আসক্তির ঝুঁকি: টিকটককে নকশা বদলের নির্দেশ ইইউর

ইইউর এক সিদ্ধান্তে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, টিকটকের বর্তমান ‘অ্যাডিক্টিভ ডিজাইন’ বা আসক্তিমূলক নকশা ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) লঙ্ঘন করেছে। কমিশনের মতে, অ্যাপটির বিশেষ কিছু ফিচার ব্যবহারকারীদের মধ্যে নেশার মতো আসক্তি তৈরি করছে।

জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম টিকটককে অ্যাপের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য করতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ব্লকটির ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

সম্প্রতিই ইউর এক সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, টিকটকের বর্তমান ‘অ্যাডিক্টিভ ডিজাইন’ বা আসক্তিমূলক নকশা ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) লঙ্ঘন করেছে। কমিশনের মতে, অ্যাপটির বিশেষ কিছু ফিচার ব্যবহারকারীদের মধ্যে নেশার মতো আসক্তি তৈরি করছে।

বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে প্লাটফর্মটিতে। ইউরোপীয় কমিশনের দাবি, অ্যাপের নকশা বা ডিজাইন ব্যবহারকারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও মানসিকভাবে সংবেদনশীল প্রাপ্তবয়স্কদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে, টিকটকের ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ (একটানা ভিডিও আসা), অটোপ্লে ও পারসোনালাইজড অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের মস্তিষ্ককে অনেকটা ‘অটোপাইলট’ মোডে নিয়ে যায়। ফলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দীর্ঘ সময় অ্যাপে বুঁদ হয়ে থাকেন।

ইইউ জানিয়েছে, টিকটকের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যবহারকারীদের কাছে কনটেন্ট পৌঁছে দেয়ার শক্তিশালী ‘অ্যালগরিদম’ পরিবর্তনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, টিকটকের সেবার মৌলিক নকশায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, পর্যায়ক্রমে ‘ইনফিনিট স্ক্রল’-এর মতো প্রধান আসক্তিমূলক ফিচারগুলো বন্ধ করা, রাতের সময়সহ কার্যকর ‘স্ক্রিন টাইম ব্রেক’ ব্যবস্থা চালু করা এবং কনটেন্ট সাজেশনের পদ্ধতিটি পরিবর্তন করা জরুরি।

আরও