ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই—এই বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিল পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু বার্নাব্যুতে অফসাইড-ভিএআর-লাল কার্ডের নাটকীয়তা ভেঙে দিল তাদের স্বপ্ন। প্রথম লেগে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকা সিটি অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের আশা করলেও, শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের দাপটে সেই আশা মরীচিকাই হয়ে রইল। আর এই নাটকের প্রধান চরিত্র—ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র।
ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট যেন ফুটবল নাটকের এক উন্মত্ত অধ্যায়। অফসাইড না অনসাইড—রেফারির দ্বিধা, তারপর হ্যান্ডবলের সিদ্ধান্ত, লাল কার্ড, পেনাল্টি—সব মিলিয়ে যেন মুহূর্তে মুহূর্তে বদলে যাচ্ছিল দৃশ্যপট। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আসে সিটির অধিনায়ক বার্নাদো সিলভার বিপক্ষে—হ্যান্ডবলের জন্য লাল কার্ড এবং রিয়ালের পেনাল্টি। ঠান্ডা মাথায় সেই সুযোগ কাজে লাগান ভিনিসিউস। গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় মাদ্রিদ।
ম্যাচের শুরু থেকেই আগুন ঝরাচ্ছিল সিটি। এরলিং হাল্যান্ডের শট, রদ্রি ও চের্কির প্রচেষ্টা—সবই ঠেকিয়ে দেন দুর্দান্ত থিবো কর্তোয়া। গ্যালারিতে তখন কান ফাটানো শব্দ, যেন সমর্থকদের চিৎকারে কাঁপছে স্টেডিয়াম।
তবুও সিটির প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টিকল না। ভিনিসিউসের পেনাল্টি গোলে সমষ্টিগত স্কোর দাঁড়ায় ৪-০। তবে লড়াই ছাড়েনি সিটি। প্রথমার্ধের শেষদিকে ডান দিক থেকে আসা ক্রসে গোল করে ব্যবধান কমান হাল্যান্ড। একটুখানি আশা জাগিয়ে দেন নীল জার্সিধারীদের মধ্যে।
দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে শেষ চেষ্টা করেছিলেন গার্দিওলা। হাল্যান্ডকে তুলে নিয়ে মারমুশকে নামানোর মতো জুয়াও খেলেছিলেন তিনি, কিন্তু রিয়ালের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডের সামনে তা ধোপে টেকেনি।
ম্যাচের শেষ দিকে ভিনিসিউসের আরো একটি দুর্দান্ত ফিনিশ এবং কিলিয়ান এমবাপের মাঠে উপস্থিতি সিটির বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়। মাঠ ছাড়ার সময় গার্দিওলার কণ্ঠে ভবিষ্যতের উজ্জ্বল আশার কথা শোনা গেলেও, রক্ষণের কঙ্কালসার দশা আর ভিনিসিউসের গতির ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার আক্ষেপটা ঠিকই পোড়াবে ম্যানচেস্টার সিটিকে। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ আরো একবার প্রমাণ করল, ইউরোপের মঞ্চে চাপের মুহূর্তে সাদা জার্সির জাদু এখনো অটুট।