রাষ্ট্রায়ত্ত হ্যাকিং প্রতিরোধে অ্যাপলের নতুন মোড লকডাউন

দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সমাজসেবক, মানবাধিকারকর্মীসহ জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষায় আইফোনের জন্য লকডাউন মোড চালুর ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত যেকোনো সাইবার হামলা প্রতিহত করা যাবে। খবর সিএনবিসি।

দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সমাজসেবক, মানবাধিকারকর্মীসহ জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষায় আইফোনের জন্য লকডাউন মোড চালুর ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত যেকোনো সাইবার হামলা প্রতিহত করা যাবে। খবর সিএনবিসি।

নতুন লকডাউন মোডটি আইফোনের একাধিক ফিচার বন্ধ করার মধ্য দিয়ে স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে ডিভাইসটি সহজে খুঁজে পাওয়ার মাত্রা কমিয়ে দেয়। এতে হ্যাকাররা যেসব ফিচারের মাধ্যমে ডিভাইসে প্রবেশের মধ্য দিয়ে তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে, সেগুলো সীমিত করে দেয়। মূলত এটি আইমেসেজের প্রিভিউ ফিচার, সাফারি ব্রাউজারের জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহারের সক্ষমতা কমানো, নতুন ইউজার প্রোফাইল ইনস্টল না করা এবং ওয়্যারড কানেকশন তৈরির পথ বন্ধ করে দেয়। এছাড়া ডিভাইসের তথ্য কপি নিয়ন্ত্রণ, ফেসটাইমসহ অ্যাপলের যেকোনো সার্ভিস রিকোয়েস্ট বন্ধ করে দেয়। যদি কোনো গবেষক লকডাউন মোডে কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে পায়, তাহলে কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি ২০ লাখ ডলার প্রদান করবে।

কয়েক মাস আগে রাষ্ট্রায়ত্ত হ্যাকাররা কিছু আইফোনে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে জিরোক্লিক আক্রমণ পরিচালনার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর অ্যাপল নতুন এ ঘোষণা দিয়েছে। ভুক্তভোগী যদি সেই মেসেজে ক্লিক না করে, তাহলেও হ্যাকাররা হামলা সম্পন্ন করতে পারবে। এ সমস্যা সমাধানে অ্যাপল দেশটির প্রশাসনের ক্রমাগত চাপের মুখে ছিল। মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা আক্রমণের বিস্তারিত তথ্য প্রদানে চাপ প্রয়োগ করে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আক্রমণ শনাক্ত করতে পেরেছে কিনা, কতগুলোর বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে এবং কবে সংঘটিত হয়েছে, সে-সংক্রান্ত তথ্যের জন্যও চাপ দেয়।

বিশ্বে অধিকাংশ সাইবার হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হ্যাকাররা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই কাজ করে। এছাড়া ভুক্তভোগী যেন আক্রমণকারীদের কাছে পাসওয়ার্ড জাতীয় তথ্য কিংবা অর্থসংক্রান্ত অ্যাকাউন্টের প্রবেশাধিকার দেয়, সেজন্য ম্যালওয়্যার প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালিত যেসব সাইবার হামলা প্রতিরোধে লকডাউন মোড আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ আলাদা। এসব হ্যাকার এমন সব ব্যয়বহুল টুল ব্যবহার করে, যেগুলো মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান বা সার্বভৌম সরকারের কাছে বিক্রি করা হয়। হামলার পর তারা বাগের মাধ্যমে আইফোনের অপারেটিং সিস্টেমে প্রবেশ করতে চায়। সেখান থেকে হ্যাকাররা মাইক্রোফোন বা ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা ব্রাউজার ও যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।

নির্ধারিত সংখ্যক ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপল লকডাউন মোড নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে যারা মনে করে তাদের ওপর রাষ্ট্রায়ত্ত হ্যাকাররা আক্রমণ চালাতে পারে এবং যাদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রয়োজন। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যানুযায়ী, মিলিটারি গ্রেডে স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে আক্রমণের তালিকায় সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা রয়েছে।

অ্যাপলের সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেকচার বিভাগের প্রধান ইভান ক্রিসটিক বলেন, যেহেতু সব ব্যবহারকারী বড় ধরনের সাইবার হামলার ঝুঁকিতে নেই, তাই যারা ভুক্তভোগী হওয়ার তালিকায়, তাদের সুরক্ষা প্রদানে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।

বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের ভাড়াটে স্পাইওয়্যার রয়েছে। তবে সবচেয়ে পরিচিত হচ্ছে ইসরায়েলের এনএসও গ্রুপ নির্মিত পেগাসাস। সম্প্রতি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষকরা এক জরিপের মাধ্যমে দেখতে পান এসব স্পাইওয়্যারের ডকুমেন্টেড ভার্সন আইফোনকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে আক্রমণের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এনএসও গ্রুপ সবসময়ই বলে এসেছে বিভিন্ন দেশের সরকার সন্ত্রাসীদের দমনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।

আরও