পাঁচবারের ইউরোপ সেরার মুকুটজয়ী বার্সেলোনা আজ রাতে উত্তর ইতালির ঐতিহাসিক সান সিরোতে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় ও নির্ধারক এই লেগ যে নিছক একটি ম্যাচ নয়, সেটি বলাই বাহুল্য—এটা ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো এক যুদ্ধ।
কাতালান জায়ান্টরা এখনো আছে এক অনন্য ট্রেবল জয়ের দৌড়ে—লা লিগা, কোপা দেল রে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ। তবে অলিম্পিক স্টেডিয়ামে প্রথম লেগে ইন্টারের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নিতে পারেনি তারা। ম্যাচটি ড্র হওয়ায় এখন মিলানে গিয়ে ফাইনালের টিকিট ছিনিয়ে আনতেই হবে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যদের।
অন্যদিকে, গত তিন মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো ইউসিএল ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে ইন্টার মিলান। তারা নিজেদের হোম গ্রাউন্ডে এই বার্সার বিপক্ষে ভালো কিছু করার আত্মবিশ্বাস রাখতেই পারে। তাই এমন প্রেক্ষাপটে সান সিরোতে ম্যাচটা হতে যাচ্ছে এক মহাযুদ্ধ—একদিকে পুরো মৌসুম জুড়ে আক্রমণভাগে রোমাঞ্চ ছড়ানো বার্সা। অন্যদিকে অভিজ্ঞতা ও ঘরের মাঠের সমর্থনে ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা ইন্টার।
সার্বিক চিত্র দেখলে আজ রাতে ফল বার্সার অনুকূলে না এলেও চলতি মৌসুমটি বার্সার জন্য এরইমধ্যে রচনা করেছে বিশাল এক সাফল্যের গল্প। লা লিগাসহ ঘরোয়া তিনটি ট্রফিই জয় করলে তার সঙ্গে ধরতে হবে ইউরোপিয়ান আসরে এ পর্যন্ত আসা এবং এ যাত্রায় যে ভয়ডরহীন নতুন ব্র্যান্ডের ফুটবলের সঙ্গে সবাইকে পরিচিত করেছে ব্লগ্রানারা, তাতে ভবিষ্যতের জন্য এই তরুণ দলের ব্যাপারে আশাবাদী না হয়ে উপায় নেই।
তবে বাস্তবতা হলো, সান সিরোর এই ম্যাচে বার্সা নামছে দলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছাড়াই। ডিফেন্সের স্তম্ভ জুলস কুন্দে ও বাঁ ফ্ল্যাঙ্কের আক্রমণাত্মক গতিতারকা আলেহান্দ্রো বালদে নেই দলে। ফলে সাইডলাইন থেকে হান্সি ফ্লিককে নিতে হবে নিখুঁত সিদ্ধান্ত। কারণ ম্যাচটা গড়াতে পারে ১২০ মিনিট বা টাইব্রেকার পর্যন্তও।
লেফট উইংয়ে বালদের না থাকা বার্সার অ্যাটাকিং ভারসাম্যে বড় ফাঁক তৈরি করেছে। অন্যদিকে কুন্দের অনুপস্থিতি মানে লামিন ইয়ামালকে ডানদিকে অনেক কিছুই একা করতে হবে আর সেটাইও তিনজন ইন্টার ডিফেন্ডারের বিপক্ষে। আর সামনে রবার্ট লেভানডোভস্কির থাকা সম্ভব হলেও তাকে পুরো ম্যাচে নির্ভর করার মতো ফিট বলা যাচ্ছে না।
ইন্টার ইতালিতে দারুণ ফর্মে আছে। তাদের ঘরের মাঠ সান সিরোতে প্রতিপক্ষকে তারা চাপে ফেলতে ভালো জানে। দলনেতা ও তারকা স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ না থাকলেও তারা দেখিয়ে দিয়েছে, দলগত ও ব্যক্তিগত প্রতিভা মিলিয়ে তারা ভয়ঙ্কর এক প্রতিপক্ষ।
সিমোনে ইনজাঘির দল জানে কীভাবে বড় ম্যাচ খেলতে হয়। প্রথম লেগে তারা বার্সার হাই লাইনকে ভালোভাবেই ভেঙে দিয়েছে। এই লেগে হয়তো তারা আরো আক্রমণাত্মক হবে— ঘরের মাঠে গর্জে উঠবে হাজারো সমর্থকের সামনে।
ম্যাচের শুরুটা হবে টিকে থাকার লড়াই দিয়ে। প্রথম লেগের ধারাবাহিকতায় ইন্টার প্রথম ২০ মিনিটে তীব্র প্রেস করে ম্যাচের রঙ পাল্টে দিতে চাইবে। সেক্ষেত্রে ইনজুরি-জর্জর বার্সাকে ডিফেন্স জমাট রাখতে হবে এবং কাউন্টার অ্যাটাকে যেন লামিন ইয়ামাল বা গ্যাভি হঠাৎ করে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে, সে ক্ষেত্রও তৈরি রাখতে হবে।
সব কিছুর নিষ্পত্তি হবে ৯০ মিনিটে। আবার হয়তো হবেও না! বার্সার আক্রমণ ও ইন্টারের রক্ষণের লড়াইয়ে ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে থাকবে উত্তেজনা, কৌশল আর সাহসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার চাপ। তাতে ম্যাচ গড়াতে পারে ১২০ মিনিটে। কিংবা সান সিরোয় মঞ্চস্থ হবে টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ।