এ ক্লাবটি থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়রা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের রসদেই বয়সভিত্তিক ফুটবলে সাতবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুর। এটি যেন নারী ফুটবলে রংপুরের ‘প্রদীপ’।
সদ্যপুস্কুরিনী ভারতে প্রথম অংশগ্রহণেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে এবং ২০২৫-২৬ মৌসুমে বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগে পঞ্চম স্থান অর্জন করে। সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়েছে এ ক্লাবের মোট ১১ জন খেলোয়াড়। সর্বশেষ নতুন কুড়ি স্পোর্টসে রংপুর অঞ্চলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সদ্যপুস্কুরিনী।
জুলাইয়ের শেষ দিকে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ফুটবলে বালিকা বিভাগের ফাইনালে রাজশাহীকে ৪-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর অঞ্চল। এ দলটিতে খেলেছে সদ্যপুস্কুরিনীর সদস্য অনন্যা খানম রিচি, শারমিনা হাসদা, স্মৃতি কিসকু, লাবনী রানী অর্পনা, জয়া আক্তার নীলা, সিনহা আয়াত, বিথী, মার্জিয়া ও মনি আক্তার।
ফাইনালে রাজশাহীর বিপক্ষে কিসকু একাই ২টি গোল করেন, অ্যাসিস্ট করেন ১টিতে। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৮ গোল) ও ফাইনালের সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। অনবদ্য পারফর্ম করায় কিসকুকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে নগদ অর্থ, তার ‘শ্রমজীবী’ মায়ের জন্য মোবাইল ফোন ও স্থায়ী চাকরি এবং নতুন পাকা বাড়ির ঘোষণা দেয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
কিসকুর বাড়ি পীরগঞ্জের চক কৃষ্ণপুর গ্রামে। বাবা সোবহান হাসদার মৃত্যুর পর মা মাতি মাই হেমরন অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখেন। তবে তা বাস্তব রূপ দিয়েছে সদ্যপুস্কুরিনী ক্লাব। কিসকু ছোটবেলা থেকেই এই ক্লাবে আবাসিক সুবিধায় থেকে নিয়মিত অনুশীলন করেছে। সেখানে ফুটবলাররা অনুশীলন করে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান কোচ মিলন মিয়ার অধীনে। একাডেমির সিংহভাগ খরচ বহন করেন মিলন মিয়া। ফলে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ নিতে হচ্ছে।
নতুন কুঁড়িতে চ্যাম্পিয়নের মেডেল জেতা সদ্যপুস্কুরিনীর আট খেলোয়াড় উঠে এসেছে দরিদ্র পরিবার থেকে। কারো বাবা, কারো আবার মা নেই। তারা ক্লাবের অধীনে আবাসিক থেকে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। আর্থিক অসচ্ছলতায় নিয়মিত পুষ্টিকর খাবারও মিলছে না তাদের।
নানা সমস্যা নিয়ে মিলন মিয়া বলেন, ‘গত ১৩ বছর ধরে এ ক্লাবের খেলোয়াড়রা সুনামের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় নারী ফুটবল দলে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে। এরই মধ্যে এখানকার ১১টি মেয়ে সেনাবাহিনীতে খেলোয়াড় হিসেবে চাকরি পেয়েছে এবং ভালো করছে। এছাড়া ১০টি মেয়ে বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে চান্স পেয়েছে। সদ্যসমাপ্ত নতুন কুঁড়ি আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া রংপুর বিভাগীয় দলে সদ্যপুস্কুরিণী ক্লাবের ৮টি মেয়ে খেলার সুযোগ পায়। এর মধ্যে অধিনায়ক অনন্যাসহ দুই গোল করা কিসকু রয়েছে।’
১৩ বছর ধরে এ ক্লাবটি জাতীয় নারী ফুটবলে অবদান রেখে চলেছে। কিন্তু এই ক্লাবটি চলে আর্থিক সংকটে। মিলন মিয়া এ নিয়ে বলেন, ‘আমার প্রায় ৪ দোন জমি (লিজ) আবাদ করে যা পাই এবং ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি মনজুর হোসেন আজাদসহ আরো দু-একজন যে সহায়তা করেন, তা দিয়ে আবাসিক মেয়েদের খরচ চালানো হচ্ছে। মেয়েগুলো খুবই গরিব। কারো বাবা নেই। আবার কারো মা নেই। এমন ক্লাবগুলোকে সরকারের উচিত সব ধরনের সহায়তা করা। আমরা একটি মিনি স্টেডিয়াম পেয়েছি, তার পরও সরকারের উচিত আরো সহায়তা করা।’