ভারতকে ধরাশায়ী করতে প্রোটিয়াদের 'মাস্টারস্ট্রোক'

বরুনের ওভারে মিলারের ৯৫ মিটার ছক্কা ও ব্রেভিসের 'নো-লুক' সিক্স

মিলারের ৯৫ মিটারের বিশাল ছক্কা আর ব্রেভিসের সেই ট্রেডমার্ক ‘নো-লুক’ সিক্স ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় মুহূর্তেই।

ম্যাচ শেষে মিলার জানান, বরুন বিশ্বমানের বোলার হলেও এবার তাদের কৌশল ছিল ভিন্ন। মিলারের ভাষায়, ‘অতীতে আমরা ওকে খেলতে গিয়ে কিছুটা রক্ষণাত্মক থাকতাম। এবার ঠিক করেছিলাম, খারাপ বল পেলেই তার সদ্ব্যবহার করব। উইকেটে খুব বেশি টার্ন ছিল না, তাই আক্রমণ করায়ই ছিলাম আত্মবিশ্বাসী।‘

২০ রানে ৩ উইকেট নেই! স্কোরবোর্ড দেখে মনে হতেই পারে, ভারত ম্যাচটা পকেটে পুরে ফেলেছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে বরুন চক্রবর্তীকে আক্রমণে আনেন ভারত অধিনায়ক। কাগজে-কলমে, এটাকে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত বলা যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বরুনের পরিসংখ্যান ছিল আকাশছোঁয়া— ৯ টি-২০ ম্যাচে মাত্র ১২.৯১ গড়ে ৩৫ ওভারে শিকার করেছিলেন ২৩টি উইকেট। কিন্তু বাস্তবে, ডেভিড মিলারের পরিকল্পনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

অভিজ্ঞ মিলারের সামনে তখন তিনটি চ্যালেঞ্জ: দলকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা, রানের গতি সচল রাখা এবং তরুণ ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে আগলে রাখা। শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে থাকলেও, বরুণের একটি ‘স্লট’ ডেলিভারিকে গ্যালারিতে পাঠিয়েই খোলস ছেড়ে বের হন মিলার।

আসল তাণ্ডব শুরু হয় বরুনের দ্বিতীয় ওভারে। মিলারের ৯৫ মিটারের বিশাল ছক্কা আর ব্রেভিসের সেই ট্রেডমার্ক ‘নো-লুক’ সিক্স ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় মুহূর্তেই। বরুনের সেই ওভারে আসা ঝোড়ো রান ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে না দিলেও প্রোটিয়াদের নিয়ে আসে ব্যাকফুট থেকে চালকের আসনে।

ভারতীয় পেসার আর্শ্বদিপ সিংয়ের খাটো লেংথের বল মিলার টেনে মারেন বাউন্ডারি লাইনে। অফস্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দরের স্ট্যাম্প-টু-স্ট্যাম্প বলের লেংথ ধরতে পেরেছেন বলেই মিলারের ব্যাটে দেখা যায় চওড়া সুইং। কিন্তু সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে বরুনের দ্বিতীয় ওভারে। মিলারের ৯৫ মিটারের দানবীয় ছয় এবং তারপর ব্রেভিসের একের পর এক সাহসী শট।

প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে খেই হারিয়ে ফেলেন বরুণ চক্রবর্তী। ছবি- ক্রিকইনফো

ম্যাচ শেষে মিলার জানান, বরুন বিশ্বমানের বোলার হলেও এবার তাদের কৌশল ছিল ভিন্ন। মিলারের ভাষায়, ‘অতীতে আমরা ওকে খেলতে গিয়ে কিছুটা রক্ষণাত্মক থাকতাম। এবার ঠিক করেছিলাম, খারাপ বল পেলেই তার সদ্ব্যবহার করব। উইকেটে খুব বেশি টার্ন ছিল না, তাই আক্রমণ করায়ই ছিলাম আত্মবিশ্বাসী।‘

পরিসংখ্যান বলছে, বরুন এদিন ৪ ওভারে ৪৭ রান খরচ করেন। অথচ গতবার একই ভেন্যুতে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। মিলার আউট হওয়ার আগে দলকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে যান। সেখান থেকে অন্তত উইলো প্রশস্ত করতে ভাবতে হয়নি স্টাবস-বসদের।

মিলারের ৪৪ রানের ইনিংসে ভর করে প্রোটিয়ারা জয়ের পথ প্রশস্ত করে। শেষটা রাঙান ট্রিস্টান স্টাবস; ২৪ বলে ৪৪ রানের অপরাজিত ক্যামিওতে তিনি প্রমাণ করেন কেন তাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফিনিশার বলা হয়। ব্রেভিসের ৪৫ এবং স্টাবসের বিধ্বংসী ব্যাটিং নিশ্চিত করে যে, দক্ষিণ আফ্রিকার মিডল অর্ডার এখন তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার এক দুর্ভেদ্য দুর্গ। আর ১৬ বছরের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মিলার দেখালেন, চাপের মুখে কীভাবে শান্ত থেকে বের করে আনতে হয় ‘বিগ ম্যাচ’।

আরও