২০২৪ সালের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বেশকিছু খেলোয়াড়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সেই সংখ্যাটি গত বছরের মতো না হলেও বেশকিছু হাইপ্রোফাইল খেলোয়াড় রয়েছেন এবারের তালিকায়। এ তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম প্যারিস সেন্ট জার্মেই ক্লাবের (পিএসজি) কিলিয়ান এমবাপ্পে।
গত তিন-চার মৌসুম ধরে দলবদল এলেই এমবাপ্পেকে নিয়ে তৈরি হয় নাটকীয়তা। তিনি রিয়াল মাদ্রিদে যেতে চাইলেও প্রতিবার শেষ মুহূর্তে তাকে কোনো না কোনোভাবে আটকে দেয় প্যারিস জায়ান্টরা। ২০২২ সালের গ্রীষ্মে তো তার যাওয়া প্রায় পাকা। যদিও শেষ মুহূর্তে ইউটার্ন করে তিনি পিএসজিতেই থেকে যান। ওই ঘটনায় রিয়াল মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তার ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হন। যদিও ভবিষ্যতের কথা ভেবে সম্পর্কের অবনতি হয়নি।
নতুন আরেকটি মৌসুম সামনে রেখে আবারো তাকে নিয়ে গুঞ্জন, সরগরম দলবদলের বাজার। তিনি পিএসজির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করবেন নাকি অন্য কোথাও যাবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা। এমবাপ্পে বুধবার বলেছেন, ‘পিএসজির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করবেন কিনা, কিংবা কোনো ক্লাবে নাম লেখাবেন, সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেননি।’
ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকা দীর্ঘদিন ধরেই রিয়ালের রাডারে রয়েছেন। গত গ্রীষ্মে তিনি পিএসজির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেননি। ফলে এখন থেকেই তিনি অন্য কোনো ক্লাবে নাম লেখানোর ব্যাপারে কথা বলতে পারবেন। যদিও কোনোটিই চূড়ান্ত করেননি তিনি। বুধবার তুলুজের বিপক্ষে গোল করে পিএসজিকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিততে সাহায্য করার পর এমবাপ্পে দলবদল নিয়ে বলেন, ‘জানি না। আমি এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আমি কোনো কিছু এখনো পছন্দ করিনি। গত গ্রীষ্মে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার যে চুক্তি হয়েছে সেই অনুযায়ী আমরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করব। এখন আমাদের কাছে যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো আমাদের কিছু শিরোপা জিততে হবে এবং আজই আমরা একটি জিতলাম।’
গত মৌসুমে তাকে চুক্তি সইয়ের জন্য প্রচণ্ড চাপ তৈরি করছিল পিএসজি। কাদা ছোড়াছুড়ির পর অনেকটা ‘ব্ল্যাকমেইল’ করে তাকে রেখে দেয় পিএসজি। গুঞ্জন রয়েছেন, তার ‘লয়্যালিটি বোনাস’ ১০ কোটি ডলার আটকে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল পিএসজি। ফলে গত মৌসুমে তিনি ক্লাবটি ছেড়ে যাননি। কিন্তু এবার কী করবে পিএসজি? ২০২৪ সালের জুনেই তো তার সঙ্গে ক্লাবটির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সমীকরণ হলো তিনি যদি স্বেচ্ছায় থেকে না যান, তবে এবার তাকে কোনোভাবেই বাধ্য করতে পারবে না পিএসজি। কারণ চুক্তির মেয়াদই তো শেষ।
এক সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছে, পিএসজির সঙ্গে নতুন চুক্তি সই করা নিয়ে আলোচনার টেবিলে রয়েছেন এমবাপ্পের এজেন্ট।
গত বছর বড় নাটকীয়তা হয় এমবাপ্পেকে নিয়ে। তিনি পিএসজি ছেড়ে চলে যেতে চাইলে তাকে প্রাক-মৌসুম সফর থেকে বাদ দেয়া হয়, এমনকি মূল দলের অনুশীলন থেকেও ব্রাত্য হন। যদিও পরে তিনি থেকে যান এ ক্লাবেই। তখন ধীরে ধীরে সম্পর্কের বরফ গলে। তাকে নিয়েই এখন চলতি মৌসুমে শিরোপা মিশনে রয়েছে প্যারিস জায়ান্টরা।
২০২২ সালের আগস্টে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তিতে সই করেন এমবাপ্পে। চুক্তিটা দুই বছরের। তিনি যদি চুক্তিটা সক্রিয় রাখেন, তবে আরো এক মৌসুম খেলতে পারবেন—সেটাই চুক্তির শর্তে উল্লেখ রয়েছে।
গত গ্রীষ্মে পিএসজি ও এমবাপ্পের টানাপড়েন দেখে খেলোয়াড়টির জন্য বিশ্বরেকর্ড ৩০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়ে বসে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল। প্রস্তাবটি পিএসজি গ্রহণ করলেও প্রত্যাখ্যান করেন এমবাপ্পে। কেননা তিনি মাত্র ২৪ বছর বয়সেই সৌদি আরবের মতো অখ্যাত লিগে নাম লেখাতে চাননি।
অবশেষে বার্সেলোনা থেকে এমবাপ্পের বন্ধু ওসমান দেম্বেলেকে চুক্তিবদ্ধ করায় আর ৯০ মিলিয়ন ইউরোয় নেইমারকে আল হিলালের কাছে ছেড়ে দেয়ার পর মন পাল্টে যায় খেলোয়াড়টির। তিনি থেকে যান। এ সময় তার চুক্তিতে কিছু নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়। যোগ করা হয় তার রিলিজ ক্লজ। অর্থাৎ এখন তিনি চলে গেলে পিএসজি রিলিজ ক্লজের অর্থটা পাবে। রিলিজ ক্লজের অংকটি নিয়ে অবশ্য ধূম্রজাল রয়েছে।
এটা মোটামুটি নিশ্চিত, খুব শিগগিরই রিয়ালের খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন চৌকস স্ট্রাইকার এমবাপ্পে, যদি ক্লাবটি তাকে নিতে সমর্থ হয়।
২০১৭ সালে ১৮ কোটি ইউরো ফি দিয়ে মোনাকো থেকে এমবাপ্পেকে কিনে নেয় পিএসজি। সেই থেকে তিনি ক্লাবটির হয়ে পাঁচটি লিগ শিরোপা জিতেছেন এবং ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ স্কোরার। চলতি মৌসুমে ক্লাবটি লিগ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ দল রিয়াল সোসিয়েদাদের।
এদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের লুকা মডরিচ ও টনি ক্রুসের মতো মিডফিল্ডের দুই অতন্দ্র প্রহরীরও চুক্তির মেয়াদ গ্রীষ্মে শেষ হবে। তারা নিজ থেকে চলে যেতে না চাইলে হয়তো রিয়াল আরো এক মৌসুম রেখে দেবে তাদের।
৩৭ বছর বয়সী মডরিচ এখনো দাপটে খেলে যাচ্ছেন। ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম থেকে রিয়ালে নাম লেখানোর পর বার্নাব্যুতে ১১ বছরে তিনি ২৩টি শিরোপা জিতেছেন। যদিও এখন আর মধ্যমাঠের নেতা নন। তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে তরুণ জুড বেলিংহাম, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, অরেলিয়েন চুয়ামেনি ও ফেদেরিকো ভালভার্দের সঙ্গে। মূল একাদশে সব সময় জায়গাও পান না। এ মৌসুমে ১৫টি লিগ ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই তিনি বদলি হিসেবে খেলেছেন। কাজেই, অন্য কোনো ক্লাবে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না এখনই।
তার তুলনায় বয়সে অনেকটা তরুণ জার্মান মিডফিল্ডার টনি ক্রুস (৩৩ বছর)। তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অনেকটা আগেভাগেই অবসর নিয়েছেন। ক্লাব ফুটবলও তিনি ছেড়ে দেবেন যখন মনে করবেন ফর্ম ও ফিটনেস নিয়ে ধুঁকছেন। খেলোয়াড়টি অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদ থেকেই অবসর নিতে চান। ফলে তিনি ফ্রি এজেন্ট হয়ে পড়লেও অন্য কোনো ক্লাব হয়তো এ থেকে সুবিধা নিতে পারছে না।
এছাড়া টটেনহামের এরিক ডায়ার, জুভেন্টাসের আদ্রিয়ান রাবিও, লিভারপুলের থিয়াগো এ গ্রীষ্মে ফ্রি এজেন্ট হয়ে পড়বেন। ইএসপিএন