ভবিষ্যৎ চন্দ্রঘাঁটির পথে প্রথম ধাপ, উড়ল আর্টেমিস-২

স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস রকেটের মাথায় থাকা ওরিয়ন মহাকাশযান ক্যাপসুলে করে তিন মার্কিন ও এক কানাডিয়ান নভোচারী পৃথিবীর কক্ষপথে যাত্রা শুরু করেন। প্রায় ৩২ তলা ভবনের সমান উচ্চতার রকেটটি সূর্যাস্তের সময় আকাশে উড্ডয়ন করে

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল মনুষ্যবাহী কোনো মহাকাশযান। অবশ্য নভোচারীরা পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহটির পৃষ্ঠে নামছেন না এ যাত্রায়। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার এ উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের পথে মাইলফলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় আর্টেমিস-২ মিশনের আওতায় চার নভোচারীকে বহনকারী মহাকাশযান ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে। খবর রয়টার্স।

স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস রকেটের মাথায় থাকা ওরিয়ন মহাকাশযান ক্যাপসুলে করে তিন মার্কিন ও এক কানাডিয়ান নভোচারী পৃথিবীর কক্ষপথে যাত্রা শুরু করেন। প্রায় ৩২ তলা ভবনের সমান উচ্চতার রকেটটি সূর্যাস্তের সময় আকাশে উড্ডয়ন করে।

এ মিশনে অংশ নেয়া নভোচারীরা হলেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ ও জেরেমি হ্যানসেন। প্রায় ১০ দিনের এ অভিযানে তারা চাঁদের চারপাশ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এ যাত্রায় পৃথিবী থেকে সব সময় আড়ালে থাকা মাটির পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করবেন তারা। এছাড়া নভোচারীদের ওপর দীর্ঘ মহাশূন্য ভ্রমণের প্রভাব পরীক্ষাও এ অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।

উৎক্ষেপণের আগে নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, ‘সমগ্র মানবজাতির জন্য আমরা যাচ্ছি ।’ মহাকাশযান উৎপ্রেক্ষণ পরিচালক চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন এই মিশনকে নতুন প্রজন্মের ‘স্বপ্নের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

চন্দ্র অভিযানের নব পর্যায় আর্টেমিস প্রোগ্রাম ২০১৭ সালে শুরু হয়। এর লক্ষ্য চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযান পরিচালনা করা। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, এ মিশন ভবিষ্যতে চাঁদে একটি ঘাঁটি নির্মাণের পথ তৈরি করবে।

এ অভিযানে নভোচারীরা প্রায় ২ লাখ ৫২ মাইল বা ৪ লাখ ৬ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করবেন, যা মানব ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো–১৩ মিশনে নভোচারীরা প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার মাইল দূরত্বে পৌঁছেছিলেন।

নাসা ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নভোচারী অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সময়ে চীনও ওই অঞ্চলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

এসএলএস রকেট তৈরিতে কাজ করেছে বোয়িং ও নর্থরপ গ্রুম্যান এবং ওরিয়ন ক্যাপসুল তৈরি করেছে লকহিড মার্টিন। প্রতি উৎক্ষেপণে আনুমানিক ২-৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হওয়া এ প্রকল্পকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চাঁদে অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যান্ডার তৈরির দৌড়ে রয়েছে স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ উৎক্ষেপণকে ‘অসাধারণ’ উল্লেখ করে নভোচারীদের সাহসের প্রশংসা করেন।

সব মিলিয়ে, আর্টেমিস–২ মিশন মানবজাতির চাঁদে প্রত্যাবর্তনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও