কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠানগুলো লেখকদের কাজ অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করছে- এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার লেখক একটি ‘ফাঁকা’ বই প্রকাশ করেছেন। বইটিতে কোনো লেখা নেই। এতে শুধু অংশ নেয়া লেখকদের নামের তালিকা রাখা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা কপিরাইট আইন আরো শক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
‘ডোন্ট স্টিল দিস বুক’ নামে এ উদ্যোগে নোবেলজয়ী লেখক কাজুও ইশিগুরো, ঔপন্যাসিক ফিলিপা গ্রেগরি ও রিচার্ড ওসমানসহ প্রায় ১০ হাজার লেখক তাদের নাম যুক্ত করেছেন। বইটির কপি লন্ডন বইমেলায় দর্শকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
লেখকদের অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমতি বা পারিশ্রমিক ছাড়াই বিপুল পরিমাণ বই ও সৃজনশীল কাজ ব্যবহার করছে। এ কর্মসূচির অন্যতম সংগঠক সুরকার ও কপিরাইট আন্দোলনকর্মী এড নিউটন-রেক্স বলেন, এআই শিল্প অনেকাংশে চুরি করা কাজের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তার মতে, লেখকদের অনুমতি বা অর্থ ছাড়াই তাদের কাজ ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, এটি ক্ষতিহীন নয়। কারণ যেসব সৃজনশীল কাজ দিয়ে এআই মডেল প্রশিক্ষিত হয়, সেই একই মানুষের সঙ্গে পরে এসব প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা করে। এতে লেখকদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ বইয়ে আরো নাম যুক্ত করেছেন ‘স্লো হর্সেস’ উপন্যাসের লেখক মিক হেরন, লেখক মেরিয়ান কিজ, ইতিহাসবিদ ডেভিড অলুসোগা এবং ‘নটস অ্যান্ড ক্রসেস’ সিরিজের লেখক ম্যালোরি ব্ল্যাকম্যান।
ব্ল্যাকম্যানের মতে, লেখকদের বই ব্যবহার করলে এআই কোম্পানিগুলোর উচিৎ তার জন্য লেখকদের সম্মানি দেয়া। আর এটা লেখকদের স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
লন্ডন বইমেলায় প্রকাশনা খাত থেকেও এআই ব্যবহারের জন্য একটি লাইসেন্স ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রকাশকদের লাইসেন্সিং সেবা নামে একটি অলাভজনক সংস্থা এ উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে বই ব্যবহারের জন্য বৈধ অনুমতির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।