নিউজিল্যান্ডের আকাশে বিরল ধূমকেতু, ফের দেখা মিলবে পৌনে ২ লাখ বছর পর

সৌরজগতের প্রান্তবর্তী বরফ আচ্ছাদিত অঞ্চল ওর্ট ক্লাউড থেকে এসেছে ধূমকেতুটি। ২০২৫ সালে এটি আবিষ্কৃত হয়। এটি একটি লং-পিরিয়ড কমেট, যা সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বছর সময় নেয়, যদি না এর আগে ভেঙে যায়

সৌরজগতের দূরবর্তী প্রান্তে গঠিত একটি বিরল ধূমকেতু আগামী দুই সপ্তাহ দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশ আলোকিত করবে। এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য সুযোগ। কারণ মহাজাগতিক এ বস্তুকে ফের পৃথিবী থেকে দেখা যেতে পারে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বছর পর। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ধূমকেতুটির নাম সি/২০২৫ আর৩ প্যানএসটিএআরআরএস। এটি আগে উত্তর গোলার্ধে দৃশ্যমান ছিল। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এখন দক্ষিণ আকাশে দৃশ্যমান হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডের টে হোয়াটু স্টারডোমের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জশ আওরাকি।

তিনি জানান, ধূমকেতুটি যথেষ্ট উজ্জ্বল হলেও খালি চোখে দেখা কঠিন। এটি দেখতে হলে দূরবীন, টেলিস্কোপ বা ক্যামেরার সাহায্য নিতে হবে।

‘এটি খালি চোখে দেখার মতো উজ্জ্বল নয়। তবে ছবি তোলার জন্য যথেষ্ট সহজ একটি অবজেক্ট’, বলেন আওরাকি।

আগামী দুই সপ্তাহে ধূমকেতুটির উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে কমে যাবে। তাই নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দর্শকদের দ্রুতই এটি দেখার চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ধূমকেতুটি দেখতে চাইলে সূর্যাস্তের ঠিক পরপরই পশ্চিম দিগন্তের পরিষ্কার ও বাধাহীন দৃশ্য বেছে নিতে হবে। সূর্য ডোবার পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই এটি সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে।

পর্যবেক্ষকরা এ সময় আকাশে নীল-সবুজ আভাযুক্ত একটি গোলক দেখতে পাবেন—এটি হলো ধূমকেতুর নিউক্লিয়াস ঘিরে থাকা অস্থায়ী গ্যাসের স্তর, যাকে বলা হয় ‘কোমা’। এর সঙ্গে থাকবে ঝাপসা একটি লেজ। আওরাকি বলেন, ‘কোমা আর লেজ মিলিয়ে এটি আকাশে ছোট, ঝাপসা উল্কার মতো দেখায়।’

সৌরজগতের প্রান্তবর্তী বরফ আচ্ছাদিত অঞ্চল ওর্ট ক্লাউড থেকে এসেছে ধূমকেতুটি। ২০২৫ সালে এটি আবিষ্কৃত হয়। এটি একটি লং-পিরিয়ড কমেট, যা সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বছর সময় নেয়, যদি না এর আগে ভেঙে যায়।

আওরাকি বলেন, ‘এ ধরনের ধূমকেতুর গতিপথ নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেয়া খুবই কঠিন। কারণ সূর্যের কাছাকাছি এলে এরা ভর হারাতে থাকে, যা তাদের পথ পরিবর্তন করতে পারে। তাই এটি হয়তো আবার অনেক বছর পরে ফিরে আসবে। পুরোপুরি সৌরজগত থেকে ছিটকে বেরিয়েও যেতে পারে।’

আরও