গণিতের কঠিনতম সমস্যা সমাধান, ‘এআই গণিতবিদ’ বানাচ্ছেন স্ট্যানফোর্ড 'ড্রপআউট'

এ স্টার্টআপ এরইমধ্যে ৬৪ মিলিয়ন ডলারের (৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার) প্রাথমিক তহবিল সংগ্রহ করেছে, যার বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

হং-এর লক্ষ্য হলো এমন একটি 'এআই গণিতবিদ' তৈরি করা, যা শুধু জটিল প্রশ্ন সমাধানই করবে না, বরং ধাপে ধাপে সমাধানের প্রমাণও তৈরি করতে পারবে এবং নিজের কাজের ভুলও যাচাই করতে পারবে।

গণিতের জগৎকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার লক্ষ্যে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির পিএইচডি শিক্ষার্থী কারিনা হং তার পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন। বিশ্বের কঠিনতম গাণিতিক সমস্যা সমাধান এবং নতুন সমস্যা আবিষ্কারের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন 'অ্যাক্সিওম ম্যাথ' নামে একটি স্টার্টআপ। তার এ স্টার্টআপ এরইমধ্যে ৬৪ মিলিয়ন ডলার (৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার) প্রাথমিক তহবিল সংগ্রহ করেছে, যার বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

হং-এর লক্ষ্য হলো এমন একটি 'এআই গণিতবিদ' তৈরি করা, যা শুধু জটিল প্রশ্ন সমাধানই করবে না, বরং ধাপে ধাপে সমাধানের প্রমাণও তৈরি করতে পারবে এবং নিজের কাজের ভুলও যাচাই করতে পারবে। তিনি আশা করেন, মডেলটি একসময় এমন সব ধারণা ও তত্ত্ব প্রস্তাব করবে যা আপাতদৃষ্টিতে সত্য হলেও এখনো গাণিতিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

২৪ বছর বয়সী হং বেড়ে উঠেছেন চীনের গুয়াংঝুতে। তিনি ফোর্বসকে বলেন, 'সুপার-ইন্টেলিজেন্স তৈরির জন্য গণিত হলো নিখুঁত খেলার মাঠ।'

মাত্র এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে কারিনা হং তার এই নতুন সংস্থার জন্য মেটার ফান্ডামেন্টাল এআই রিসার্চ ল্যাব থেকে অভিজ্ঞ টেক বিশেষজ্ঞদের একটি শক্তিশালী দল তৈরি করেছেন। দলের প্রধান সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ফ্রাঁসোয়া চার্টন ও আরাম মার্কোস্যান।

ফ্রাঁসোয়া চার্টন এর আগে মেটায় এআই দ্বারা গণিত ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং গত বছর ১০০ বছরের পুরনো একটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান করেছিলেন। আরাম মার্কোস্যান মেটার একজন প্রখ্যাত এআই গবেষক। তিনি অ্যাক্সিওমের এই গাণিতিক আবিষ্কারের উদ্দেশ্যকে তাদের কাছে প্রধান আকর্ষণ বলে মনে করেন।

মেটা তাদের শীর্ষস্থানীয় এআই কর্মীদের ধরে রাখতে ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেতনের প্যাকেজ দিচ্ছে। তবুও অনেক গবেষকই অ্যাক্সিওমের এই নতুন গবেষণার আকর্ষণে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়েছেন।

কারিনা হং-এর প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকায় রয়েছে এআই-এর বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং গুগল ডিপমাইন্ড। এ প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে ছয়টির মধ্যে পাঁচটি অত্যন্ত কঠিন প্রশ্নের সমাধান করে 'স্বর্ণপদক'-এর সমতুল্য স্কোর অর্জন করেছে। তবে হং বিশ্বাস করেন, এ ধরনের পরীক্ষাভিত্তিক স্কোর আসল গবেষণামূলক গণিতকে প্রতিফলিত করে না।

প্রাথমিকভাবে অ্যাক্সিওম গণিতের নতুন সমস্যা খুঁজে বের করা এবং সেগুলোর সঠিক সমাধান করতে পারে এমন মডেল তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে। তবে গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে তাদের এই কাজ আর্থিক গণনা, বিমানের নকশা, চিপ স্থাপত্য এমনকি কোয়ান্টেটিভ ট্রেডিংয়ের মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। বি ক্যাপিটালের অংশীদার ইয়ান-ডেভিড এরলিখ বলেন, 'বাস্তবতাকে মডেলে রূপান্তর করা এবং তারপর সেগুলোর সমাধান করতে পারা মানব জ্ঞানের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'

উল্লেখ্য, কারিনা হং এমআইটি থেকে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক এবং অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি তার অসাধারণ গবেষণার জন্য সম্মানজনক ফ্রাঙ্ক অ্যান্ড ব্রেনি মর্গান পুরস্কারও পেয়েছিলেন।

ফোর্বস অবলম্বনে

আরও