৎ যেন গভীর অতলে নেমে গেছে রিয়াল মাদ্রিদের গতি। শেষ আট ম্যাচে মাত্র দু’টি জয়—সমালোচনার ঝড়ে বিদ্ধ হচ্ছেন নতুন ম্যানেজার। এমন হাই প্রোফাইল স্কোয়াড সামলাতে পারছেন না, ম্যান ম্যানেজমেন্টে পাশ মার্ক পাবেন না— এসব নিয়ে চলছে কানাঘুষা। তার মাঝেও এ ম্যাচে তার দলের লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো, কিন্তু ফলাফল ফের দাঁড়াল তার বিপরীতে পাশে। ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হারের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও দুয়োধ্বনিতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফেটে পড়লেন সমর্থকেরা। আলোনসো অবলম্বন করলেন ইতিবাচক দিকগুলো—তবে ভাগ্যদেবতা যে তার পাশে নেই, তা আবারও পরিষ্কার।
অন্যদিকে, আগের লেভারকুসেন ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পেপ গার্দিওলা নামালেন তার সবচেয়ে শক্তিশালী একাদশ। শুরুটা রিয়ালের পক্ষেই ছিল। ৩৩ ম্যাচ পর অবশেষে গোল পেলেন রদ্রিগো। উদযাপনে আলোনসোর সঙ্গে আলিঙ্গন—মনে হলো দলের ভেতরের উত্তেজনায় সাময়িক শান্তির পরশ।
কিন্তু সিটির আক্রমণ ও বল রিকভারির তীক্ষ্ণতা রিয়ালের ভঙ্গুরতাকে খুব দ্রুতই উন্মোচিত করে ফেলল। তরুণ নিকো ও’রেইলি দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সমতা ফেরান, এরপর রুডিগারের ভুলে আর্লিং হালান্ড সহজেই আদায় করেন জয়সূচক পেনাল্টি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সিদ্ধান্তে মাঠ ও গ্যালারি—উভয় জায়গাতেই ছড়াল উত্তাপ।
মাদ্রিদ চেষ্টা কমায়নি। বেলিংহ্যাম এক দারুণ সুযোগ নষ্ট করেছেন; ভিনিসিয়ুসও একাধিকবার ব্যর্থ। বদলি হিসেবে নামা এন্ড্রিক শেষ মুহূর্তে হেডে ক্রসবার কাঁপিয়ে দিলেও এসব না পাওয়ার মুহূর্তগুলোই হয়ে দাঁড়াল মাদ্রিদের রাতের ভাগ্যের প্রতিচ্ছবি।
আলোনসোর সমস্যার তালিকাও ছোট নয়—রক্ষণভাগে চোটের সংকট, এমবাপ্পের ফিটনেস অনিশ্চয়তা। বেঞ্চে নাম থাকলেও তিনি এক মুহূর্তের জন্যও ওয়ার্মআপ করেননি। অন্যদিকে, সিটি দ্বিতীয়ার্ধে ক্রমশই বলের দখল বাড়িয়েছে। দুই ফ্ল্যাংকে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন চেরকি ও দোকু। তাদের এই রূপ গার্দিওলাকে সন্তুষ্ট করতেই পারে।
মাদ্রিদ লড়ল, কিন্তু যথেষ্ট হলো না। আলোনসোর জন্য সময় ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে—এমনটাই কি ভাবছে ক্লাবের অন্দরমহল তথা ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ? সেটা নিয়ে সন্দেহ তোলা থাক। আর গার্দিওলা? রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ভরা চ্যাম্পিয়নস লিগের রাতে রিয়ালের সঙ্গে হেড-টু-হেডের পরিসংখ্যানে তার দলই এবার লিড নিল।