চাঁদে বিস্তৃত ঘাঁটি নির্মাণের অংশ হিসেবে ল্যান্ডার, রোভার ও ড্রোনের ক্রয়াদেশ দেয়া শুরু করেছে নাসা। রেকর্ড গড়া আর্তেমিস টু মিশনের দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এসব পদক্ষেপের তথ্য সামনে এল। খবর এপি।
সংস্থাটি গতকাল চাঁদের ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনার প্রথম ধাপের রূপরেখা প্রকাশ করে। এর আওতায় চারটি মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে শত শত মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে।
খবর অনুসারে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি এলাকায় চন্দ্রযান বা মুন বাগি পৌঁছে দিতে দুটি ল্যান্ডার সরবরাহ করবে ব্লু অরিজিন। লুনার টেরেইন ভেহিকল তৈরি করবে অ্যাস্ট্রোল্যাব ও লুনার আউটপোস্ট। আর গত বছর সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করা ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেস প্রথমবার চাঁদে ড্রোন পাঠানোর দায়িত্ব পেয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম আর্তেমিস নভোচারীরা চাঁদে অবতরণের আগেই এই সরঞ্জামগুলো সেখানে পৌঁছে যাবে। সেই অবতরণ ২০২৮ সালেই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত এপ্রিলে পরিচালিত আর্তেমিস টু মিশনে চার নভোচারী চাঁদ প্রদক্ষিণ করেন। তারা ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের অ্যাপোলো প্রোগ্রামের নভোচারীদের চেয়েও গভীর মহাকাশে পৌঁছান।
আগামী বছরের আর্তেমিস থ্রি মিশনে আরেক দল নভোচারী পৃথিবীর কক্ষপথে ওরিয়ন ক্যাপসুলকে ক্রু পরিবহনের জন্য তৈরি লুনার ল্যান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত করার মহড়া চালাবেন। এ ল্যান্ডার তৈরি করছে ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্স।
নাসা ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে আর্তেমিস থ্রি অভিযান পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েছে। এরপর ২০২৮ সালেই দুই নভোচারীর চাঁদে অবতরণ হতে পারে।
চাঁদের ঘাঁটির দ্বিতীয় ধাপ ২০২৯ সাল থেকে ২০৩০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত চলবে, সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বা পাওয়ার গ্রিডও থাকবে। আর বিশেষায়িত স্থায়ী আবাসে দীর্ঘ সময় নভোচারীদের অবস্থান নিশ্চিত করার মতো পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি ২০৩০-এর দশকে, অর্থাৎ তৃতীয় ধাপে বাস্তবায়িত হতে পারে।
নাসার চাঁদ ঘাঁটি কর্মসূচির নির্বাহী কার্লোস গার্সিয়া-গালান বলেন, ‘তখন আমরা বলতে পারব, “আমরা স্থায়ীভাবে এখানে আছি এবং ছেড়ে যাচ্ছি না”।’
গার্সিয়া-গালান এমন একটি চাঁদ ঘাঁটির কল্পনা করছেন, যা শত শত বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হবে। এর সীমানার চার কোণায় থাকবে ‘মুনফল’ নামে ড্রোন।
নাসার প্রশাসক জারেড আইজাকম্যান বলেন, এই সীমানা চিহ্নগুলো অন্য দেশের মহাকাশযান ও সরঞ্জামের প্রতি সম্মান দেখানোর উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হবে। একই ধরনের আচরণ অন্যদের কাছ থেকেও প্রত্যাশা করেন তিনি।
আইজ্যাকম্যান জোর দিয়ে বলেন, এ ঘাঁটির লক্ষ্য হলো চাঁদভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ মঙ্গল অভিযান পরিচালনার ভিত্তি তৈরি।
তার ভাষায়, ‘যারা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন, তাদের জন্য বলছি— মহাকাশে মহা প্রত্যাবর্তন খুব কাছেই। আমরা গতি কমাব না। আমরা আসলে মাত্র শুরু করেছি।’