অ্যাডিলেডের আকাশ ছিল কিছুটা মেঘলা। কিন্তু ইংল্যান্ডের ভাগ্যাকাশ ছিল আরো বেশি অন্ধকার। বুকভরা আশা নিয়ে পঞ্চম দিনে লড়াই শুরু করলেও শেষ রক্ষা হলো না। অজি বাহিনীর অদম্য মানসিকতা আর মিচেল স্টার্কের দুর্দান্ত বোলিংয়ের কাছে নতি স্বীকার করতে হলো স্টোকস বাহিনীকে। ৮২ রানের এই জয়ে সিরিজের প্রথম ১১ দিনেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মর্যাদার ‘অ্যাশেজ’ নিজেদের কাছেই রেখে দিল প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া।
পঞ্চম দিনে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল পাহাড়সম রান, কিন্তু হাতে ছিল মাত্র ৪ উইকেট। জেমি স্মিথ (৬০) ও উইল জ্যাকসের (৪৭) মধ্যে গড়ে ওঠা জমাট জুটি বার্মি আর্মিকে অলৌকিক কোনো জয়েরই স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। বিশেষ করে নাথান লায়ন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়লে অজি শিবিরেও কিছুটা শঙ্কা জাগে। টেস্টের পঞ্চম দিনে লায়নের অভাব অপূরণীয় হয়ে যায় কিনা, সে কানাঘুষাও ছিল ধারা বিবরণীতে।
কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন জেমি স্মিথ; স্টার্কের বলে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর ব্রাইডন কার্সের (অপরাজিত ৩৯) লড়াকু ইনিংস জয়ের ব্যবধানই শুধু কমিয়েছে। শেষমেশ স্কট বোল্যান্ডের বলে জশ টাঙের ক্যাচটি স্লিপে মার্নাস লাবুশেন তালুবন্দি করতেই অ্যাডিলেড ওভালে শুরু হয় অজিদের বিজয়োৎসব।
এই টেস্টের হার-জিতের ব্যবধান ৮২ রান। কাকতালীয়ভাবে এটা সেই স্কোর, যা উসমান খাজা প্রথম ইনিংসে করেছিলেন হ্যারি ব্রুকের হাতে জীবন পাওয়ার পর। ক্যাচ মিসের মাশুল ইংল্যান্ডকে দিতে হয়েছে পুরো সিরিজ জুড়েই। অন্যদিকে, ক্যাচ ধরাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন লাবুশেন। বিশেষ করে জ্যাকসের ক্যাচটি এক হাতে তালুবন্দি করার দৃশ্যটি ছিল চোখের আরাম।
বল হাতে আবারো ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান মিচেল স্টার্ক। নতুন বল হাতে নিয়ে ইংল্যান্ডের লেজ ছেঁটে দিতে সময় নেননি তিনি। অ্যাডিলেডের প্রাণহীন পিচেও সুইং আর গতির মিশেলে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার ধরা হয়।
অ্যাশেজ সাধারণত ধৈর্যের পরীক্ষা, কিন্তু এবারের লড়াই যেন ছিল অস্ট্রেলিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রদর্শনী। মাত্র ১১ দিনের ক্রিকেটেই তারা ইংল্যান্ডের দম্ভ চূর্ণ করে ছাইদানি নিজেদের দখলে রাখল। জয়ের আনন্দ একদিকে, আর চোটজর্জর নাথান লায়নকে হারানোর বিষাদ অন্যদিকে—সব মিলিয়ে অ্যাডিলেডের বিকালটি ছিল মিশ্র আবেগের। তবে মাঠের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আজ আর কোনো সংশয় রইল না।
সংশয় থাকতে পারে— বাজবলের মৃত্যু এদিনই ঘটে গেল কিনা তা নিয়ে। খেলার ধরন নিয়ে স্টোকস-ম্যাককালামদের শুধু প্রশ্নেরই মুখোমুখি হতে হবে না, এটা অনেকটা আত্মজিজ্ঞাসার সময়ও হতে পারে। ঘরের মাঠে টানা চতুর্থ অ্যাশেজ সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া। আর ইংল্যান্ডের জন্য আরেকটি অপূর্ণ স্বপ্নের গল্প।