আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভারত সফর নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কাটাতে চলতি সপ্তাহেই ঢাকায় আসছে আইসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আগামী সাত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের বাকি আর মাত্র তিন সপ্তাহ। এই সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসবে বিশ্ব ক্রিকেটের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। খবর ইএসপিএনক্রিকইনফো।
বিসিবি শুরু থেকেই ‘নিরাপত্তাশঙ্কা’র কারণ দেখিয়ে সহ-আয়োজক ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার অবস্থানে অনড় রয়েছে। এতদিন পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সব আলোচনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হলেও, এবারই প্রথম আইসিসি প্রতিনিধি দল সশরীরে বিসিবির মুখোমুখি হচ্ছে। এই সফরে আইসিসি বিসিবিকে একটি স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নসহ বিস্তারিত তথ্য প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় বিসিবি গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানায়। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর সময় খুব কাছে হওয়ায় আইসিসি মূল সূচিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, উদ্বোধনী দিনেই (৭ ফেব্রুয়ারি) কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে।
সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গত ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠায় বিসিবি। সেখানে বলা হয়, ভারতের চারটি ভেন্যুতে বাংলাদেশের খেলা নিরাপদ হবে না। এ চিঠির পেছনে একটি বড় কারণ ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশী বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশ।
এদিকে, ইএসপিএনক্রিকইনফোর হাতে আসা একটি স্বাধীন নিরাপত্তা সংস্থার ‘রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে দলগুলোর জন্য হুমকির মাত্রা ‘মাঝারি-উচ্চ’ পর্যায়ের। তবে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকির তথ্য নেই।
আইসিসি এরইমধ্যে এ রিপোর্টটি বিসিবির সঙ্গে শেয়ার করেছে। সেখানে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি কোনো হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কিছু ভেন্যুতে ঝুঁকি ‘নিম্ন থেকে মাঝারি’ এবং কোথাও ‘একেবারেই নেই’। আইসিসির মানদণ্ড অনুযায়ী, ম্যাচ স্থানান্তরের জন্য এই কারণগুলো যথেষ্ট নয়।
চলতি সপ্তাহের এই সরাসরি বৈঠকই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারত সফরে যাবে কি না।