প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তারে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ডিজিটাল যুগে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, ইউটিউবের মতো প্লাটফর্মগুলো। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৫২২ কোটি মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় রয়েছে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬৩ দশমিক ৮ শতাংশের সমান। ২০২৮ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৬০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছে জার্মানভিত্তিক অনলাইন প্লাটফর্ম স্ট্যাটিস্টা।
সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় ৫৯ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করত। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী মোবাইল ডিভাইস সহজলভ্য হওয়ায় অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা দেশগুলোয়ও ধীরে ধীরে ব্যবহারকারী বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা একটি বড় অংশই স্মার্টফোন ব্যবহারকারী।
ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা, বিনোদন, এমনকি রাজনৈতিক প্রচারসহ প্রতিটি খাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে সবটাই ইতিবাচক নয়। অতিরিক্ত সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটানোর ফলে অনেক ব্যবহারকারী বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এছাড়া ভুল তথ্য, গুজব ছড়ানো, সাইবার হামলা ও হেনস্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ছে বলে মত মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের।
ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বজুড়ে ২১ কোটি মানুষ সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত। এ আসক্তিতে মানসিক স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবন উল্লেখযোগ্যভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে অনেকের, বিশেষ করে তরুণদের।
এদিকে স্ট্যাটিস্টার পরিসংখ্যান বলছে, গড় হিসেবে একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতিদিন প্রায় ১৫১ মিনিট, অর্থাৎ আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপে ব্যয় করে। ২০১৫ সালের তুলনায় সময়টি ৪০ মিনিট বেশি।
ভিন্ন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী প্রতি মাসে প্রায় সাতটি ভিন্ন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে। এর মধ্যে কিশোর-কিশোরী ও তরুণরা প্রতিদিন গড়ে ৭ ঘণ্টা ২২ মিনিট ও ৮-১২ বছর বয়সী শিশুরা গড়ে ৪ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট স্ক্রিনের সামনে কাটায়।
সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয় প্লাটফর্ম মেটা মালিকানাধীন ফেসবুক। বর্তমানে ৩০৭ কোটির বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ সামাজিক নেটওয়ার্ক এটি।
এছাড়া প্লাটফর্মটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে ২৫-৩৪ বছর বয়সীরা, যা ফেসবুকের মোট ব্যবহারকারীর প্রায় ৩০ শতাংশ।
একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে শুধু তরুণদের প্লাটফর্ম হিসেবেই ধরা হতো। কিন্তু প্রযুক্তি ব্যবহার সহজ হওয়া ও সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার প্রবণতা বাড়ায় এখন প্রবীণরাও ডিজিটাল জগতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছেন। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে অনেকেই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্লাটফর্ম ব্যবহার করছেন নিয়মিত।