২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের ফুটবলে ধূমকেতুর মতোই আবির্ভাব ঘটে হামজা চৌধুরীর। ঝাঁকড়া চুলের এ জাদুকর ইংলিশ ফুটবলের সুবাস ছড়িয়ে দেশের ফুটবলের মানচিত্রটাই যেন পাল্টে দিয়েছেন। তার ‘বাংলাদেশ জয়ের’ এক বছর পূর্ণ হলো সম্প্রতি। গত ৩১ মার্চ তিনি সিঙ্গাপুরের মাঠে খেলেছেন এশিয়া কাপ বাছাই পর্বের এবারের মিশনে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটিতেও। এর আগে সুইডেন প্রবাসী ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া এসেছেন। তিনি জাতীয় দলের বর্তমান অধিনায়ক। যদিও হামজা চৌধুরীর মতো উন্মাদনা তৈরি করতে পারেননি জামাল। বাংলাদেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা এখন হামজা চৌধুরী। তিনি ফুটবলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।
হামজার পর এসেছেন কানাডা প্রবাসী শমিত সোম। গত ৯ অক্টোবর ঢাকায় হংকংয়ের বিপক্ষে ইনজুরি টাইমের নবম মিনিটে গোল করে সমতা এনেছিলেন শমিত সোম। সেই গোলে ঢাকার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে যেন সুনামি বয়ে যায়। র্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা হংকংয়ের সঙ্গে ড্রয়ের সম্ভাবনা জাগে। যদিও এর ২ মিনিট পর গোল খেয়ে হেরে বসে বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা ৩-৪ গোলে হারলেও শমিতের সেদিনের পারফরম্যান্স হৃদয় ছুঁয়ে যায় ফুটবলপ্রেমীদের। হামজা ও শমিতই এখন বাংলাদেশ দলের আক্রমণ ভাগের প্রাণ। তাদের হাত ধরেই দেশের ফুটবলে এসেছে নবজাগরণ।
জামাল, হামজা ও শমিতদের দেখানো পথেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের ফুটবলে যুক্ত হয়েছেন দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান আর ইংল্যান্ড প্রবাসী ইব্রাহিম নেওয়াজ। তাদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ভর করেই সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে রাজত্ব ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার রাতে মালে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৪ সালেও অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা উৎসব করেছিল বাংলাদেশের যুবারা। এবার শিরোপার আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছেন দুই সুলিভান। এ আনন্দ ফুটবলে নতুন রত্ন খুঁজে পাওয়ার। পুরো টুর্নামেন্টে আলো কেড়েছেন রোনান সুলিভান। ১২ নম্বর জার্সি গায়ে জড়ালেও মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি ছিলেন খাঁটি ‘নাম্বার নাইন’। খেলেছেনও সেই পজিশনেই।
রোনান সুলিভানের বাবা ব্রেন্ডন ও মা হেইকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও তাদের নানি সুলতানা আলম বাংলাদেশী। সেই সুবাদে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সুলিভান ভাইদের বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার সুযোগ রয়েছে। বাফুফে সুযোগটি কাজে লাগায়।
গত ১৮ মার্চ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে যোগ দেন সুলিভান ভাইয়েরা। মাত্র কয়েক দিনের অনুশীলনে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে রোনান বুঝিয়ে দেন, তিনি বিশেষ কিছুর জন্যই এসেছেন। মালদ্বীপের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জয়ের নায়ক ছিলেন রোনান। দলের ২-০ গোলের জয়ে দুটি গোলই করেছেন তিনি। একটি ফ্রি-কিকে এবং অন্যটি হেডে। সবকিছুতেই তিনি ছিলেন ‘পারফেক্ট’। ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। ওই ড্রতেও অবদান ছিল রোনানের। তার নেয়া কর্নার থেকে সেন্টার ব্যাক রিয়াদ গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন, এনে দিয়েছিলেন এক পয়েন্ট। এরপর নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ও ভারতের বিপক্ষে ফাইনালেও সুলিভানের বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল নজর কেড়েছে দর্শকদের।
বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফদের মতে, রোনানের বড় শক্তি হলো তার ‘গেম সেন্স’ ও দ্রুত মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা। রোনানকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ‘নাম্বার নাইন’ বা স্ট্রাইকার সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান মিলতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক গোলাম রব্বানী ছোটন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন রোনানের। মেয়েদের সাফ জেতানো এ কোচ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রোনান ছেলেটা দারুণ খেলেছে। প্র্যাকটিসে ভালো করতে না পারলেও ম্যাচে অসাধারণ খেলেছে। পরিচর্যা পেলে ভবিষ্যতে অনেক ভালো করবে বলে বিশ্বাস করি।’ তার ভাই ডেকলানকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘ডেকলান সুলিভানও ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবে।’
ইংল্যান্ড প্রবাসী ইব্রাহিম নেওয়াজও বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ফুটবলার। তিনি শুধু প্রথম ম্যাচটা খেলেছেন। টেকনিক্যালি তিনি বেশ ভালো, তবে ফিটনেসে খানিকটা সমস্যা থাকায় পরে আর খেলেননি। সুলিভানের ভাই ডেকলান ফাইনালসহ দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে খেলেছেন। অল্প সময়ে তিনিও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যাশা, আগামীতে এসব প্রবাসী ফুটবলারকে আরো আগে থেকে ক্যাম্পে যুক্ত করতে পারলে দল আরো শক্তিশালী হবে। তাদের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে আগামীর নতুন হামজা চৌধুরী।
বাবা ক্যারিবীয় দেশ গ্রেনাডার নাগরিক। তবে মায়ের জন্মসূত্রে তিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ২০১৬ সালে লেস্টার সিটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের দুই মৌসুম পরে ক্লাবটিতে তার অভিষেক। লেস্টারের হাত ধরে তিনি যখন ইংলিশ ফুটবলের সুপরিচিত তারকা তখনই বাংলাদেশে তার খেলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা ওঠে। তিনি খেলতে পারতেন ইংল্যান্ডের হয়েও। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে তিনি সাতটি ম্যাচও খেলেছেন। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বেছে নেন বাংলাদেশকে। তার আগমনের খবরে বাংলাদেশের ফুটবলে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়।
হামজার অভিষেকের পর বাংলাদেশ খেলেছে দশটি ম্যাচ, যার নয়টিতে খেলেছেন এ কৃতী মিডফিল্ডার। চোটের কারণে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পারেননি। তিনি প্রতিটি ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট করে খেলেছেন এবং এ নয় ম্যাচে করেছেন ৪ গোল। হামজা দলকে এশিয়া কাপে নিতে না পারলেও দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিতে পেরেছেন ঠিকই। খেলোয়াড়রা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। বাছাই পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই সেই আত্মবিশ্বাসের ছাপ ফুটে ওঠে। এমনকি সিঙ্গাপুরের মাঠে শেষ ম্যাচেও দারুণ লড়াই করে হেরেছে হাভিয়ের কাবরেরার দল।
এশিয়া কাপ বাছাই পর্বে ভারতের বিপক্ষে জিতেছে বাংলাদেশ, যা ছিল ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে জয়। এর আগে শিলংয়ে প্রথম লেগে ভারতকে তাদের মাঠেই রুখে দেয় বাংলাদেশ। যেটি ছিল জাতীয় দলে হামজার অভিষেক ম্যাচ। এরপর ঢাকায় দ্বিতীয় লেগে প্রতিবেশী দেশটিকে হারানোর কৃতিত্ব দেখান হামজা ও তার সতীর্থরা। সেই ম্যাচে গোল না করলেও নায়ক ওই হামজা।
ইএসপিএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের হয়ে নিজের প্রথম বছরকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন হামজা। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ! সত্যি বলতে, এটি আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্তগুলোর একটি। অবশ্যই কোয়ালিফিকেশনের ব্যাপারটি আমাদের মাথায় আছে, তবে এ কঠিন শিক্ষাগুলো আমাদের আরো শক্তিশালী করে তুলবে। হারলে সবাই হতাশ হয়, কোচও হতাশ। তবে আমি নিশ্চিত যে আমরা যখন ম্যাচের ভিডিওগুলো আবার দেখব, তখন বুঝতে পারব দল হিসেবে আমরা কতটা উন্নতি করেছি।’
বাংলাদেশের ফুটবলকে এখন এভাবে দেখা যায়—হামজা আসার আগে ও পরের সময়। জাতীয় দলের জার্সিতে হামজার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ছিল এশিয়া কাপ বাছাই পর্ব। এই মিশনে ব্যক্তি হিসেবে তিনি সফল। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই তাকে নিয়ে আতঙ্কিত ছিল প্রতিপক্ষ, তাকে ঘিরে ছিল আলাদা পরিকল্পনা। গোল করা, গোল তৈরি করে দেয়া কিংবা গোল বাঁচানো—তিনি যেন প্রতিটিতেই সিদ্ধহস্ত। খেলেছেন মাঠজুড়েই।
অবশ্য দল হিসেবে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের (১৮১ র্যাংকধারী) গ্রুপে ছিল সিঙ্গাপুর (১৪৭ র্যাংকধারী), হংকং (১৫৫ র্যাংকধারী) ও ভারত (১৩৬ র্যাংকধারী)। এই গ্রুপ থেকে মূল পর্বে উঠেছে সিঙ্গাপুর। বিদায় নিয়েছে বাকি তিন দল। গ্রুপের শেষ নামটি ভারত, তিনে বাংলাদেশ, দুইয়ে হংকং। ২০০০ সাল থেকে এশিয়া কাপের বাছাই পর্ব খেলা বাংলাদেশ এবারই প্রথম গ্রুপের তলানিতে থাকেনি। চলতি আসরে একটি জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ, যা এশিয়া কাপ বাছাই পর্বে নিজেদের ইতিহাসে ৫৩ ম্যাচে তাদের পঞ্চম জয়। কোনো ম্যাচেই এক গোলের বেশি ব্যবধানে হারেনি বাংলাদেশ। এবারের বাছাই পর্বে তলানিতে না থাকার এ সাফল্যের পেছনে বড় কৃতিত্ব হামজার।
আরো ভালো রেকর্ড নিয়ে শেষ হতে পারত বাংলাদেশের বাছাই পর্ব মিশন। হংকংয়ের বিপক্ষে হোম ম্যাচে ইনজুরি টাইমের নবম মিনিটে সমতা আনার পর ১০১তম মিনিটে গোল খেয়ে বসে লাল-সবুজরা। দেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা সেই ম্যাচে দলের প্রতিটি আক্রমণের কেন্দ্রে ছিলেন হামজা। শেষ ম্যাচেও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে দারুণ লড়ে হেরেছে বাংলাদেশ। সামান্য ব্যবধানে হারের প্রসঙ্গে হামজা বলেন, ‘হ্যাঁ, পুরোপুরি সত্য। আমি যে সময় আছি সেই সময়ে এটা আমাদের জন্য বড় এক উল্লম্ফন। সিঙ্গাপুর তো আগেই কোয়ালিফাই করেছে। এমন একটি দলের মাঠে এসে যে ফুটবল আমরা খেলেছি তা নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত। এটা আমাদের পরবর্তী মিশনের জন্য মানসিকভাবে শক্ত একটি অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে।’
সিঙ্গাপুরে ম্যাচের পর জাতীয় দল দেশে ফিরে এসেছে। হামজা ফিরে গেছেন ইংল্যান্ডে, যেখানে লেস্টার সিটির হয়ে খেলেন তিনি। সেখান থেকে ভক্তদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন তিনি। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে হামজা চৌধুরী লিখেছেন, ‘গ্রুপ পর্বের শেষটা যেভাবে চেয়েছিলাম, সেভাবে হয়নি। কিন্তু গত এক বছরে আমরা যতটা এগিয়েছি, তার জন্য আমি খুবই গর্বিত। ইনশাআল্লাহ সামনে আমাদের জন্য অনেক ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। বরাবরের মতোই আপনাদের সমর্থন ছিল অবিশ্বাস্য।’
সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় বাছাই পর্ব যেমনটা শেষ করতে চেয়েছিলেন, তেমনটা হয়নি বাংলাদেশের। কিন্তু সমর্থকদের আশা দেখাচ্ছেন হামজা। গত এক বছরে দলের আমূল পরিবর্তন ও উন্নতির গ্রাফ তাকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। হামজার ভাষায়, ‘অবশ্যই আমরা কোয়ালিফাই করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এ কঠিন শিক্ষাগুলো সবাইকে আরো শক্তিশালী করে তুলবে। এখন হতাশা থাকলেও যখন আমরা পেছন ফিরে আমাদের ম্যাচগুলোর দিকে তাকাব, তখন বুঝতে পারব দল হিসেবে আমরা কতটা উন্নত হয়েছি।’
হামজা কি ভুল বলেছেন? হামজা আসার পর হারানো জৌলুস, মাঠভর্তি দর্শক, স্পন্সর—ফুটবল কেড়েছে সব আলো। হামজার দেখানো পথে এসেছেন শমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলাম, জায়ান আহমেদ। এসব তারকার আগমনে ফুটবলে তৈরি হয়েছে উন্মাদনা। লাল-সবুজদের উন্নতির গ্রাফটাও ঊর্ধ্বমুখী। আগামীতে জাতীয় দলে যুক্ত হবেন রোনান সুলিভানের মতো মেধাবী খেলোয়াড়।
বাছাই পর্বে পাওয়া আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে এবার সাফ জিততে চান হামজা। র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা ভারত, মালদ্বীপ ও নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এ নিয়ে হামজা বলেন, ‘মনে হয় গ্রীষ্মে আমাদের কিছু ফ্রেন্ডলি ম্যাচ আছে। এরপর আমাদের সাফ আছে মনে হয় সেপ্টেম্বরে। আশা করি, আমরা সাফ জিতব। আমি মনে করি, সমর্থক ও আমাদের নিজেদের মধ্যে সেই প্রত্যাশা আমরা তৈরি করতে পেরেছি। এরপর আমরা ২০২৭ মিশন নিয়ে ভাবব। ইনশাআল্লাহ আমরা পরবর্তী এশিয়া কাপে কোয়ালিফাই করব।’
হামজা হয়তো পারবেন দেশকে এশিয়া কাপের মঞ্চে নিয়ে যেতে। তিনি না পারলেও উঠতি তারকা রোনান সুলিভানদের হাত ধরে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে লাল-সবুজদের।