আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে গতকাল সকালে হ্যাটট্রিক করেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের প্রথম পেস বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিকের গৌরব অর্জন করেন ডানহাতি এ বোলার। সঙ্গে এবাদত হোসেন চারটি উইকেট শিকার করে আফগানিস্তানকে অলআউট করেন ২৪০ রানে। দুজনের নৈপুণ্যে বাংলাদেশ পায় ১০৬ রানের লিড। তাদের কাছ থেকে ব্যাটন গ্রহণ করেন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তাদের ১৫৯ রানের জুটি বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে তিনশোর্ধ্ব লিড।
বাংলাদেশের ১৬২ টেস্টের ইতিহাসে এতদিন হ্যাটট্রিক ছিল মাত্র দুটি। ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে লেগ স্পিনার অলোক কাপালি ও ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে নিউজ়িল্যান্ডের বিপক্ষে অফ স্পিনার সোহাগ গাজ়ী হ্যাটট্রিক করেন। এবার হ্যাটট্রিক করলেন বর্তমানে দলের তারকা পেস বোলার হাসান মাহমুদ।
ম্যাচের ৮৩তম ওভারের তৃতীয় বলে হাসানের লেংথ ডেলিভারি নিচু হয়ে ভেতরে ঢোকে, ব্যাটার ইসমত আলম বুঝে ওঠার আগেই স্টাম্প উড়ে যায়। এরপর ক্রিজে আসা কায়েস আহমেদের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যাচ্ছিল গালির দিকে; তখন ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ নেন লিটন দাস। এরপরের ডেলিভারিটি জিয়া-উর-রেহমানের প্যাডে আঘাত হানতেই হ্যাটট্রিক পূরণ করেন হাসান মাহমুদ।
এ নিয়ে চতুর্থবার ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেন হাসান এবং চারবারই ভিন্ন মাঠে। তিনি অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও আরব আমিরাতের মাঠে ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখান। এর মধ্য দিয়ে তিনি নাম লেখালেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্নের পাশে। ওয়ার্নও এই চার দেশে ৫ উইকেট শিকার করেন। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ১৫ বার ও পাকিস্তানে ২ বার ৫ উইকেট নেন এ বিখ্যাত লেগ স্পিনার।
প্রথম ইনিংসে ৫৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন হাসান, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বোলিং ফিগার। আগের দিন ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে দিন শেষ করা আফগানিস্তান গতকাল সকালে হাসান ও এবাদতের তোপের মুখে ২৯ রানের ব্যবধানে শেষ ৬টি উইকেট হারায়। ১০৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। এবাদত ৪ উইকেট নেন ৫৬ রানের খরচায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৩৪৬ ও ২২৩/৬ (শান্ত ৮২, মুশফিক ৮১, লিটন ৫*, মিরাজ ০*; ইয়ামিন ২/৪২, জিয়া-উর-রেহমান ২/৫৫)। আফগানিস্তান: ২৪০ (রহমত ১০৫, মালিক ৬২; হাসান ৫/৫৫, এবাদত ৪/৫৬)।—তৃতীয় দিন শেষে