সেই জিম্বাবুয়ে সেই স্পিন

দুঃসময় কাটানো দরকার? বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ফর্মুলাটা খুবই সরল। জিম্বাবুয়েকে আমন্ত্রণ জানাও, স্পিন ফাঁদ তৈরি করো এবং বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নাও। অতঃপর তৃপ্তির ঢেঁকুর! ব্যতিক্রম হয়নি এবারো।

 দুঃসময় কাটানো দরকার? বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ফর্মুলাটা খুবই সরল। জিম্বাবুয়েকে আমন্ত্রণ জানাও, স্পিন ফাঁদ তৈরি করো এবং বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নাও। অতঃপর তৃপ্তির ঢেঁকুর! ব্যতিক্রম হয়নি এবারো।

জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আর এই বড় জয়ের পথে দলীয় ও ব্যক্তিগত অর্জনও নেহাত কম হয়নি। নিজেদের টেস্ট ইতিহাস দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিপক্ষকে ইনিংস ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম পেয়েছেন তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। অধিনায়ক হওয়ার পর প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন মুমিনুল হক। ৯ উইকেট নিয়ে টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তরুণ অফস্পিনার নাঈম হাসান।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এ টেস্টের আগে ছয় টেস্টের সবগুলোতেই হেরেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাঁচটিতেই ইনিংস হার। আগের পাঁচ টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান পাননি সেঞ্চুরির নাগাল। ঠিক এ রকম একটা অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে এল জিম্বাবুয়ে। টেস্ট শুরুর আগের দিন স্বাগতিক অধিনায়ক মুমিনুল হক বলেছিলেন, ‘এবার আমাদের ব্যাটসম্যানরা তো সেঞ্চুরি করবেই। কেউ দুই-তিনশও করে ফেলতে পারে।’ বাংলাদেশের অধিনায়কের কথার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরি—সবই এসেছে। গতকাল মিরপুরে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন বললেন, ‘অতীতে বাংলাদেশ সফরে আমাদের ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তবে এ ধরনের উইকেটে আমাদের জন্য কাজটা খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল।’ বাংলাদেশের স্পিন বোলিং থেকে সাবধান থাকার কথা ঢাকায় এসেই বলেছিলেন সফরকারী অধিনায়ক আরভিন।

প্রত্যাশামতোই স্পিন ফাঁদ পেতে সফরকারী দলগুলোকে ঘায়েল করার পুরনো ফর্মুলা খুব ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে ইনিংসে পতন হওয়া ২০ উইকেটের মধ্যে ১৫ উইকেট দখল করেছে স্বাগতিক স্পিনাররা। একটি রান আউট। আর বাকি ৪ উইকেট পেসার আবু জায়েদ রাহির।

স্বাগতিকদের কেমন ঘূর্ণিফাঁদ, সেটা অনুধাবন করার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না। ধরা যাক তৃতীয় দিনের শেষ বিকালের কথা। ২৯৫ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করলেন মুমিনুল। মাত্র পাঁচ ওভার ব্যাটিং করল জিম্বাবুয়ে। দিনের শেষ বিকাল। আলো কমে এসেছে। নতুন বল। উইকেট খুব বেশি ঘূর্ণিবান্ধব না হলে এ অবস্থায় অধিনায়কের নতুন বল তুলে দেয়ার কথা পেসারের হাতে। কিন্তু মুমিনুল যা করলেন, সেটাই বাংলাদেশের সেই পুরনো কৌশল। নতুন বলে দুই প্রান্ত থেকেই আক্রমণ শানালেন স্পিনারদের দিয়ে। ফলও হাতে হাতে। মাত্র ৯ রান তুলতেই ২ উইকেট হারাল জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনাররা বোলিং করেছেন ৪৮ দশমিক ৩ ওভার। আর পেসাররা নয় ওভার।

এ অঞ্চলের দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশের এ স্পিন কৌশল যে আর খাটছে না, সেটা এরই মধ্যে প্রমাণিত। ধরা যাক মাস পাঁচেক আগে ঘরের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটির কথাই। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে চার স্পেশালিস্ট স্পিনার খেলিয়েছিল বাংলাদেশ। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্টো বুমেরাং হয়েছিল এ ঘূর্ণিফাঁদ। রশিদ খানের ঘূর্ণিজাদুতে পথ হারিয়েছিল স্বাগতিকরা। ম্যাচে আফগানদের কাছে ২২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারের লজ্জায় ডুবতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।

আফগানদের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর সর্বশেষ পাকিস্তান সফরে একজন স্পেশালিস্ট স্পিনার নিয়ে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর আগে ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে প্রথম টেস্টে দুজন স্পিনার খেলানো হলেও দ্বিতীয় টেস্টে একজন স্পেশালিস্ট স্পিনার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ।

গতকাল ম্যাচ শেষে আরেকটি কথা বলেছেন সফরকারী অধিনায়ক আরভিন। তার ভাষায়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা তো টেস্ট খেলছি না। আমরা তাকিয়ে আছি ভবিষ্যতের দিকে।’ এ ম্যাচের আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল ২০১৮ সালের নভেম্বরে। এরপর মাত্র দুটি টেস্ট সিরিজ খেলেছে জিম্বাবুয়ে। আর এ সময়ের মধ্যে সাতটি টেস্ট সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। মনে রাখতে হবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এ ম্যাচ ২০ টেস্ট চ্যম্পিয়নশিপের বাইরে।

নিজেদের সাম্প্রতিক দুর্দশা আড়াল করার জন্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলার কৌশলে অবশ্যই সফল বাংলাদেশ ক্রিকেট ম্যানেজমেন্ট।

আরও