কভিডজনিত কোয়ারেন্টিন নিয়ম না মানার অভিযোগে পণ্ড হয়ে গেছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার একটি
ম্যাচ। আলবিসেলেস্তেদের চার খেলোয়াড়ের কোয়ারেন্টাইন শর্ত না মানা নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। খেলা শুরুর পর এমন ঘটনা বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেছেন
আকাশি-সাদা জার্সিধারীদের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, খেলা শুরুর ৫
মিনিটের মাথায় ম্যাচটি বন্ধ হয়। ইংলিশ লিগে খেলা আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় এমিলিয়ানো
বুয়েন্দিয়া, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, জিওভানি লো চেলসো ও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর কোয়ারেন্টাইন শর্ত না মানা
নিয়ে এ সমস্যা হয়।
ব্রাজিলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মাঠে ঢুকে পড়ে আর্জেন্টিনার এ চার
খেলোয়াড়কে খুঁজতে থাকেন। পরে কোয়ারেন্টাইন জটিলতার কারণে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত
স্থগিত হয়ে যায়। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক টুইট বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত
করেছে।
এছাড়া, ব্রাজিলে এ চার খেলোয়াড়ের
প্রবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন সেলেকাও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলার আগে
ভেনিজুয়েলার সঙ্গেও ম্যাচ ছিল আর্জেন্টিনার। সে ম্যাচটিতেও কোয়ারেন্টিন মানেননি
তারা।
চারটি দেশ থেকে ব্রাজিলে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করা হয়েছে।
ব্রাজিলিয়ান হেলথ রেগুলেটরি এজেন্সির নির্দেশনা অনুয়ায়ী ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের
ছাড় দেয়া হয়েছে। তবে, তাদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন মানতে হবে। এদিকে, আর্জেন্টিনার ওই
চার খেলোয়ার রেগুলেটরি এজেন্সির নির্দেশনা মানেননি। কোয়ারেন্টিন না মানা ও
স্বাস্থ্য রিপোর্টের ছাড়পত্র দেখাতে না পারার অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে।
এদিকে, খেলা শুরুর পর ব্রাজিলিয়ান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এহেন আচরণ
বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেছেন লিওনেল মেসি। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা খুব
বিব্রতকর। আমরা ব্রাজিলে তিন দিন ধরে আছি। তখন কিছুই হয়নি।’
এছাড়া ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) প্রধান ক্লাওদিয়ো তাপিয়া। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, ‘কোনো সময়েই আমাদের জানানো হয়নি, এরা খেলতে পারবে না। আমরা ম্যাচটা খেলতে চেয়েছিলাম, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররাও।’
এক টুইট বার্তায় দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল
জানিয়েছে, ম্যাচ রেফারি ও ম্যাচ কমিশনার ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে এ নিয়ে
প্রতিবেদন দেবে। তার উপর ভিত্তি করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। এই প্রক্রিয়া
বর্তমান নিয়ম দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করেই এগোবে।