জেদ্দার কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে যেন এক নীল-বেগুনি ঝড় বয়ে গেল। লা লিগার টেবিল টপার বার্সেলোনা তাদের বিধ্বংসী ফুটবলে ৫-০ গোলে চূর্ণ করেছে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে। এই দাপুটে জয়ে স্প্যানিশ সুপারকোপার ফাইনাল নিশ্চিত করল হানসি ফ্লিকের শিষ্যরা।
বার্সা কোচ হানসি ফ্লিক এদিন নাম্বার টেন লামিন ইয়ামালকে বেঞ্চে রেখে দল সাজান। তবে মাঠের খেলায় তার অভাব বিন্দুমাত্র বুঝতে দেননি রাফিনিয়া-ফারমিন লোপেজরা। ম্যাচের শুরু থেকেই বিলবাওয়ের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে কাতালানরা। ১৫ মিনিটে পেদ্রির নিচু শট উনাই সিমন রুখে দিলেও তা ছিল কেবল ঝড়ের পূর্বাভাস।
ম্যাচের ২২ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ফেরান তোরেস। ফারমিন লোপেজের একটি ডিফ্লেক্টেড শট থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। এরপর শুরু হয় গোলবন্যা। প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই নিজের নাম স্কোরশিটে তোলেন ফারমিন লোপেজ।
বিরতির ১০ মিনিট আগে ব্যবধান ৩-০ করেন তরুণ প্রতিভা রুনি বারদঘি। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়া দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়ালে ৪-০ গোলের বিশাল লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বার্সা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বিলবাওয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন রাফিনিয়া। নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি করে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন এই উইঙ্গার। এরপর বাকিটা সময় কেবল বল পজিশন ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করার আনুষ্ঠানিকতা সেরেছে ব্লগ্রানারা।
সেমিফাইনালে এমন রাজকীয় জয়ের পর আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে ফ্লিক বাহিনী। আগামী রোববার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে বার্সেলোনা। আজ রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল দেখবে মাদ্রিদ ডার্বি। জেদ্দার দর্শকরা এখন দেখার অপেক্ষায়—লিগ ফর্মের মতো সুপারকোপার ট্রফিটাও বার্সেলোনা তাদের শোকেসে তুলতে পারে কি না।