দুই ম্যাচ পর জাতীয় দলে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। ফেরাটাও রাঙালেন গোলে। কাতার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে মেসি ও ডি মারিয়ার নৈপুণ্যে ভেনেজুয়েলাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ঘরের মাঠে বুয়েন্স এইরেসের লা বোম্বোনেরায় ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে স্বাগতিকরা।
প্রথমার্ধে নিকোলাস গনজালেসের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে
ব্যবধান বাড়ান অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ও লিওনেল মেসি। এ নিয়ে টনা ৩০ ম্যাচে অপরাজিত
লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। সর্বশেষ ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের
বিপক্ষে হেরেছিল আলবিসেলেস্তেরা। এরপর থেকে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে দলটি।
কভিড আক্রান্ত হওয়ায় এ ম্যাচে খেলতে
পারেননি ফরোয়ার্ড লাওতারো মার্টিনেজ। এছাড়া নিষিদ্ধ থাকায় ছিলেন না গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ও জিওভানি লো
সেলসোরাও। ফলে শুরুর একাদশে আসে বেশ কিছু পরিবর্তন। লাওতারো না থাকায় সবচেয়ে বড়
পরিবর্তন এসেছে দলের আক্রমণভাগে। লিওনেল মেসির সঙ্গে এদিন আক্রমণভাগে নামেন
জোয়াকিন কোররেয়া ও নিকলাস গনজালেস। তবে মেসিকে শুরুর একাদশে সেন্টার ফরোয়ার্ড
হিসেবে দেখালেও ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি খানিকটা নিচে নেমে এসে গড়ে
দিয়েছিলেন অনেক আক্রমণ।
আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই খেলেছে
আক্রমণাত্মক ফুটবল। শুরু থেকেই আলো ছড়িয়েছেন মেসি। তারই ফল পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের ৩৫ মিনিটেই মেসির গড়ে দেয়া এক আক্রমণে বক্সের বাইরে বল পেয়েছিলেন নিকলাস
গনজালেস। ডান প্রান্তে ফাঁকায় বল পেয়ে যান অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ মিডফিল্ডার রদ্রিগো
ডি পল। স্লাইড করে তাতে পা ছুঁইয়ে ভেনেজুয়েলার প্রতিরোধ ভেঙে দেন নিকোলাস। সেই
গোলে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে স্বাগতিকরা।
বিরতির পর ম্যাচের ৫৫ মিনিটে গোল
পরিশোধের সুযোগ পেয়েছিলে ভেনেজুয়েলা। কিন্তু সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন জোসেফ
মার্টিনেজ। ক্রিশ্চিয়ান কাসারেসের ক্রসে ফাঁকায় থেকে হেড করলেও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট
হয়।
৭০ মিনিটে বদলি নেমে খেলার চিত্র পাল্টে
দেন পিএসজি উইঙ্গার ডি মারিয়া। তার উপস্থিতিতে দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠে দুই বারের
চ্যাম্পিয়নরা। ৯ মিনিটের মধ্যে গোলও পেয়ে যান তিনি। ডি পলে লম্বা পাস ধরে দারুণ
নিয়ন্ত্রণে বল নিয়ে গোলকিপার ফারিনেজের মাথার ওপর দিয়ে দর্শনীয় চিপে গোলসংখ্যা
দ্বিগুণ করেন ডি মারিয়া।
ঠিক তিন মিনিট পর ক্লাব সতীর্থ মেসির
৮১তম আন্তর্জাতিক গোলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ডি মারিয়া। গোলমুখে তার
বুদ্ধিদীপ্ত ক্রস বুক দিয়ে নামিয়ে ডান পায়ে শট নেন মেসি। সংযোগ ঠিকঠাক না হলেও
সফরকারী গোলরক্ষক আগেই উল্টো দিকে সরে গিয়েছিলেন। বল অনায়াসে জালে জড়ায়।
এ জয়ে ১৬ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে আর্জেন্টিনার অবস্থান দুই নম্বরে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল সমান ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। দুই দলই এরই মধ্যে কাতার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে। আগেই ছিটকে যাওয়া ভেনেজুয়েলা আছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দশ দলের বাছাইপর্বে সবার নিচে। ১৭ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১০।