ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলের করা মামলা নিষ্পত্তিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে মেটা। পাশাপাশি কিশোর ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় প্লাটফর্ম দুটিতে দৈনিক ব্যবহারের সময়সীমা ও রাতে প্রবেশে বিধিনিষেধসহ বেশকিছু নতুন ব্যবস্থা চালু করতে হবে প্রযুক্তি জায়ান্টটিকে।
সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং তিনটি মার্কিন অঞ্চল অর্থ পাবে। ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের এ অর্থ ১০ বছরে বার্ষিক কিস্তিতে পরিশোধ করবে মেটা। অঙ্গরাজ্যগুলো অনলাইনে তরুণদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্যোগসহ অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক খাতে অর্থটি ব্যবহার করতে পারবে।
মেটার বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি শিশু ও কিশোরদের আকৃষ্ট করে প্লাটফর্মে দীর্ঘ সময় আটকে রাখতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে এসব প্লাটফর্ম যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে, তা উপেক্ষা করা হয়েছে। মেটা শিশুদের গোপনীয়তাসংক্রান্ত একাধিক ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য আইন লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ আনা হয়।
তবে সমঝোতায় রাজি হলেও কোনো ধরনের অনিয়মের কথা স্বীকার করেনি মেটা।
চুক্তি অনুযায়ী, কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতিদিন প্লাটফর্ম ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রবেশ বন্ধ রাখার ব্যবস্থাও চালু করতে হবে। এছাড়া স্কুল চলাকালে শিশুদের ব্যবহার সীমিত করা, অভিভাবকদের জন্য আরো শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালুর বাধ্যবাধকতা থাকবে।
সমঝোতাকে ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান শোয়ালব। তিনি বলেন, ‘মেটাকে যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে হবে, সেগুলো তরুণরা কীভাবে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ব্যবহার করে, তাতে মৌলিক ও তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনবে।’
এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন ও কিশোরদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে চলা উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ৫২ জন অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে এ চুক্তি করা হয়েছে।
তবে শুধু মেটা নয়, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্লাটফর্মেও কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আইন কর্মকর্তা সিজে মাহোনি। তার ভাষায়, মেটার নতুন সময়সীমা, নাইট মোড ও স্কুল চলাকালে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা পুরো শিল্পের জন্য সঠিক পথ দেখাবে। তবে অন্য প্লাটফর্মগুলো একই উদ্যোগে যুক্ত হলেই এ কাঠামো কার্যকর হবে।