বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ডাটা সেন্টার ‘সুপারক্লাস্টার’ তৈরির পরিকল্পনা মাইক্রোসফটের

আগামী প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিশাল মডেলে ব্যবহার হবে শত ট্রিলিয়নের বেশি প্যারামিটার।

আগামী প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিশাল মডেলে ব্যবহার হবে শত ট্রিলিয়নের বেশি প্যারামিটার। এসব মডেলের প্রশিক্ষণে শুধু বড় ও দক্ষ ডাটা সেন্টারই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট। তাই কোম্পানিটি দূরবর্তী অবস্থানে থাকা ডাটা সেন্টারগুলোকে একে অন্যের সঙ্গে হাই-স্পিড ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত করছে। এ নেটওয়ার্ক হাজার মাইল দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে, যার মূল উদ্দেশ্য এআই মডেল চালাতে প্রয়োজনীয় উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং শক্তি নিশ্চিত করা। খবর দ্য রেজিস্টার।

প্যারামিটার হলো কোনো মডেল বা সিস্টেমের ঠিক করা মান, যা এর কাজের ফলাফল নির্ধারণ করে। প্যারামিটার যত বেশি হয়, এআই মডেল তত ভালোভাবে বিশ্লেষণ ও যুক্তি প্রদর্শন করতে পারে।

মাইক্রোসফটের এ মাল্টি-ডাটা সেন্টার সুপারক্লাস্টার উদ্যোগের প্রথম পদক্ষেপ গত অক্টোবরে চালু হয়েছে। যেখানে দুটি পৃথক ডাটা সেন্টারকে একটি বড় কম্পিউটিং নেটওয়ার্কে একত্র করা হয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য উইসকনসিনের মাউন্ট প্লিজেন্টের ডাটা সেন্টারকে জর্জিয়ার আটলান্টার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে উভয় কেন্দ্র একসঙ্গে কাজ করতে পারছে। তবে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই ডাটা সেন্টারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি মাইক্রোসফট। উল্লেখ্য, দুই কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় এক হাজার কিলোমিটার।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মাসে সিসকো একটি ৫১ দশমিক ২ টিবিপিএস সক্ষমতার রাউটার উন্মোচন করেছে, যা প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের এআই ডাটা সেন্টার সংযুক্ত করতে সক্ষম। একইভাবে ব্রডকমের নতুন হার্ডওয়্যারটি একই কাজ এবং অনুরূপ ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করতে ডিজাইন করা হয়েছে।

সফটওয়্যার জায়ান্টটি জানিয়েছে, কোম্পানির লক্ষ্য ভবিষ্যতে এআই-ভিত্তিক কাজগুলো একাধিক ডাটা সেন্টারে বিস্তৃত করা। এক্ষেত্রে মাইক্রোসফট এমন প্রক্রিয়া ব্যবহার করবে, যা বর্তমানে বহু সার্ভারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং এবং এআই কাজের জন্য ব্যবহার হয়। ফলে বিশাল এআই মডেলগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যাবে।

মাইক্রোসফট এসব বিশেষ ডাটা সেন্টার বা সুপারক্লাস্টারকে ‘ফেয়ার ওয়াটার’ নামে উল্লেখ করেছে। দোতলা উঁচু এসব ডাটা সেন্টার ডিরেক্ট টু-চিপ লিকুইড কুলিং (সরাসরি চিপ ঠাণ্ডা করার প্রযুক্তি) ব্যবহার করে। ফলে পানির ব্যবহার হয় না বললেই চলে।

মাইক্রোসফট অ্যাজুরের সিটিও মার্ক রাসিনোভিচ বলেন, ‘এআইয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হলে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য বড় এবং আরো বড় অবকাঠামো প্রয়োজন। আধুনিক এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য শুধু একটি বা দুটি ডাটা সেন্টার নয়, বরং একাধিক কেন্দ্র একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।’

মাইক্রোসফটের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে কোম্পানির ডাটা সেন্টার নেটওয়ার্কে শত শত হাজার বৈচিত্র্যময় জিপিইউ থাকবে। আটলান্টার ডাটা সেন্টারের জন্য এনভিডিয়ার জিবি২০০ এনভিএল৭২ র‍্যাক সিস্টেম ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে কোম্পানিটি।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, মাইক্রোসফট নিজেদের বিভিন্ন ডাটা সেন্টারকে সংযুক্ত করে বড় এআই মডেল প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম হবে। এছাড়া কোনো একটি কেন্দ্র থেকে সরাসরি সব কাজ চালানো বাধ্যতামূলক হবে না। ফলে নতুন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সর্বোত্তম স্থান বেছে নিতে পারবে কোম্পানিটি, যেখানে ভূমির খরচ কম, জলবায়ু ঠাণ্ডা এবং প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ শক্তি পাওয়া যায়।

আরও