কর্মীদের অফিসে উপস্থিতির হার এবং অবস্থানের সময়ের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে বৈশ্বিক ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন। কোম্পানিটি সম্প্রতি একটি অভ্যন্তরীণ ড্যাশবোর্ড চালু করেছে, যার মাধ্যমে সরাসরি কর্মীদের কর্মপরিধি নজরদারি করা সম্ভব। বিজনেস ইনসাইডারের হাতে আসা অ্যামাজনের একটি গোপন নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর ইন্ডিয়া টুডে।
গত বছরের ডিসেম্বর থেকে আমাজনের বিভিন্ন টিমে এ নজরদারি টুল চালু করা হয়েছে। এটি মূলত ম্যানেজার ও মানবসম্পদ (এইচআর) কর্মকর্তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ড্যাশবোর্ডটি কর্মীদের ব্যাজ স্ক্যানের তথ্য ব্যবহার করে অফিসে প্রবেশ ও অবস্থানের সময়ের হিসাব রাখে।
নথি অনুযায়ী, ড্যাশবোর্ডটিতে কর্মীরা দিনে কতবার অফিসে ঢুকছেন, প্রতিদিন গড়ে কত ঘণ্টা ভেতরে থাকছেন এবং নির্ধারিত অফিস ভবনেই যাচ্ছেন কি না- তা সহ যাবতীয় তথ্য দেখা যায়। তথ্যগুলো প্রতিদিনই হালনাগাদ হয় এবং আগের ৮ সপ্তাহের উপস্থিতির ধারা বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়। এর আগে ম্যানেজারদের এ ধরনের তথ্যের জন্য এইচআর বিভাগের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু এখন তা সরাসরি তাদের হাতের নাগালে চলে এসেছে।
অ্যামাজনের অভ্যন্তরীণ এ সিস্টেম উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কর্মীদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করে। যেসব কর্মী অফিসে দিনে গড়ে ৪ ঘণ্টার কম সময় কাটান, তাদের ‘লো-টাইম ব্যাজার্স’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যারা টানা ৮ সপ্তাহ এক দিনও অফিসে আসেননি, তাদের নাম দেয়া হয়েছে ‘জিরো ব্যাজার্স’। এছাড়া যারা নিজের জন্য নির্ধারিত ভবন বাদ দিয়ে অন্য কোনো ভবনে প্রবেশ করেন, তাদের জন্যও আলাদা একটি শ্রেণী রাখা হয়েছে। মূলত যারা অফিসের প্রত্যাশিত নিয়মের বাইরে থাকছেন, তাদের শনাক্ত করতেই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
অ্যামাজনের একজন মুখপাত্র জানান, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা ম্যানেজারদের এ ধরনের টুল সরবরাহ করছেন। এতে যারা নিয়মিত অফিসে আসতে পারছেন না, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া যায়। তিনি জানান, মূলত টিমের মধ্যে কাজের সম্পৃক্ততা বাড়াতেই এ ড্যাশবোর্ড আপডেট করা হয়েছে।
তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে ম্যানেজারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে যান্ত্রিকভাবে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তারা পরিস্থিতির বিচার-বিবেচনা করেন। অ্যামাজন বলছে, তাদের মূল লক্ষ্য কর্মীদের ওপর নজরদারি নয়, বরং কর্মীদের সশরীরে একসঙ্গে কাজ করতে উৎসাহিত করা।
২০২৩ সাল থেকেই অ্যামাজন কর্মীদের অফিসে উপস্থিতির তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেছিল। বিশেষ করে কর্মীরা যেন শুধু নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে অল্প সময়ের জন্য অফিসে না আসেন (যাকে কর্মীরা ‘কফি ব্যাজিং’ বলেন), সে বিষয়েও কড়াকড়ি করা হয়। কিছু কিছু টিমের ক্ষেত্রে দিনে ২ থেকে ৬ ঘণ্টা অফিসে অবস্থান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে আমাজনের এ কড়াকড়ির সমালোচনাও করেন কিছু কর্মী। কেউ কেউ একে হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের মতো আচরণের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
অ্যামাজনের এ নতুন ড্যাশবোর্ডের আওতায় গুদামকর্মী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা থাকছেন না। নতুন এ নজরদারি ব্যবস্থা শুধু তাদের করপোরেট কর্মীদের ওপরই প্রযোজ্য। এদিকে ম্যানেজার বা ব্যবস্থাপকরা এখন মানবসম্পদ বিভাগে আবেদন না করেই তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য দেখতে পারছেন।
উল্লেখ্য, অ্যামাজন একাই এমন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বর্তমানে স্যামসাং, ডেল, জেপিমরগান এবং ব্যাংক অব আমেরিকার মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের কর্মীদের অফিসে ফেরাতে একই ধরনের কড়া নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে।