ম্যানচেস্টার ডার্বির ১৯৪তম লড়াইয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের আকাশ এখন শুধুই লাল। অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ডাগআউটে ফিরেই জাদু দেখালেন মাইকেল ক্যারিক। ব্রায়ান এমববেউমো এবং প্যাট্রিক দোরগুর দুর্দান্ত দুই গোলে ম্যানচেস্টার সিটিকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ডার্বির আনন্দ উৎসবে মাতল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
ম্যাচের ৬৫ মিনিটে পুরো ওল্ড ট্র্যাফোর্ড যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল। হ্যারি ম্যাগুয়ারের ক্লিয়ার থেকে বল পেয়ে মাঝমাঠ দিয়ে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে যান অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস। ডানে আমাদ ডিয়ালো এবং বাঁয়ে এমবেউমো ও দোরগুকে নিয়ে সাজানো সেই কাউন্টার অ্যাটাক ছিল এক কথায় নিখুঁত। ব্রুনোর সময়োচিত পাস থেকে ওয়ান টাচে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি ক্যামেরুনিয়ান তারকা এমবেউমো। জিয়ানলুইজি দোনারুম্মাকে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতেই টেকনিক্যাল এরিয়ায় পাগলাটে উদযাপনে মাতেন কোচ ক্যারিক।
এমবেউমোর গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই সিটির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন তরুণ তুর্কি প্যাট্রিক দোরগু। ইনফর্ম সেস্কোকে বসিয়ে এমবেউমোকে নামানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ক্যারিক। গোল করার ছয় মিনিট পর এমবেউমোকে তুলে নিয়ে ম্যাথেয়াস কুনহাকে নামান তিনি। আর সেই কুনহার ক্রস থেকেই বল নিয়ে দোরগু যখন সিটির রক্ষণের অসতর্কতার সুযোগে গোল করলেন, তখন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের গ্যালারিতে শুধুই গগনবিদারী চিৎকার।
পুরো ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটিকে একদমই চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি। আর্লিং হ্যালান্ড টানা সাত ম্যাচে ওপেন প্লে থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়ে মাঠ ছাড়লে গার্দিওলার মুখাবয়বে ফুটে ওঠে চরম অসহায়ত্ব। ফিল ফোর্ডেন ও রিকো লুইসদের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের দিনে ইউনাইটেডের গতির কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় নীল শিবির। নটিংহাম ফরেস্টের সঙ্গে আর্সেনাল ড্র করায় সিটি পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, শিরোপা দৌড়ে বড়সড় ধাক্কা খেল তারা।
রয় কিনদের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে মাত্র চার দিনের মাথায় ইউনাইটেডকে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে তুলে আনলেন ক্যারিক। চতুর্থ স্থানে থাকা লিভারপুলের থেকে এখন মাত্র ১ পয়েন্ট দূরে রেড ডেভিলরা। এই জয়ে উজ্জীবিত ইউনাইটেড এখন পরের সপ্তাহে উত্তর লন্ডনে আর্সেনালের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের করতালির বন্যায় ভেসে মাঠ ছাড়েন মাইকেল ক্যারিক। ওল্ড ট্র্যাফোর্ড সাক্ষী থাকল এক নতুন শুরুর, যেখানে গতির ফুটবল আর রণকৌশলে সাময়িকভাবে হলেও ধুলোয় মিশে গেল শহরের নীল আধিপত্য।